সুনামঞ্জের শাল্লায় সরেজমিন পরিদর্শনোত্তর নাগরিক প্রতিনিধিদলের ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ
প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে আপনাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমাদের আহবানে সাড়া দিয়ে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য আপনাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা। আপনারা অবগত আছেন, গত ১৭ মার্চ, ২০২১ তারিখ একটি ফেইসবুকের পোস্টকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের সমর্থকরা সুনামগঞ্জের শাল্লায় একটি গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। ঘটনায় প্রকাশ হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বক্তব্যের প্রতিবাদে হবিপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন নামে এক যুবক ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেন গত ১৬ মার্চ। এ ঘটনাকে ধর্মীয় উস্কানির অজুহাত দিয়ে ওই এলাকার হেফাজত নেতার অনুসারীরা রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং পুলিশ ঐ রাতেই ঝুমন দাস আপনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু ১৭ মার্চ সকালে কাশিপুর, নাচনী, চন্ডিপুরসহ কয়েকটি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামের হেফাজত নেতা মামুনুল হকের কয়েক হাজার অনুসারী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামে অতর্কিতভাবে পরিকল্পিত হামলা চালায়। স্থানীয় একাধিক সুত্র আমাদের জানান এদের সাথে ক্ষমতাসীনদল সহ অন্যান্য দলের নেতা-কর্মী, সমর্থকরাও ছিল। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনায় উস্কানী দেবার জন্য স্থানীয় ইউ পি মেম্বার ও যুবলীগ নেতা সহিদুল ইসলাম স্বাধীনকে গ্রেফতার করেছে। তবে দুঃখের বিষয় পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় হেফাজত নেতাদের নাম নেই এবং এখন পর্যন্ত তাদের কাউকে গ্রেফতারও করা হয়নি। সরেজমিনে পরিদর্শনে স্থানীয় লোকজন আমাদের জনান, গ্রামের মসজিদে কিছুক্ষণ পর পর মাইকিং করে সেখানে আক্রমনের জন্য লোকজন জড়ো করা হয়। ফলে হাজারো মানুষের আক্রমণের মুখে গ্রাম ছেড়ে পলায়ন করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। এই সুযোগে হেফাজত নেতার অনুসারীরা গ্রামে প্রবেশ করে বাড়ীঘর তছনছ করে। লুটপাট চালায়। ঘটনায় প্রায় ৮০ বাড়ী এবং ৮টি মন্দির ভাংচুর হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, করোনাকালীন সময়ে সংখ্যালঘুদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে এটা তারই আর একটি লজ্জাজনক উদাহরণ।

গত ২৬-২৭ মার্চ, ২০২১ নাগরিক প্রতিনিধি দল সুনামগঞ্জের শাল্লায় সরেজমিনে পরিদর্শনে যান। নাগরিক প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন ও জাসদের কেন্দ্রীয় নেত্রী তনিমা সিদ্দিকী, প্রবীণ কৃষকনেতা অমর চাঁদ দাস, উন্নয়ন সংস্থা এএলআরডি সহকারী প্রকল্প সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ সিরাজী, আইইডির সহসমন্বয়কারী হরেন্দ্র নাথ সিং, আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপায়ন খীসা, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পারভেজ হাসেমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা ছিলেন। প্রতিনিধিদল ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রকৃত ঘটনা শোনেন এবং খোলামেলা কথা বলেন।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

প্রতিনিধিদল সুধারানী দাশের (৪০) বাসায় গিয়ে দেখতে পান তার টিনের ঘরে অসংখ্য দা দিয়ে কোঁপানের চিহ্ন। তিনি বলেন, যখন দেখলাম ওরা সাঁতার কেটে আক্রমনের জন্য আসছে আমরা বাড়ী ঘর ছেড়ে পালালাম। চুলায় সবেমাত্র ভাত বসিয়েছিলাম ঐ অবস্থায় রেখে চলে গেছি। এসে দেখি কিছু নাই। ঘরের সবকিছু তছনছ করা। ঘরের আলমারি ভাঙ্গা। ভিতরে কিছু নাই। আমার কিছু সোনা ছিল তাও নাই। কয়েকদিন আগে একটা টিভি কিনেছিলাম। অসংখ্য খন্ডে ভাঙ্গা টিভিটি দেখিয়ে তিনি বলেন যে, দেখেন তারা কিভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, ঘটনার পর আমাদের দশ কেজি করে চাল দিয়েছে। কিছু টাকা দিছে। আমাদের এভাবে খাওয়ানোর দরকার নেই। আমাদের নিরাপত্তা দেন, আমরা আমাদের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারব।

প্রতিনিধি দলের কাছে ঝুমন দাশ আপনের মা নিভারানী দাশ জানান, তার ৪ মেয়ে ও ২ ছেলের মধ্যে ঝুমন ছোট ছেলে। আমি শুনেছি সে নাকি ফেসবুকে কি লিখেছে। তার জন্য তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। যদি পুলিশই ধরে নিয়ে যায়, তাহলে আমাদের উপর আক্রমন হলো কেন? এখন খালি মনে হয় আমরা এদেশ ছেড়ে চলে যাব নাকি? আমাদের কি দোষ? সে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে বলে আমরা তাকে পুলিশের জিম্মায় দিয়ে ছিলাম তবে কেন তারা আক্রমন করল।
শ্রাবনী রানী দাশ (১৫) বলেন ঘটনার দিন আমরা নদীর ওপারে কয়েক হাজার মানুষ লাঠি সোটা হাতে আক্রমন করতে আসতে দেখি। ভয়ে আমি বাবা-মা’র সাথে পাশে হাওরে পালিয়ে যাই। এসে দেখি বাসার সব জিনিষ পত্র তারা ভেঙ্গে চুরে রেখে গেছে। আমার বই খাতাগুলো কুচি কুচি করে ছিড়ে ফেলে তাতে আগুন দিছে। কিছুই নাই। সামনে আমরা এসএসসি পরীক্ষা আমি কিভাবে পরীক্ষা দেব?

দুমরানো-মোচরানো টিনের ঘরের সামনে দাড়িয়ে রঞ্জনা চৌধুরী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, হামলার পর ঘরে কিছুই নেই। বাড়ীর হাড়ি-পাতিলগুলোও তারা নিয়ে গেছে। তিনিও বলেন, আমাদের রিলিফ চাই না, আমাদেরকে নিরাপত্তা দেন। তিনি প্রশ্ন করেন, প্রশাসন কয় দিন নিরাপত্তা দিবে? খবরওয়ালা কয়দিন খবর করবে? চাল ডাল দিয়ে কয়দিন বুঝ দিয়ে রাখবে? মনে ভয় ধরেছে, সেটাতো যাচ্ছে না। ছোট বাচ্চা জোড়ে কাঁদলেও আতঙ্ক লাগে। মনের ক্ষত কতদিন বয়ে বেড়াতে হবে জানিনা।
১০৩ বছর বয়েসী মাহামায়া দাশ বলেন, এই বয়েসে পালায়ে কোথায় যাব? আমি ঘরে ছিলাম। আমার সামনে আমার সবকিছু ভাঙ্গলো। আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল। সে তারা কেটে যাওয়া হাত পা দেখিয়ে বলে আমি হিন্দু, আমরা হিন্দু এটাই কি আমাদের অপরাধ?

মুক্তিযোদ্ধা অনিল চন্দ্র দাসের বাসায় উন্মাদনা প্রকাশের আক্রোশটি আরো ভয়াবহ। তার মুক্তিযোদ্ধার ক্রেস্টটি কুপিয়ে কুপিয়ে ভাঙ্গা হয়েছে। বাড়ীর একটি জিনিষও অক্ষত নেই। বাড়ীর পিছনে কয়েকটি পেঁপেঁ গাছে অনেক পেঁপে ছিল, সেগুলোসহ গাছগুলো মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমার কাছে ৭১ এর মতোই মনে হচ্ছে। স্বাধিন দেশে যে একজন মুক্তিযোদ্ধা এরকম অসম্মানের স্বীকার হতে পারে তা আমি কল্পনা করতে পারিনা। তিনি প্রশ্ন করেন মুক্তিযোদ্ধা হতে নির্দিষ্ট কোন ধর্ম লাগে তা জানা ছিল না। তিনি আরো বলেন দিন ১৫ পরে আমাদের বোরো ধান উঠবে। এই ধান দিয়ে আমাদের সারা বছরের খাদ্য, বেঁচে থাকা, সন্তানদের লেখাপড়া, উৎসব সবকিছু চলে। কিন্তু এখনও জানিনা এই ধান আমরা কাঁটতে পারব কিনা? প্রায় প্রতিবছরই ঐ তিন গ্রামের লোকজন আমাদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ ক্ষেত গরু দিয়ে খাইয়ে দেয়। অনেকবার প্রশাসনকে জানিয়েছি তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এবার যে কি হবে তা শুধু ভগবানই জানেন।

নোয়াগাঁও স্কুল ঘরে তৈরী অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এ এস আই শিমুল কুমার মন্ডল জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশ দিন-রাত সবসময় এখানে টহল দিচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি এদের মধ্যে আস্থা তৈরী করার জন্য। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেক ঘরে গিয়ে এদের সাথে কথা বলছি, যেন তারা আতঙ্ক থেকে বের হয়ে আসতে পারে। আমি প্রত্যেক ঘরে গিয়ে তাদের ক্ষয়ক্ষতির একটি হিসাব তৈরী করার চেষ্টা করছি এবং তার হিসাব আমি উপরের মহলে পাঠাব যেন তারা ক্ষতিপূরণ পেতে পারে।
ঘটনা পর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি এবং ঐ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। ঝুমনের মা একটি মামলা করতে চাইলেও থানা থেকে তার মামলা নেয়া হয়নি। এখানে ৪০/৫০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩০০০ জনের নামে মামলা হয়েছে। ফলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অনেকে এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেফতার বানিজ্যের আশংকা প্রকাশ করেছেন।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

দশদিন পরেও হামলার শিকার গ্রামগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, আক্রান্ত পরিবারগুলোর ক্ষোভ, আতঙ্ক আর কান্না। প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিনিধিদের আশ^াসেও চাপা পড়েনি সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি। শত বছরের বিশ^াস আর আস্থায় গভীর চিড় ধরেছে। আসলেই এর শেষ কোথায়? সুনামগঞ্জে দিরাইয়ের বাউল স¤্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের সেই বিখ্যাত –

“গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান/
সবাই মিলিয়া আমরা বাউলা গান গাইতাম/
হায়রে সবাই মিলিয়া আমরা সারি গান গান গাইতাম/
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম”

এই গান বোধ হয় আর সুনামগঞ্জের মানুষ আর গাইবে না। ধর্মীয় উম্মাদনা ছড়িয়ে এক শ্রেণীর মানুষ আপামর মানুষের অন্তরের এই গানকে আজ মিথ্যা প্রমানিত করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। অথচ প্রশাসন চাইলেই বোধ হয় এ ঘটনা রদ করা যেত। কারণ ঘটনার আগের দিন স্থানীয়ভাবে তারা মিটিং মিছিল করেছে। পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন তা জানত। তবে কেন সেখানে কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলো না? কারণ এ ধরণের ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়।

সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটি পরিচিত কৌশল হচ্ছে ফেসবুকে মিথ্যা স্ট্যাটাস দিয়ে ধর্মীয় অবমাননা করা হয়েছে এই অজুহাতে সংখ্যালঘুদের বাড়ী ঘরে হামলা করা, আগুন লাগানো ইত্যাদি। পাবনার সাঁথিয়া (২০১৩ সাল) , কক্সবাজারের রামু (২০১২ সাল), ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার নাসিরনগর (২০১৬ সাল) সব ক্ষেত্রে ্একই ধরণের গল্প তৈরীর প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। রংপুরের গংগাচড়া ও সদর ইউনিয়নে একই ঘটনা ঘটে। করোনাকালীন লক-ডাউনের মধ্যেও ভোলার মনপুরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে প্রায় ১০ টি হিন্দু বাড়ী-ঘর ভাংচুর করা হয় এবং কথিত হিন্দু যুবকে গ্রেফতার করা হয়। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যার নামে ফেসবুকে কথিত স্ট্যাটাস দেয়ার কথা বলা হয় পুলিশ তাকেই গ্রেফতার করে এবং এখন বেশিরভাগ ঘটনার তদন্ত শেষ হয়না এবং প্রকৃত অপরাধীরা কখনোই আইনের আওতায় আসেনা। এ ধরনের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগ, তারা নিরাপরাধী হয়েও লম্বা সময় জেল খেটেছে কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। নাসিরনগরের রসরাজ এবং রামু’র উত্তম বড়–য়ার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এবং রংপুরের টিটু রায়ের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সর্বশেষ সুনামগঞ্জের শাল্লার ঘটনা তার একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ। এই ফেসবুকে সাজানো ঘটনার পিছনে একটা অসৎ উদ্দেশ্য থাকে ধর্মীয় বিদ্বেষকে উস্কে দেয়া। এর পেছনে উগ্র সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর রাজনৈতিক মদদ যুক্ত থাকে তাতে কোন সন্দেহ নেই। সুনামগঞ্জের শাল্লায় সংঘটিত সংখ্যালঘু নির্যাতন, তাদের হয়রানি এবং মানবাধিকার লংঘনের ঘটনাসহ পূর্বে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে সকল ঘটনা ঘটেছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

এখানে আর একটি বিষয়ে নিয়ে আমাদের মাঝে প্রশ্ন জাগে, শুধু বিশেষ একটি ধর্মাবলম্বীদের কি ধর্মীয় অনুভুতি আছে? অন্য ধর্মাবলম্বীদের কি তা নেই। সারাদেশে বিভিন্ন ঘটনায় মন্দিরে হামলা হচ্ছে, পেগোডায় হামলা হচ্ছে, অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে প্রতিমা ভাংচুর করা হচ্ছে সেক্ষেত্রে কয়জন নির্দেশদাতা বা উস্কানীদাতার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা হয়েছে? কয়জনকে গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করা হচ্ছে? আমাদের জানা মতে একটি ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেকে কোন ধরণের আইনী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

উক্ত পরিদর্শনের ভিত্তিতে আমাদের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ হলো-
1. নোয়াগাঁও গ্রামের লোকজনের বিশ্বাস ও আস্থায় চিড় ধরেছে। তাদের সেই বিশ্বাস ও মনোবল ফিরিয়ে দিতে হবে। সেই লক্ষ্যে প্রশাসনের উচিত- হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়কে ডেকে একটি সংলাপের ব্যবস্থা করা। পারস্পরিক আস্থা-সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
2. কৃষিনির্ভর গ্রামের লোকজনের জীবন ও জীবিকা নিশ্চিত করা। কৃষকরা যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বোরো ধান গোলায় তুলতে পারে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে সেই নিরাপত্তা দিতে হবে।
3. ঝুমন দাশ আপনের মা নিভারানী দাশের মায়ের মামলাটি এজাহার আকারে গ্রহণ করে, সে মোতাবেক আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেই সাথে ফেইসবুকসহ নানা মাধ্যম পরীক্ষা করে ঘটনার সাথে জড়িত ও উস্কানীদাতাদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
4. যে সকল শিক্ষার্থীদের বই খাতা ধ্বংস হয়েছে তাদের শিক্ষার সামগ্রী সংগ্রহের জন্য নগদ আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। শিশুদের খাবার সংগ্রহের জন্যও আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। এস.এস.সি পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘেœ পরীক্ষা দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
5. নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে সকল নারী ও শিশুরা এখনও ট্রমার মধ্যে আছে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।
6. আক্রান্তদের যথাযথ ক্ষতি নিরূপন করে সেই মোতাবেক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যে সকল বাড়ীঘর আক্রান্ত হয়েছে তা পুন:নির্মান করে দিতে হবে।
7. শাল্লা থানার দূরত্ব এ এলাকা হতে বেশ দূরে ও দূর্গম হওয়ায় এখানে একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে। সেই সাথে মামলায় যাতে নিরীহ মানুষ হয়রানীর শিকার না হয়, ‘নানা ধরণের বানিজ্য’ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
8. হিন্দু পল্লী আক্রমন ও লুটপাটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। সেই সাথে মাঠ প্রশাসনের যে সকল কর্মকর্তা এ ঘটনা রুখতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
একই সাথে আমরা উক্ত দাবিসমুহ বাস্তবায়নে সকল অসাম্প্রদায়িক, দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক শক্তির দৃঢ় ও সক্রিয় উদ্যোগ ও সহযোগিতা কামনা করছি। দেশের সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বন্ধুরা সব সময়ই আমাদের ন্যায়সঙ্গত দাবি ও সংগ্রামের পাশে থেকেছেন তার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতেও আপনাদের এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহবান জানাচ্ছি।

আপনাদের উপস্থিতি ও সহযোগিতার জন্য আবারো ধন্যবাদ জানাই।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *