অধ্যাপক ড. হেলালউদ্দিন খান শামসুল আরেফিন স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ খ্যাতনামা নৃবিজ্ঞানী ও গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হেলালউদ্দিন খান শামসুল আরেফিন স্মরণে ১৪ই জানুয়ারি বিকেল ৩ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোবাইদা নাসরিনের সঞ্চালনায় শোকসভার শুরুতে আরেফিন স্যারের জীবনী পাঠ করেন নৃবিজ্ঞান নিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা বেগম।
তার ছেলে আনন্দ আশেক আরেফিন বাবার সারা জীবনের কাজ, সততা এবং পরিশ্রমের কথা তুলে ধরেন। স্মরণসভায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ করেন তারই বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীর, বড় বোন নিলুফার বেগম ভ্রাতুষ্পুত্র ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসির মামুন। এছাড়াও আলো সভায় অংশগ্রহণ করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড সরকার আমিন, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড মেসবাহ কামাল, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা রোকেয়া কবির, শারমিন শামস ইলোরা, ড মেঘনা গুহঠাকুরতা, এল আরডির পরিচালক, নোমান আহমেদ খান, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য, , বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক জনাব রাশিদ মাহমুদ প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, ড. আরেফিন স্যার শুধু পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তিনি সারা বাংলাদেশের প্রান্তিক এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন । তিনি শুধু ঘুরে বেড়াননি যে চিত্র গুলো অবলোকন করেছেন সেটিকে লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। তিনি আদিবাসী, দলিত, হরিজন মানুষের সমান অধিকার সব সময় বলতেন এবং সমস্যা সমাধানের কথাও লিখতেন এবং সারা জীবন আদিবাসী মানুষের অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার ছিলেন। পাশাপাশি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের যে অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বহুত্ববাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সব সময় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি তার বিভাগের ছাত্র- ছাত্রীদের নানান বিষয়ে খুব বন্ধুত্বপূর্ণভাবে বোঝাতেন এজন্যই তিনি এখনো ছাত্র ছাত্রীদের চোখের মণি। বক্তারা আরেফিন স্যারের সকল লেখাকে জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য রাষ্ট্রকে উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান। আদিবাসী, সংখ্যালঘু, দলিত,হরিজন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার সংগ্রামকে রাষ্ট্রকে গ্রহণ করে একটি সুন্দর এবং সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের আহবান জানান।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক আরেফিন ১৯৪৮ সালেন ১ ফেব্রুয়ারি চান্দপুরের কচুয়া উপজেলার গুলবাহার গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। শিক্ষা জীবন শেষে তিনি ১৯৭১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে এবং ১৯৯৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত নৃবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনা করেন। শিক্ষকতার জীবনে তিনি পুরোসময়তায় লেখালিখি, গবেষণা, জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার অসামান্য অবধান রাখার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠায় সমান অবদান রাখেন। এছাড়াও ব্র্যাক ও ইন্ডিপেন্ডেন্টসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং বিস্তারে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *