রাঙ্গামাটিতে জনসংহতি সমিতির উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৩তম বর্ষপূর্তিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৩তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, রাঙ্গামাটি জেলা কমিটি উদ্যোগে গতকাল ২ ডিসেম্বর ২০২০ সকাল ১০ ঘটিকার সময় জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন জোরদার করুন এ আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার।

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক রিন্টু চাকমার সঞ্চালনায় ও জনসংহতি সমিতি কেন্দ্রীয় সদস্য সৌখিন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জগদীশ চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ম্রানু চিং মারমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক সাগর ত্রিপুরা, টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্যাঞ্চল শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেন, আজ পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল, উদ্বেগজনক। সরকারকে অনুরোধ করবো পাহাড়ের মানুষকে উপেক্ষা, অবজ্ঞার চোখে দেখবেন না, খাটো করে দেখবেন না। এরা দূর্বল, এরা অসহায় কিছুই করতে পারবে না, এমন ভাবা ভুল হবে। পাহাড়ের মানুষ সহজ-সরল, এরা অধিকার নিয়ে বাঁচতে চায়।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৩তম বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে ৭১ টিভি চ্যানেল ও এটিএন নিউজে জনসংহতি সমিতির সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে প্রচারিত প্রতিবেদনের বর্ণনা করে ।এটাকে হলুদ সাংবাদিকতা বলে আখ্যায়িত করে তিনি এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অস্ত্র তাক করে দেখাচ্ছে! কারা করছে? সাংবাদিককে কারা নিয়ে যাচ্ছে? বলেও প্রশ্ন রাখেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, স্পিড বোটে করে নিয়ে যাচ্ছে মুখটা দেখা যায় না! এটা কেন দেখানো হচ্ছে? দেখানো হচ্ছে- দেশে-বিদেশে মানুষকে বুঝানো। দেখেন- জনসংহতি সমিতি গণতান্ত্রিক দল বলে। কিন্তু এরা অস্ত্রধারী, এরা চাঁদাবাজি করে। এরা দেশের জন্য হুমকি! এটা বুঝানোর জন্য হলুদ সাংবাদিকতা। আজকে এসব নানা কূট-কৌশল করে কি হবে? বলেও প্রশ্ন রাখেন সাবেক এই সাংসদ।

তিনি এসব কূট-কৌশল পরিহার করে পার্বত্য চট্টগ্র্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে সকলকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জনসংহতি সমিতির এই নেতা।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *