রাঙ্গামাটির লংগদুতে এবার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক আদিবাসী ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

পাহাড় তথা সমতলে একের পর এক ধর্ষণ তথা নারী সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির বলপেয়্যে আদামে এক জুম্ম নারীকে ৯ জন সেটলার বাঙালী কর্তৃক গণধর্ষণের ঘটনা সবাইকে চমকিত করে। এর আগে বান্দরবানের লামা, মহালছড়ি ও দীঘিনালায় পুলিশ সদস্য কর্তৃক আদিবাসী নারী ধর্ষণের ঘটনাসমূহের রেশ কাটতে না কাটতে আবারও রাঙামাটির লংগদু উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নের করল্যাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের এক আদিবাসী ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী ইতিমধ্যে আটারকছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও করল্যাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মঙ্গল কান্তির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া উক্ত ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে খবর প্রকাশিত হয়েছে এবং ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে।

এদিকে আটারকছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা উক্ত ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী করল্যাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পাস করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন ওই ছাত্রী ছাগল খুঁজতে বিদ্যালয়ের দিকে যান। এ সময় বিদ্যালয়ে ছিলেন প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম। এ সময় ছাত্রীকে লেবু নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বিদ্যালয়ে ডাকেন। ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ের কক্ষে প্রবেশ করতেই কক্ষের দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করেন। পরে এ ঘটনাটি কাউকে না জানানো এবং জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন আব্দুর রহিম।

ভুক্তভোগীর পিতা বলেন, ঘটনার পর মেয়েটি বিষয়টি তার মাকে জানায়। ধর্ষণের আইন সম্পর্কে ধারণা না থাকায় কোথায় গেলে বিচার পাব তা আমাদের জানা ছিল না।

মঙ্গল কান্তি চাকমা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের জানানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ধর্ষণের বিষয়ে চেয়ারম্যান এবং স্কুল ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা কোনো ধরণের সহযোগীতা ভিক্টিমের পরিবারকে করেননি বলেও অভিযোগ করেন ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর বাবা।
এ নিয়ে ছাত্রীর বাবা আরো বলেন, এ নিয়ে থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলে স্কুল কমিটির সভাপতি ও আটারকছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা মামলা করতে বাঁধা দিয়ে বলেন তিনি বিচার করবেন।’

শিক্ষার্থীর বাবা আরো অভিযোগ করেন, ‘চেয়ারম্যানের কথা মতো আমরা তাকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু তিনি আমাদের কোন ধরনের সহযোগিতা করেননি।’
অভিযোগের বিচার করার বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা বলেন, ‘যেহেতু আমি স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তাই পুরো বিষয়টি আমাকে অবশ্যই দেখতে হবে।’এ বিষয়ে আগামীকাল বৈঠক করবেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে লংগদু থানার ওসি সৈয়দ মোহাম্মদ নুর বলেন, এ অভিযোগ পুলিশের কাছে আসেনি। ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে পুলিশকে জানাতে হয়। এ ঘটনার ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও আমাকে কোন কিছু জানায়নি।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *