চিম্বুকে হোটেল ও পার্ক নির্মাণের প্রতিবাদে পিসিপি ও পাহাড়ী শ্রমিক কল্যাণ ফোরামের বিক্ষোভ

বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠী ম্রোদের ভূমি জোরপূর্বক দখল করে নিরাপত্তা বাহিনী ও শিকদার গ্রুপের উদ্যোগে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ ও বিনোদন পার্ক স্থাপনের প্রতিবাদে আজ চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার (২২ নভেম্বর) বিকাল তিনটায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, চট্টগ্রাম মহানগর শাখা ও পাহাড়ী শ্রমিক কল্যাণ ফোরামের যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড় মোড়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য হ্লামিউ মারমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণ চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম, মহানগর শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক এন্দ্রিয় চাক, পাহাড়ী শ্রমিক কল্যাণ ফোরামের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এলিন চাকমা, টিএসএফ এর চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি নয়ন ত্রিপুরা, বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উথোয়াই চিং মারমা প্রমূখ।
উক্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অনুজ চাকমা।

উক্ত সমাবেশে বক্তব্য উপস্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সুখী কুমার তংচংগ্যা। তিনি বলেন, আর মাত্র কয়েকদিন পর আমরা ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তির ২৩তম বর্ষপূতি পালিত হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের ২৩ বছর পরও এই চুক্তির মৌলিক বিষয় সমূহের অবাস্তয়নের ফলে পুরো পাহাড় জুড়ে অগণতান্ত্রিক শাসন ও কর্তৃত্ব চেপে বসেছে। যার কারণে চিম্বুকের ম্রো জনপদ নিরাপদ নয়। কেবল চিম্বুক নয়, পুরো পাহাড় এক ধরণের ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ তাঁর যে ঐতিহাসিক দায় নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সে লড়াইয়ে সবসময় কন্ঠ জারী রাখবে বলেও হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন এই ছাত্রনেতা। তিনি অবিলম্বে চিম্বুক পাহাড়ে উক্ত আগ্রাসী প্রকল্প স্থগিতের আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা আরো বলেন, চিম্বুক পাহাড়ে ফাইভ স্টার হোটেল ও বিলাসবহুল পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের ফলে বহু ম্রো জনগোষ্ঠী তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হয়ে যাবে। যার ফলে শত বছর ধরে বসবাস করা ম্রো জনগোষ্ঠীর অনেকেই বাস্তুহারা হয়ে যাবে এবং তাঁদের চিরায়ত ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং জীবন-জীবিকার সমস্ত কিছুই হারাতে বাধ্য হবে। তাই স্থানীয় ম্রো জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অবিলম্বে পাঁচ তারকা হোটেল ও পর্যটন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে করতে হবে। গনবিরোধী এ কর্মকান্ডের প্রতিবাদে দেশের প্রগতিশীল নাগরিকদের আরো সোচ্চার হওয়ারও আহ্বান জানান বক্তারা।

বক্তারা আরোহিুশিয়ারীউচ্চারণ করে দিযে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সিকদার গ্রুপ একত্রে চিম্বুক পাহাড়ে ম্রো আদিবাসীদের ভূমি বেদখল করে যে বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেল ও পর্যটন স্থাপনা নির্মাণ করছে, সেটি সম্পূর্ণরূপে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির চরম লঙ্ঘন । এ প্রকল্প বন্ধ না হলে পরবর্তীতে যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য উক্ত দুই কর্তৃপক্ষই দায়ী থাকবে বলে বক্তারা হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

পাহাড়ে তথাকথিত উন্নয়নের নামে ভূমি বেদখল করে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে এবং যার ফলে আদিবাসীদের জীবন জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে দাবী করে বক্তারা আরো বলেন, পাহাড়ে উন্নয়নের নামে ভূমি উচ্ছেদের যে উৎসব চলবে এবং আদিবাসীদের অস্তিত্বকে পার্বত্য অঞ্চল থেকে মুছে ফেলার যে ষড়যন্ত্র চলছে, তার পরিণাম সমগ্র দেশের জন্য কখনো সুখকর হবে না। তাই দেশের সামগ্রিক স্বার্থে সরকার তথা শাসকগোষ্ঠী জুম্ম উচ্ছেদের এ ষড়যন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানও জানান তারা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিভিল প্রশাসনসহ সবাইকেই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং চুক্তির মৌলিক ধারাগুলো লঙ্ঘিত হয় এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান সমাবেশের বক্তারা।

পরে সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়।বিক্ষোভ মিছিলটি চেরাগী পাহাড় থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব হয়ে চেরাগী পাহাড় মোড়ে এসে শেষ হয়। এসসময় বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন হাতে চিম্বুক পাহাড়ে ফাইভ স্টার হোটেল ও বিনোদন পার্ক নির্মাণ উদ্যোগের প্রতিবাদ জানান সংগঠন সমূহের নেতারা।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *