লাকিংমে’র বিয়ে পড়ানো কাজীর বিচার দাবি

কক্সবাজারের টেকনাফের মেয়ে লাকিংমে চাকমাকে অপহরণের পর কুমিল্লায় নিয়ে বাল্যবিয়েতে বাধ্য করা হয়েছিল। ভুয়া জন্মসনদে বিয়ে পড়ানো কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাজি নরুল ইসলামের বিচার দাবি করেছে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, এএলআরডি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্লাস্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, জনউদ্যোগ এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র। পাশাপাশি ওই কাজির সনদ বাতিলেরও দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের উপ-পরিচালক শাহনাজ সুমী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে রোববার দুপুরে জেলা রেজিস্ট্রার মো. আনোয়ারুল হক চৌধুরীর কাছে দেওয়া হয়। এ সময় ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্ত কাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা রেজিস্ট্রার।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ জানুয়ারি টেকনাফ উপজেলার শিলখালি চাকমাপাড়া থেকে অপহৃত হয় লাকিংমে চাকমা। জন্মসনদ অনুযায়ী সেদিন তার বয়স ছিল ১৪ বছর ১০ মাস। ১১ জানুয়ারি লাকিংমেকে নিয়ে যাওয়া হয় কুমিল্লায়। এরপর ২১ জানুয়ারি লাকিংমেকে ধর্মান্তর ও কাজি অফিসে নিয়ে বিয়েতে বাধ্য করা হয়। কোনো যাচাই না করেই জাল জন্মসনদে লাকিংমের বিয়ে এবং নিকাহনামা রেজিস্ট্রেশন করেন কাজি নরুল ইসলাম। ওই কাজির এরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ শুধুমাত্র একটি কিশোরীর জীবনই কেড়ে নেয়নি, বরং বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ২০০৯, বিধিমালা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, অপহরণের পর ভুয়া জন্মসনদ দিয়ে লাকিংমে চাকমাকে ধর্মান্তর ও বিয়েতে বাধ্য করেন টেকনাফে যুবক আতাউল্লাহ। অপহরণের প্রায় এক বছর পর গত বছরের ৯ ডিসেম্বর লাকিংমেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মৃত অবস্থায় পায় তার পরিবার। এরপর তার মরদেহ বুঝে পাওয়ার দাবি জানান বাবা লালাঅং চাকমা ও কথিত স্বামী আতাউল্লাহ। ফলে আইনি জটিলতায় টানা ২৬ দিন লাকিংমের মরদেহ পড়েছিল হাসপাতালের মর্গে। পরে র‌্যাবের তদন্তে লাকিংমে অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের নির্দেশে মরদেহ বুঝে পান লালাঅং চাকমা। মৃত্যুর ১৩ দিন আগে কিশোরী লাকিংমে আরেকটি শিশুর জন্ম দিয়ে গেছে। এ ঘটনায় এখনও অভিযুক্ত আতাউল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আন্দোলন করেছে বিভিন্ন সংগঠন।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *