স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে সন্তু লারমা’র বৈঠক: পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জোড়ালো অঙ্গীকার

বিশেষ প্রতিবেদন: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা’র (সন্তু লারমা) একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ (২৮ ফেব্রুয়ারী) ঢাকায় অনুষ্ঠিত উক্ত বৈঠকে পার্বত্য চুক্তিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে অর্থবহ আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা যায়।

বৈঠক সূত্র আইপিনিউজকে জানায় যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান সংঘাত নিরসন সহ পার্বত্য চুক্তির আলোকে অবাস্তবায়িত সকল বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সেই নির্দেশনার আলোকেই চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা’র সাথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর এই বৈঠক।

এদিকে বৈঠক সূত্র আরো নিশ্চিত করেছে যে, চুক্তির মৌলিক বিষয় সমূহ অবাস্তবায়নের ফলে আজ পাহাড়ে কাঙ্খিত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি বলে সেই চুক্তির আলোকে শান্তি ও স্তিতিশীলতা আনায়নের জন্য দু’টি পক্ষই পারষ্পরিক সহায়তার মাধ্যমে দ্রুত এগুলো বাস্তবায়ন করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহন করা হবে।

এদিকে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এক প্রেস ব্রিফিং এ বলেন, একজন অতিরিক্ত সচিবের মাধ্যমে তিনটি জেলায় কোথায় কী হচ্ছে তার একটি প্রতিবেদন করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে কিছু সুপারিশও ছিল। তবে সেই প্রতিবেদনে কী কী সুপারিশ ছিল সেগুলো জানাননি মন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় সেনাবাহিনীর ছেড়ে আসা ক্যাম্পে বিশেষায়িত পুলিশ মোতায়েন হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আরো বলেন, ‘শান্তিচুক্তি রক্ষার্থে সেনাবাহিনী যেসব ক্যাম্প স্থাপন করেছিল সেগুলো তারা ছেড়ে আসছে। ক্যাম্প ছেড়ে এলেও আমাদের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। সে জন্যই ক্যাম্পে আর্মির বদলে বিশেষায়িত পুলিশ মোতায়েন করা হবে’।

তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমাকে নিয়ে রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উক্ত বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন ও পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ।

ওই বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বৈঠক সূত্র আইপিনিউজকে আরো নিশ্চিত করেছে যে, তিন পার্বত্য জেলায় মাঝে মধ্যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অনভিপ্রেত বলে এসবের উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা এবং চুক্তির আলোকে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম ত্বরাণিত করার জন্যই মূলত এই বৈঠক।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর ব্রিফিং এ আরো বলেন, যত স্টেকহোল্ডার ছিল তাদের সবার সঙ্গে আলাপ করেছি। একই সঙ্গে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে যারা রয়েছে সবার সঙ্গে আমরা বসেছি। উপজেলা চেযারম্যান থেকে শুরু করে এমপি, মন্ত্রী সবার সঙ্গে আলোচনা করেছি। এরপর আমরা সর্বশেষ যে সিদ্ধান্তে এসেছি, সেখানে একটি শান্তি চুক্তি হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী কিছু কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়েছে। আবার কিছু কিছু বাস্তবায়ন হয়নি। সে বিষয়ে সন্তু লারমা আমাদের বলেছেন, তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করবেন। আমরা যে জিনিসটা চাচ্ছি, পার্বত্য জেলার শান্তি চুক্তি রক্ষার্থে সেনাবাহিনী যেসব ক্যাম্প ছেড়ে এসেছিল সেখানে পুলিশ মোতায়েন করার জন্য একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে সন্তু লারমাকে আমরা জানিয়েছি। আমরা এ বিষয় নিয়ে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বহু মিটিং করেছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় অন্য যে কয়টি জেলা যেভাবে চলছে পার্বত্য চট্টগ্রামের এই তিনটি জেলা যেন একই পদ্ধতিতে চলে। শুধু শান্তি-শৃঙ্খলা নয়, উন্নয়নসহ সব কিছু। এ জন্যই সন্তু লারমাকে আমি বিশেষভাবে দাওয়াত দিয়েছিলাম, তিনি এসেছিলেন। তার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করবেন। তিনিও অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন, সেগুলো নিয়ে আমরা আবারো বসব।

আগে অস্থায়ী আর্মি ক্যাম্পে এখন পুলিশ ক্যাম্প হবে, বিষয়টা কী এরকম? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার মূল লক্ষ্য হলো পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনা। আর্মি ক্যাম্পগুলোতে পুলিশ যাবে বিষয়টা ঠিক সেই রকম নয়। যেখানে প্রয়োজন পুলিশ সেখানে যাবে। আমরা এই তিন জেলায় আধুনিক পুলিশ মোতায়েন করব, যাতে সেখানে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

এদিকে বৈঠক সূত্র আইপিনিউজকে আরো নিশ্চিত করেছে যে, চুক্তির আলোকে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব বিষয়ে সহযোগিতার জন্য দু’টি পক্ষ ঐকমত্য প্রকাশ করেছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্যে একটি ‘মিনিংফুল ডাইলগ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে আগামী দিনের সরকারের উদ্যোগ ও সদিচ্ছাই বলে দিবে এই বৈঠক কতটুকু ‘মিনিংফুল’ হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *