ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিধন্য যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়ি রক্ষায় নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত নগরীর রহমতগঞ্জে অবস্থিত যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়ি অবৈধ দখলের কবল থেকে রক্ষা করে এটি সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করে স্মৃতি জাদুঘর করার দাবি জানানো হয়েছে চট্টগ্রামের একটি নাগরিক সমাবেশ থেকে। বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে নাগরিক সংগঠন পিপলস ভয়েস এবং চট্টগ্রাম বিপ্লব ও বিপ্লবী স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। সমাবেশ থেকে বক্তারা রহমতগঞ্জের বাড়িসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর জমি অধিগ্রহণ করে সংরক্ষণ ও জাদুঘর করতে সরকারের প্রতি দাবিও জানান। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা পাবে বলেও মনে করেন আয়োজকরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, যাত্রামোহন সেনগুপ্তের পরিবারের সদস্যরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। চট্টগ্রামের শিক্ষার উন্নয়নে অনেক কাজ করেছিলেন। বিভিন্ন সমযে রহমতগঞ্জের ওই ভবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাদস্পর্শে ধন্য হয়েছে। এ বাড়ি যাদের স্মৃতিতে ধন্য তারা বিভাগপূর্ব ভারতবর্ষের রাজনীতির অন্যতম কর্ণধার ছিলেন। এটি চট্টগ্রামসহ ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় তাঁদের স্থাপনা রক্ষার করার কেউ নেই।

বক্তারা আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও দেশের ঐতিহাসিক অনেক স্থাপনা বেদখল হয়ে গেছে। এগুলো সংরক্ষণে সরকার, প্রশাসনের যেন কিছু করার নেই। কোনো একটা ঘটনা ঘটলে সবাই নড়েচড়ে বসে। এভাবে চলতে পারে না।
উক্ত সমাবেশ থেকে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও উপমহাদেশের রাজনৈতিক স্মৃতি সংরক্ষণের দাবিও জানান।

পিপলস ভয়েসের সভাপতি শরিফ চৌহানের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক প্রীতম দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাবেশে আরো বলা হয়, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিধন্য এ জায়গা ভূমিদস্যুরা ভুয়া দলিল সৃজন করে দখলের পাঁয়াতারা করছে। সমাবেশ থেকে ঐ ঐতিহাসিক বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেয়ার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়।

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অশোক সাহা, সাংবাদিক প্রদীপ দেওয়ানজী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক হোসাইন কবীর, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক রাশেদ হাসান, সাংস্কৃতিক সংগঠক সুনীল ধর, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ রুদ্র।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গণমুক্তি ইউনিয়নের নেতা নজরুল ইসলাম, ন্যাপনেতা মিটুল দাশগুপ্ত, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরী কমিটির কবি আশীষ সেন ও মোরশেদুল আলম, সেক্টরস কমান্ডার ফোরামের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বেদারুল আলম চৌধুরী, প্রীতিলতা স্মৃতিরক্ষা কমিটি পাহাড়তলীর আহবাযক মহিন উদ্দিন, ওর্য়াকার্স পার্টি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য অধ্যাপক শিবু দাশ, পিপলস ভয়েসের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা চট্টগ্রামের সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন, যুবমৈত্রীর চট্টগ্রাম জেলা কমিটির মোহাম্মদ মহসিন ও খোকন মিয়া, সংগঠক সৌরভ বড়ুয়া, নজরুল ইসলাম মান্না, নাসরিন খানম, সংগঠক এম শাহাদাত নবী খোকন, ছাত্রমৈত্রী চট্টগ্রাম জেলার আহবায়ক আলাউদ্দিন, যুগ্ম আহবায়ক ইয়াকুব সাজু, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদুল করিম, অমর-সাত্তার পাঠাগারের সংগঠক অমিতাভ সেন, খেলাঘর সংগঠক রুবেল দাশ প্রিন্স প্রমুখ।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *