সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবেঃ চট্টগ্রামে ওয়ার্কার্স পার্টির সমাবেশে বক্তারা

ধর্ম নিরপেক্ষতার প্রশ্নে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ক্ষমতায় থাকার জন্য যে সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে আপোষ করা হচ্ছে তারাই একদিন মরণ কামড় দিবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে চট্টগ্রামের এক সমাবেশ থেকে। সুনামগঞ্জের শাল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলার তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংগঠনটির চট্টগ্রাম জেলা কমিটির আয়োজনে নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে আজ বুধবার এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ওয়ার্কার্স পার্টি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌহান বলেন, আজ আমরা স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী পালন করছি। এই ৫০ বছরে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিকে নানাভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাদেশকে আজ স্বাধীনতার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে চায়। ধর্মীয় সংখ্যালঘু এমনকি পাহাড়িরাও আজ হামলা-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শাল্লায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির আশ্বাসের পরও মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা হলো। কাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এ হামলা হলো? ৭১ এর তাদের পরাজিত করেছি আমরা। সেই সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে আজো আমাদের লড়াই করতে হচ্ছে। তারা বারবার ফনা তুলে।

সুনামগঞ্জের ঘটনার বিষয়ে শরীফ চৌহান বলেন, যার বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস সে ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য ফেলে দিতে চেয়েছিল। সে ব্যক্তি নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই মামুনুল হক গংরা বাংলাদেশের বিরোধীতা করে কোন শক্তির বলে? দুধকলা দিয়ে যে সাপ পুষছেন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা একদিন এমন দংশন করবে সে বিষ আর ছাড়াতে পারবেন না। বাংলাদেশের যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা তা অটুট রেখে দেশ গড়তে হবে। বাঁশের লাঠি তৈরি কর হেফাজত জামায়াত খতম করতে হবে। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব শক্তিকে অন্তত একটি প্রশ্নে- অসম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে, একজোট হতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন। আজ যারা ক্ষতিগ্রস্থ শুধু তারা নয় ভবিষ্যতে সবাই ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। জাতীয় চার মূলনীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করতে হবে। সংবিধান থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতা উপড়ে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। এ ভূখন্ডের বৈচিত্রকে নষ্ট করার ষড়যন্ত্রকে নসাৎ করতে হবে।

শরীফ চৌহান বলেন, জাতির জনকের নেতৃত্বে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। আজ বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন হচ্ছে। এর চেয়ে বড় অর্জন আর কী হতে পারে। তাহলে কেন তাদের সাথে আপোষ। তাদের সাথে আপোষ করে পাঠ্যক্রম পরিবর্তন হয়েছে। কেন? তারা তো মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি। কখনো খেটে খাওয়া মানুষের দাবি নিয়ে কথা বলেনি। তাহলে কেন তাদের কথা শুনতে হবে? জামায়াতে ইসলামের নতুন সংস্করণ হেফাজতের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দাবি তুলতে হবে সকল ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। মৌলবাদরে বিরুদ্ধে একযোগে লড়তে হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টি জেলা কমিটির সদস্য সুপায়ন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মোক্তার আহমেদ বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিষ দাঁত ভেঙে দিতে হবে। আমরা যে জাতীয় চেতনার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আজকে কেন দেশে সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হবে। কেন পাটকল শ্রমিক, চিনি কল শ্রমিক চাকরি হারা হবে। কেন পাহাড়িরা অধিকার বঞ্চিত হবে। এসবের জন্য তো বাংলাদেশ হয়নি।

যুব মৈত্রী সহ সভাপতি মো মহসীন বলেন, শাল্লায় হামলার পরেও দুর্বৃত্তরা ক্ষান্ত হয়নি। তাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে এখনো। যখন মসজিদের মাইকে ঘোষণা হয় হামলার জন্য তখন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ কেন বাধা দিল না।

সংহতি বক্তব্যে পাহাড়ি শ্রমিক কল্যাণ ফোরামে সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এলিন চাকমা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে কেন বারবার এরকম হামলার প্রতিবাদে আমাদের পথে দাঁড়াতে হয়। কেন একজন সংখ্যালঘুর উপর হামলা হবে। একটা সামান্য ফেসবুকের পোস্টের কারণে একজনকে গ্রেপ্তার হতে হলো। তাহলে কেন সবাই মিলে এর প্রতিবাদ হবে না। সব ধর্মের সব জাতিগোষ্ঠীর বিবেকবান মানুষদের প্রত্যেকের অধিকারের জন্য রাজপথে থাকতে হবে।
ছাত্র মৈত্রী চট্টগ্রাম জেলার আহ্বায়ক মো আলাউদ্দিন বলেন, সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বিষবাস্প ছড়ানো হচ্ছে। ২০১৩ পরবর্তী সময়ে হেফাজতে ইসলামের নেতারা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহ্যে যে সম্প্রীতির সংস্কৃতি তাকে ভূলুণ্ঠিত করছে। রামু থেকে আজ ২০২১ সাল যখন স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছে বাংলাদেশ তখন সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে বিশ্বাস করি তাদের একজোট হতে হবে। তারা বাংলা হবে আফগান এরকম স্লোগান কি করে দেয়! বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাকে, সাংবিধানিক ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করছে সাম্প্রদায়িক কীটরা। তাদের দমন করতে না পারলে বাংলাদেশ একদিন আফগানিম্তান হয়ে যাবে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির সদস্য শামসুল আলম, অধ্যাপক শান্তপদ বড়ুয়া মনুসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *