প্রশাসন চাইলেই সুনামগঞ্জের ঘটনা রদ করা যেত: ৮ দফা সুপারিশ সরেজমিন পরিদর্শনকারী নাগরিক প্রতিনিধি দলের

ফেসবুকে মিথ্যা স্ট্যাটাস দিয়ে ধর্মীয় অবমাননা করা হয়েছে অজুহাতে সংখ্যালঘুদের বাড়ী ঘরে হামলা করা, আগুন লাগানো সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটি পরিচিত কৌশল বলে দাবী করেছেন নাগরিক প্রতিনিধ দল। আজ (৭ এপ্রিল, ২০২১) বুধবার, এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই দাবী করা হয়। উক্ত নাগরিক প্রতিনিধি দলের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. রোবায়েত ফেরদৌস প্রতিনিধি দলের পক্ষে মূল বক্তব্য উপস্থাপনের সময় এই দাবী করেন। আইপিনিউজ এর ফেসবুক পেইজে এই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনটি সম্প্রচার করা হয়। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ঘটনার আগে গ্রামের মসজিদে কিছুক্ষণ পর পর মাইকিং করে সেখানে আক্রমনের জন্য লোকজন জড়ো করা হয়। ফলে হাজারো মানুষের আক্রমণের মুখে গ্রাম ছেড়ে পলায়ন করেন হিন্দু স¤প্রদায়ের লোকজন। এই সুযোগে হেফাজত নেতার অনুসারীরা গ্রামে প্রবেশ করে বাড়ীঘর তছনছ করে। লুটপাট চালায় এবং এ ঘটনায় প্রায় ৮০ বাড়ী এবং ৮টি মন্দির ভাংচুর হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ঢাবি’র এই অধ্যাপক। শাল্লায় সংঘটিত সংখ্যালঘু নির্যাতন, তাদের হয়রানি এবং মানবাধিকার লংঘনের ঘটনাসহ পূর্বে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে সকল ঘটনা ঘটেছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অপরাধীদের দ্রæত গ্রেফতারসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবিও জানান নাগরিক প্রতিনিধি দলের এই সদস্য।

এদিকে ধর্মীয় উম্মাদনা ছড়িয়ে এক শ্রেণীর মানুষ আপামর মানুষের অন্তরে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে দাবী করে তিনি আরো বলেন, প্রশাসন চাইলেই বোধ হয় এ ঘটনা রদ করা যেত। কারণ ঘটনার আগের দিন স্থানীয়ভাবে তারা মিটিং মিছিল করেছে। পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন তা জানত। তবে সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য ক্ষোভও জানান এই শিক্ষক।

গত ২৬-২৭ মার্চ, ২০২১ নাগরিক প্রতিনিধি দল সুনামগঞ্জের শাল্লায় সরেজমিনে পরিদর্শনে যান। উক্ত নাগরিক প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রোবায়েত ফেরদৌস, নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন ও জাসদের কেন্দ্রীয় নেত্রী তনিমা সিদ্দিকী, প্রবীণ কৃষকনেতা অমর চাঁদ দাস, উন্নয়ন সংস্থা এএলআরডি সহকারী প্রকল্প সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ সিরাজী, আইইডির সহসমন্বয়কারী হরেন্দ্র নাথ সিং, আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপায়ন খীসা, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পারভেজ হাসেমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা। ঘটনা সংঘটনের দশদিন পর উক্ত সরেজমিন পরিদর্শনে প্রত্যক্ষ ঘটনা তুলে ধরতেই প্রতিনিধিদল এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

এএলআরডি সহকারী প্রকল্প সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ সিরাজীর সঞ্চালনায় উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আলোচনায় অংশ নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টিও কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, এ ধরণের একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ার এতদিন পর গিয়ে আমি যা দেখলাম, যদি কোনো রাষ্ট্রে কোনো সরকার থাকে এবং নাগরিকদের ন্যুনতম স্বীকৃতি থাকে তবে এতদিনে অনেক কিচু ঘুচে যাওয়ার কথা, সেটা হয়নি। আমরা কিন্তু পরিস্থিতির ভয়াবহতা এটা দিয়েই উপলব্ধি করতে পারি। এই ঘটনাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর সাম্প্রদায়িক আক্রমণের ঘটনা দেখলে মনে হয়, আমাদের সমাজে একটা সাম্প্রদায়িকীকরণের ধারা গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। এ ধরণের ঘটনাগুলো ঘটার পরে প্রশাসন যে ধরণের ব্যবস্থা নিতে পারতো তা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন কমিউনিস্ট পার্টির এই নেতা।

রাজনৈতিক দলের মদদ ছাড়া এই সাম্প্রদায়িক শক্তির বেড়ে ওঠা সম্ভব নয় দাবী করে তিনি আরো বলেন, সকল রাজনৈতিক দল ও সরকারকে এই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মদদ দেওয়া বন্ধ করতে হবে । মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক প্রশাসন গড়ে তোলার জন্য সরকারকে আহ্বানও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে আইইডির সহসমন্বয়কারী হরেন্দ্র নাথ সিং বলেন, পরিদর্শনের সময় দেখলাম তবলা, ঢোল সহ অনেক সাংস্কৃতিক বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। বাংলাদেশের যে স্বতন্ত্র অসাম্প্রদায়িক রূপ সেটার উপর সাম্প্রদায়িক শক্তির যে তান্ডব এই হামলা না দেখলে বুঝা যাবেনা।অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রাখার জন্য সাম্প্রদায়িক এই শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকারও আহ্বানও জানান তিনি।

বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় নেত্রী তনিমা সিদ্দিক বলেন, এ ঘটনা দেখে মনে হয় আমরা সংবিধান ভুলে যাচ্ছি। আমরা যে ধমান্ধ ব্যক্তিদের কবলে পড়ে যাচ্ছি তার জন্য সরকার,প্রশাসনের নিশ্চয় দায় রয়েছে। আমাদের দেশের সংখ্যালঘুরাও এ দেশের নাগরিক। সংবিধানে রাষ্ট্র কাউকে বৈষম্য করবে না বলে যে অঙ্গিকার করেছে তা আমরা রক্ষা করতে পারছি না। ৩০ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ নির্যাতিত মা-বোনদের মধ্যে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-মুসলিম রয়েছে। সকল ধর্মের মানুষের সম্মিলিত রক্তের উপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পারভেজ হাসেম । তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই ধরণের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে আমরা দেখি তদন্তের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা দেখানো হয়। কিন্তু আমরা জানি এই ঘটনায় জড়িত সবাই চিহ্নিত। বরং আমরা দেখেছি এ ঘটনায় ‘ভিক্টিম ব্লেমিং’ করা হয়েছে। যেমন ঝুমন দাসকে গ্রেফতারের মাধ্যমে ফলে এই হামলাকে জাস্টিফাইড করা হয়েছে বলেও দাবী করেন তিনি। এছাড়া লুট হওয়া মালামালও কোনো হদিস নেই বলে অভিযোগ করেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের এই নেতা।

এএলআরডি’র উপ-নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করছি। কিন্তু এমনি সময় যদি কেউ মনে করেন এই দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হবে তাহলে এই স্বাধীনতার কোনো অর্থ হয়না। এই হামলার উস্কানিদাতা ও হামলাকারীরা চিহ্নিত বলেও মনে করেন তিনি। কেবল হিন্দু সম্প্রদায় আক্রান্ত হয়েছে মনে করলে হবে না, এখানে অসাম্প্রদায়িক চেতনাও আক্রান্ত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলনে আলোচনায় অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী । তিনি বলেন, গত একযুগ ধরে এই ধরণের যতগুলো ঘটনা ঘটেছে তার কোনোটিরই বিচার হয়নি। বিশেষ করে ২০০১- ২০১৬ সাল পর্যন্ত এ ধরণের অসংখ্য ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। তাদের কোনোটির বিচার হয়নি। একটা বিচারহীনতার সংস্কৃতি এদেশে চেপে বসেছে। এই সরকারের কাছ থেকে সুবিচার পাওয়া দুরহ বলে মনে করেন এই রাজনীতিবিদ। তাছাড়া সরকারের জিরো টলারেন্স এখন শতভাগ টলারেন্স হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

প্রবীণ সাংবাদিক সেলিম সামাদ বলেন, আমরা এধরণের অনেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সব ঘটনারই প্যাটার্নটা (ধরণ) একই। আমি যখন ১৯৮০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে কাউখালীতে পাহাড়ীদের উপর সেনাবাহিনী কর্তৃক গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। সেই ঘটনার ধরণও একই। অন্যদিকে রামুর ঘটনায়ও আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামাত সহ অনেকেই একই মঞ্চে ছিল কিন্তু কারোরই বিচার হয়নি।

এই রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে অসাম্প্রদায়িক চেতনার উপর দাঁড়িয়ে দাবী করে তিনি আরো বলেন, জেনারেল জিয়া, এরশাদ ও খালেদা’কে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর জন্য দোষ দিয়ে যারা (রুলিং পার্টি) এখন ক্ষতায় আছে তারাও এসব ঘটনার বিচার করছে না।এই ঘটনাগুলোতে পুলিশ এখন অসহায় বলেও মনে করেন এই সাংবাদিক। এইসব সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলোর তদন্ত রিপোর্ট উন্তুক্ত করার জন্য সরকারকে চাপ সৃষ্টির জন্য সব পক্ষকে আহ্বানও জানান তিনি।

সমাপনি বক্তব্যে নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, এক ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর তার যখন বিচার হয়না তখন আরেকটি ঘটনা সংঘটনে এটি মদদ যোগায়। কাজেই প্রত্যেকটি ঘটনার বিচার করতে হবে।বর্তমান সরকার তার মেনিফেস্তোতে বলেছিলেন ’সংখ্যালঘু কমিশন’ করবে। কিন্তু সেটা করে নাই । যার জন্য এই ঘটনা বারবার ঘটে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
সরকারের সংখ্যালুগু ‘প্রটেকশন মেকানিজম’ নেই দাবী করে তিনি আরো বলেন, আমরা মনস্তাতিকভাবেই একধরণের ভাগ করার প্রবণতা গজিয়ে রেখেছি। আমরা কেবল বলি মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ হয়েছে। কিন্তু সেই ৩০ লক্ষের মধ্যে কে কে আছে সেটা আমরা বলিনা যার জন্য এটা খুব হালকা হয়ে যায় বলেও মনে করেন তিনি। এ ঘটনাগুলোর একটি ‘গণশুনানি’ আয়োজনের জন্য সবাইকে উদ্যোগী হওয়ারও আহŸান জানান নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক। এছাড়া মসজিদের মাইক কেবল আযান দেয়া এবং অন্যান্য ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হবে এবং কোনো ধরণের সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটানোর জন্য লোক জড়ো করা হবে না বলে নির্দেশনা প্রদানের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়কে আহ্বানও জানান তিনি।

উক্ত সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রতিনিধিদল আট দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। সুপারিশগুলো হলো-
১. নোয়াগাঁও গ্রামের লোকজনের বিশ্বাস ও আস্থায় চিড় ধরেছে। তাদের সেই বিশ্বাস ও মনোবল ফিরিয়ে দিতে হবে। সেই লক্ষ্যে প্রশাসনের উচিত- হিন্দু-মুসলিম উভয় স¤প্রদায়কে ডেকে একটি সংলাপের ব্যবস্থা করা। পারস্পরিক আস্থা-সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
২. কৃষিনির্ভর গ্রামের লোকজনের জীবন ও জীবিকা নিশ্চিত করা। কৃষকরা যাতে শান্তিপ‚র্ণ পরিবেশে বোরো ধান গোলায় তুলতে পারে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে সেই নিরাপত্তা দিতে হবে।
৩. ঝুমন দাশ আপনের মা নিভারানী দাশের মায়ের মামলাটি এজাহার আকারে গ্রহণ করে, সে মোতাবেক আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেই সাথে ফেইসবুকসহ নানা মাধ্যম পরীক্ষা করে ঘটনার সাথে জড়িত ও উস্কানীদাতাদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
৪. যে সকল শিক্ষার্থীদের বই খাতা ধ্বংস হয়েছে তাদের শিক্ষার সামগ্রী সংগ্রহের জন্য নগদ আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। শিশুদের খাবার সংগ্রহের জন্যও আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। এস.এস.সি পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘেœ পরীক্ষা দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে সকল নারী ও শিশুরা এখনও ট্রমার মধ্যে আছে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. আক্রান্তদের যথাযথ ক্ষতি নিরূপন করে সেই মোতাবেক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যে সকল বাড়ীঘর আক্রান্ত হয়েছে তা পুন:নির্মান করে দিতে হবে।
৭. শাল্লা থানার দূরত্ব এ এলাকা হতে বেশ দূরে ও দূর্গম হওয়ায় এখানে একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে। সেই সাথে মামলায় যাতে নিরীহ মানুষ হয়রানীর শিকার না হয়, ‘নানা ধরণের বানিজ্য’ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৮. হিন্দু পল্লী আক্রমন ও লুটপাটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। সেই সাথে মাঠ প্রশাসনের যে সকল কর্মকর্তা এ ঘটনা রুখতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন এই লিংকে: https://www.facebook.com/ipnewsbd/videos/1689368341270244

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *