তুলির আচঁড়ে চিত্রশিল্পী কনক চাঁপা চাকমার প্রতিবাদ

তুলিতে আঁকা ছবিতে অন্য এক প্রতিবাদে সামিল হলেন দেশের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী কনক চাঁপা চাকমা। আজ তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে ম্রো আদিবাসীদের নিয়ে এ যাবৎকালে তাঁর আঁকা ছবিগুলো আপলোডের মাধ্যমে এই প্রতিবাদ জানান। তাঁর তুলিতে আঁকা ম্রো জনপদ, ম্রো যুবতী, তাঁদের সংগ্রাম ও যাপিত জীবনের নানা দিক চিত্রিত হয়েছে পুরাতন আঁকা তাঁর ছবিগুলোতে। তবে উক্ত ছবিগুলোর সাথে তাঁর আর একটি ছবি রয়েছে যা তিনি এঁকেছেন ৮ নভেম্বর ২০২০। তিনি এ ছবির শিরোনাম দেন ‘এখন শুধুই আঁধার”। ছবিতে আঁকা ভূমিহীন ম্রো শিশুদের স্বপ্ন রোপন কোথায় হবে? বলেও তিনি প্রশ্ন রাখেন।

তিনি আরো লিখেন, আমার ম্রো জনগোষ্ঠীর যে পাহাড়ের আলো আঁধারের গল্প আমি এঁকেছি, তা কি আঁধারের অতল গহীনে ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছে? আমার ক্যানভাসে মিষ্টি রোদ মাখা সোনালি আলোয় উদ্ভাসিত সরল মুখগুলোতে আশার সূর্যোদয় আমি এঁকেছিলাম , এখন সেই মুখে হতাশা, বঞ্চনা, যন্ত্রণার সুর্য্যাস্তের রঙ মাখা।

এছাড়া তিনি আরো লিখেন, আদিবাসীরা ভূমিপুত্র, আজীবন ভূমির সাথে সখ্যতা , মমতা জড়ানো শীতের কাথাঁর মত পাহাড়কে তারা ভালোবাসা দিয়ে ঢেকে রাখে, সেই ভূমি, পাহাড় তাদের জীবন থেকে বেদখল হয়ে তারা আজ নিঃস্ব ! অসহায়!উন্নয়নের কথা যদি বলতে হয়, যেখানে স্কুল থাকা জরুরী, হাসপাতাল থাকা অতি আবশ্যক বলেও মনে করেন এই চিত্রশিল্পী।
এছাড়া পাহাড়ের মানুষ কাপড়ে ভার করে রোগীকে চিকিৎসা দিতে নিয়ে যায় হাসপাতালে, উন্নয়নের প্রয়োজনে পর্যটন যদি করতে হয় তাহলে এই সরল মানুষদের ভূমি কেন নিতে হবে? পাহাড়ের এত কোল থাকতে তাদের পাহাড়ের আশ্রয়টুকু নেওয়া কি মানবিকতার ছায়ায় ফেলা যায় ? পর্যটনের জন্য স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য একটি উপযুক্ত স্থান চিন্হিত করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

ম্রো সম্প্রদায়ের প্রতিকী প্রতিবাদ করাকে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, তাঁদের ঐতিহ্যবাহী বাঁশি বাজিয়ে , বাঁশির সুরে আনন্দ নেই, বেদনামাখা সুরে চিম্বুকের পাহাড় প্রতিধ্বনিত হচ্ছে হাহাকারে, যে আনন্দময় উৎসবে বাঁশি বাজিয়ে নেচে হাসিতে টুকরো টুকরো হয়ে ম্রো ছেলে মেয়েরা নাচতো,সেই বাঁশির সুর আজ শুনতে পাচ্ছি বেসুরো। একটি ম্রো শিশু কোমল হাতে পোস্টার নিয়ে দাড়িয়েছে তাদের ভূমির জন্য , এই শিশুটির হাতে থাকা উচিত ছিল পড়ার বই , কাঁধে স্কুল ব্যাগ । ভীরু বিহ্বল চোখে সে দূর অজানা এক অন্ধকার ভবিষ্যতকে দেখছে।

তিনি তাঁর এই প্রতিবাদে আরো লিখেন, আমরা মানুষ। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম জীব, সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজটি কিন্তু আমরাই মানুষরা করি। অন্যান্য জীবরা অহেতুক ক্ষতি কখনোই করে না । মানবিক হতে হবে মানুষদের , অন্যান্য প্রাণীরা মানবিকতা প্রদর্শন করলে সেটা হবে মানুষের জন্য লজ্জাকর ।এভাবেই ম্রো আদিবাসী উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সংহতি প্রকাশ করেন খ্যাতনামা এই চিত্রশিল্পী।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *