করোনাকালে যৌন ও লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতায় নারীর সুরক্ষা ও প্রতিকার প্রদানে প্রয়োজন সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ: অনলাইন আলোচনা সভায় বক্তারা

করোনাকালে যৌন ও লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতায় নারীর সুরক্ষা ও প্রতিকার প্রদানে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারী ও বেসরকারী সংস্থাসমূহের সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। গত ৩১ মার্চ ২০২১ তারিখে ‘যৌন ও লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতায় নারীর সুরক্ষা ও প্রতিকার: সরকারী ও বেসরকারী সংস্থার সমন্বয়’ সংক্রান্ত একটি অনলাইন আলোচনায় অংশগ্রহণকারীগণ করোনাকালীন সময়ে নারীর সুরক্ষা ও প্রতিকার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সেবা প্রদানে যে সব সরকারী ও বেসরকারী মন্ত্রণালয় ও সংস্থা কাজ করছেন তাদের সমন্বয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। উক্ত আলোচনায় পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে নাগরিক জোট (সিআইডিভি কোয়ালিশন) এর সদস্যবৃন্দ সহ আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।

সভায় অতিথির বক্তব্যে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (এনএলএএসও) এর পরিচালক এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, করোনাকালীন সময়ে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা ১৬৪৩০ হটলাইনের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তবে যৌন ও লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতায় প্রতিকার পেতে গেলে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পুলিশ বিভাগ সহ সংশ্লিষ্ট সকল সরকারী ও বেসরকারী সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যৌন সহিংসতায় কোন ভাবেই সালিশের মতো পন্থা অবলম্বন করা যাবে না, এটা বেআইনী। যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ায় অবলম্বন করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুনন্দা রায়, এআইজি ক্রাইম, পুলিশ সদর দপ্তর বলেন, করোনাকালীন সময়ে পুলিশ ২৪ ঘন্টা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ৫টি থানায় অনলাইন জিডি দায়ের করার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন দেশের ৬৫৭টি থানায় অলাইনে অভিযোগ দায়ের করা যায় সে লক্ষ্যে পুলিশের ক্রাইম বিভাগ কাজ করছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তর এর অতিরিক্ত পরিচালক-২ (বিধবা ও স্বামী নিগৃহিতা মহিলা শাখা) এস এম মাহমুদুল্লাহ এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এর সমাজ কল্যাণ অফিসার মোমেনা রহমান। উক্ত সভায় সভাপতি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ব্লাস্টের মুখ্য আইন উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জনাব মোঃ নিজামুল হক।

আলোচনায় বক্তারা আরো বলেন, করোনাকালীন সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতার হার আশংকাজনকভাবে বেড়ে গিয়েছিল, তবে তা যথাযথভাবে মোকাবেলা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে। পারিপার্শ্বিক নানা জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে আইনী বিধান থাকা সত্বেও নারী ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় মানুষেরা সুরক্ষা ও প্রতিকার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ও বৈষম্যের শিকার হন। সরকারী পর্যায় থেকে বিভিন্ন হেল্পলাইন নম্বর, অনলাইন জিডি, নারীবান্ধব থানা চালু করার মতো ইতিবাচক প্রয়াসগুলো সম্পর্কে জনগণকে যথাযথ সচেতনতা সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে সহিংসতার শিকার নারীদের ফলপ্রসূভাবে সুরক্ষা ও প্রতিকার প্রদান করা সম্ভব। সরকারী ও বেসরকারী সংস্থাগুলো সম্মিলিতভাবে, সুসমন্বয়ের মাধ্যমে এই কঠিন পরিস্থিতি উত্তরণের দিকে ক্রমেই এগিয়ে যেতে পারবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন ।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস এন্ড জাস্টিস এর লিগ্যাল এমপাওয়ারমেন্ট এন্ড সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান ড. ফস্টিনা পেরেইরা এর সঞ্চালনায় উক্ত অনলাইন সভায় বিআইজিডির গবেষণা সমন্বয়কারী ড. মারুফা আক্তার করোনাকালীন সময়ে সহিংসতার শিকার নারীর সেবা প্রাপ্তি নিয়ে একটি চলমান গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল তুলে ধরেন এবং ব্লাস্টের স্টাফ ল’ইয়ার সিফাত ই নূর খানম তার উপস্থাপনায় ব্লাস্টের পক্ষ থেকে প্রত্যেক থানায় নারী ও শিশু ডেস্ক কার্যকর করা, নারী পুলিশ অফিসার নিয়োগ, সরকারী ও বেসরকারী সংস্থার সঙ্গে আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।

অনলাইনে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ব্লাস্টের সহকারী পরিচালক তাপসী রাবেয়া।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *