তিন সাঁওতাল হত্যা মামলার পরবর্তী শুনানি ২২ মার্চ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যা মামলার নারাজির ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্রের আদালতে এ শুনানি হয়। এ সময় আগামী ২২ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।

নারাজি শুনানিতে অংশ নেন- সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী, আইনজীবী রফিক আহম্মেদ সিরাজী, গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মুরাদ জামান রব্বানী এবং স্থানীয় আদালতের আইনজীবী ফয়জুল আলম রনন।

আইনজীবী রফিক আহম্মেদ সিরাজী বলেন, আমরা এ মামলার জুডিসিয়াল তদন্ত চেয়েছি। আদালত আমাদের কথা শুনেছেন। হাইকোর্টের একটি নির্দেশনায় পুলিশকে শনাক্ত করা হয়েছিল। আদালত সেটার একটা রিপোর্ট চেয়েছেন। সেই সঙ্গে হত্যা মামলার ক্ষেত্রে জুডিসিয়াল তদন্ত হয়েছে কি-না, তার কয়েকটি রেফারেন্স চেয়েছেন আদালত। যত দ্রুত সম্ভব কাগজপত্রগুলো জমা দিতে বলেছেন। তারপর আদেশ দেবেন তিনি। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২২ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এদিকে, একই দিন সাঁওতাল হত্যার বিচার, বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর, লুটপাট ও ক্ষতিপূরণসহ সাতদফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সাঁওতালরা। সকালে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের মাদারপুর জয়পুরপাড়া সাঁওতালপল্লী থেকে শতাধিক নারী-পুরুষ প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক পায়ে হেঁটে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে পৌরশহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আদালত চত্বরের সামনে সমাবেশ করেন।

সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি পুনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ডা. ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন রংপুর বিভাগের সভাপতি মাফিয়াস মার্ডি, রংপুর খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী সম্পাদক অ্যাডভোকেট সেবাস্টিমান হেমরম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আইন সম্পাদক জর্জ মারান্ডি, সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি পুনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম প্রধান, সুফল হেমরম ও মামলার বাদী থোমাস হেমরম প্রমুখ।

২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর পুলিশ সঙ্গে নিয়ে রংপুর চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমিতে আখ কাটতে যান চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীরা। এসময় নিজেদের পূর্বপুরুষের ওই জমি আখ কাটতে বাধা দেন সাঁওতালরা। এতে পুলিশ, চিনিকল শ্রমিক ও সাঁওতালদের ত্রিমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে রমেশ টুডু, শ্যামল হেমব্রম ও মঙ্গল মার্ডি নামের তিন সাঁওতাল নিহত হন। আহত হন উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন।

ওই ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষ থেকে থোমাস হেমরম বাদী হয়ে তৎকালীন এমপি আবুল কালাম আজাদ, চিনিকলের এমডি আব্দুল আউয়াল, থানার তৎকালীন ওসি সুব্রত কুমার সরকার, সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুল, কাটাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রফিকসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার দাখিল করেন। পুলিশ সেটি জিডি হিসেবে এন্ট্রি করে। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করলে থোমাস হেমরমের জিডিকে মামলা হিসেবে এন্ট্রি করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

এরপর পিবিআই ২০১৯ সালে ২৩ জুলাই মূল আসামিদের বাদ দিয়ে ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে ২৬৩ নং অভিযোপত্র দাখিল করে। ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর চার্জশিট প্রত্যাখান করে নারাজি দাখিল করা হয়। নারাজি আমলে নিয়ে ২৩ ডিসেম্বর মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

গত বছরের ২ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪৯৬ নং অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। সেখানে মামলার মূল আসামিদের বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিল করলে বাদী পক্ষ সেটি প্রত্যাখ্যান করে নারাজি দেয়।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *