বহুমুখী শাসন ব্যবস্থার মধ্যে পাহাড়ের শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে যেতে পারছেনাঃ সন্তু লারমা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পার্বত্য অঞ্চলে এখনো বহুমুখী শাসন ব্যবস্থা রয়েছে। সেই বহুমুখী শাসন ব্যবস্থার মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়ে যেতে পারে না।
৬ জানুয়ারি শুক্রবার জুরাছড়ি উপজেলায় বনযোগীছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণ জয়ন্তী ও পূর্নমিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি রাঙামাটি পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা এ মন্তব্য করেন।
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ শিক্ষা চায়- শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চায়, আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত শিক্ষা পেতে চায়। কিন্ত বাস্তবতা হলো যে, শিক্ষার সাথে জড়িয়ে আছে তাদের অর্থনীতি, যুক্ত আছে যে শাসনতান্ত্রীক ব্যবস্থাপনা, যুক্ত আছে সামাজিক তার বাস্তবতা। আজকের পার্বত্য অঞ্চল বুকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক শাসনতান্ত্রীক, অর্থনৈতিকসহ তথা গোটা জীবন ধারায় আমরা দেখতে পায় অনেক হতাশা, নিরাশা, ভয়ভীতি সন্ত্রাস অনেক অকে কিছু দেখতে পায়। পার্বত্য অঞ্চলের যে শাসন ব্যবস্থায় যথাযথ শিক্ষা পাওয়া যায়না।
পার্বত্য অঞ্চলের যে বাস্তবতা পাহাড়ে আমরা যারা বসবাস করি জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে যারা বসবাস করি এই যে বাস্তবতা বিভিন্ন প্রশ্নের মূখোমুখি করে।
পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা সমাধানের জন্য পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মধ্যে দিয়ে এই অঞ্চলের চারটি আইন প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন এবং একটি পার্বত্য অঞ্চলিক পরিষদ আইন। তার পাশাপাশি মন্ত্রীপরিষদের একটি শাখার বর্ধিত পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রনালয়। পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ ও তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন অধ্যাবধি কার্যকর হতে পারে নাই। এ অঞ্চলে বহুবিধ সমস্যা রয়েছে। পার্বত্য জেলা পরিষদে নামে মাত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো বাস্তবায়িত হতে পারেছেনা। ফলে সাধারণত আইন শৃংখলার মধ্যে নানাবিধ প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। আজকে সেসব প্রশ্নে মিমাংসা করা সম্ভব নয় তাহলে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা অঙ্গন এগিয়ে যেতে পারবে না-শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে পারবো না। পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হলে পার্বত্য চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন হতে হবে। এ অঞ্চলের আইন শৃংখলা, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিত্বশীল মানুষের হতে নের্তৃত্বে হাতে যেতে হবে।
জুরাছড়ি উপজেলায় বনযোগীছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সূচনা সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুরেশ কুমার চাকমার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল কে এম ওবায়দুল হক, উপজেলা চেয়ারম্যান উদয় জয় চাকমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃহারুন রশিদ । অন্যান্যদের মধ্যেবক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেঘবর্ণ চাকমা, প্রাক্তন শিক্ষার্থী কৃষ্ণা চাকমা, প্রিয় কুমার চাকমা, শ্রীলা তালুকদার প্রমূখ।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *