সাঁওতাল হত্যা মামলা নারাজির ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যা মামলার নারাজির ওপর শুনানি হয়েছে। গতকাল সোমবার গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্রের আদালতে শুনানি হয়। শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী, আইনজীবী রফিক আহম্মেদ সিরাজী, গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মুরাদ জামান রব্বানী এবং স্থানীয় আদালতের আইনজীবী ফয়জুল আলম রনন।

আইনজীবী রফিক আহম্মেদ সিরাজী বলেন, ‘আমরা এ মামলার জুডিশিয়াল তদন্ত চেয়েছি। আদালত আমাদের কথা শুনেছেন। হাইকোর্টের একটি নির্দেশনায় পুলিশকে শনাক্ত করা হয়েছিল। আদালত সেটার একটা রিপোর্ট চেয়েছেন। সেই সঙ্গে হত্যা মামলার ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল তদন্ত হয়েছে কিনা, তার কয়েকটি রেফারেন্স চেয়েছেন আদালত। যত দ্রুত সম্ভব কাগজপত্র জমা দিতে বলেছেন। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২২ মার্চ দিন ধার্য করেছেন।’ সাঁওতাল হত্যার বিচার, ক্ষতিপূরণসহ সাত দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন সাঁওতালরা। গতকাল সকালে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের মাদারপুর জয়পুরপাড়া সাঁওতালপল্লি থেকে শতাধিক নারী-পুরুষ প্রায় আট কিলোমিটার সড়ক হেঁটে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আদালত চত্বরের সামনে যান। পরে সেখানে তারা সমাবেশ করেন।

সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি পুনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ডা. ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন-রংপুর বিভাগের সভাপতি মাফিয়াস মার্ডি, রংপুর খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী সম্পাদক অ্যাডভোকেট সেবাস্টিমান হেমরম, সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি পুনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম প্রধান প্রমুখ।

গত বছর ২ নভেম্বর আদালতে এ মামলার চার্জশিট দেয় সিআইডি। সেখানে মামলার মূল আসামিদের বাদ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বাদীপক্ষ চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে নারাজি দেয়।

২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর পুলিশ নিয়ে রংপুর চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমিতে আখ কাটতে যান চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীরা। এ সময় নিজেদের বাপ-দাদার জমি দাবি করে বাধা দেন সাঁওতালরা। এতে পুলিশ, চিনিকল শ্রমিক ও সাঁওতালদের ত্রিমুখী সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে রমেশ টুডু, শ্যামল হেমব্রম ও মঙ্গল মার্ডি নামে তিন সাঁওতাল নিহত হন। আহত হন উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন। ওই সময় সাঁওতালদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *