স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার রোডম্যাপ ঘোষণা করাসহ ৮ দফা দাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ

আজ ১৮ জানুয়ারি ২০২১, বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার রোডম্যাপ ঘোষণা করাসহ ৮ দফা দাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আজ দুপুর ১ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন হতে মিছিল শুরু করে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়। রাজু ভাস্কর্যে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ফয়েজউল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীপক শীলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া সেতু, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি কেএম মুত্তাকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সহ-সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা, ঢাকা মহানগর সংসদের সহ-সভাপতি প্রিতম ফকির, মানিকগঞ্জ জেলার সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমেদ, গাজীপুর জেলার সাধারণ সজীব সর্দার।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “করোনার সময়ে মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। প্রতিদিন আমরা মানুষের মৃত্যুর সংবাদ পাই। শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এর মাঝেই আমরা দেখতে পাই আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অনলাইন ক্লাসের আয়োজন। আমাদের দেশের সকল শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক কাভারেজে নাই। সকল শিক্ষার্থীর অনলাইন ক্লাস উপযোগী ডিভাইস নাই। আমরা সব সময় বলেছি শিক্ষার আর্থিক দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে। সরকার চাইলে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের জন্য করোনাকালীন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারতেন। তা না করে তারা শিল্পপতিদের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করলেন। আমরা দেখতে পেলাম বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের নিকট হতে বন্ড স্বাক্ষর নিয়ে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দিচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে হল না খুলে পরীক্ষা নেওয়ার আয়োজন চলছে। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। তারা আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।”
বক্তারা আরও বলেন, “আমরা বলতে চাই অবিলম্বে করোনার সময়ে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেতন ফি মওকুফ করতে হবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার ভ্যাক্সিন প্রদান করতে হবে এবং ভ্যাক্সিনেশনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেনো ঝরে না পড়ে, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যয় এবং শিক্ষকদের বেতনাদির দায়ভার সরকার বহন করতে হবে। দ্রুত উচ্চ মাধ্যমিক (এইচ.এস.সি) পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করতে হবে। চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে একটি সেল গঠন করে দ্রুততর সময়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। আমাদের যে ৮ দফা দাবি, সেটি আপামর ছাত্রসমাজেরই দাবি। আমাদের দাবি মানা না হলে ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।”

ছাত্র ইউনিয়নের ৮ দফা দাবি:
১. করোনাকালীন সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন ফি মওকুফ কর, এসাইনমেন্টের নামে বিভিন্ন স্কুলে আদায়কৃত ফি ফেরত দাও।
২. নামে বেনামে ফি আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ কর
৩. বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার রোডম্যাপ ঘোষণা কর
৪. সেশনজট রোধে দ্রুত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ কর। সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ কর
৫. পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িকীকরণ বন্ধ কর
৬. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলগুলো খুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করে পরীক্ষা নাও, অছাত্র-সন্ত্রাসীদের হল থেকে বিতারণ কর
৭. সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্যিক কোর্স বন্ধ কর
৮. অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে করোনা ভ্যাক্সিন দিতে হবে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *