আদিবাসী অধ্যুষিত সাজেকে মসজিদ স্থাপনের প্রতিবাদে সাজেক ও বাঘাইছড়িতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিতঃ ইসলামীকরণের পাঁয়তারা বলছেন বক্তারা

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে পাহাড়ি অধ্যুষিত এলাকায় মসজিদ নির্মাণের নামে পাহাড়ি উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র বন্ধ ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার দাবিতে সাজেক ও বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছ।আজ শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২০) সকালে সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট ও শিজকছড়া এলাকায় এবং বাঘাইছড়ি সদর এলাকায় পৃথক পৃথকভাবে এলাকাবাসী এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন।

’মসজিদ নয়, স্কুল চাই’ এই শ্লোগানে আজ সকাল ১০টায় সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় কার্বারি দিপন জ্যোতি চাকমা। এছাড়া রুপায়ন চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অন্য আরেক কার্বারি মিলন চাকমা ও কার্বারি ইঙ্গেস মোহন চাকমা প্রমুখ।

এদিকে এর আগে সাজেকের শিজকছড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হগেন ত্রিপুরা, বিজয় চাকমা ও মিসেস্ শোভারানী চাকমা প্রমুখ।

অপরদিকে বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর এলাকায়ও একই ইস্যুতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। এতে সন্তোষ কুমার চাকমা এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন।

উক্ত কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ের জুম্ম আদিবাসীদের ইসলামীকরণের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। সেই হীন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সম্পূর্ণ পাহাড়ি অধ্যুষিত সাজেকে মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। এটা পাহাড়িদেরকে নিজ জায়গা-জমি থেকে উচ্ছেদ করার সরকারের আরেকটি ষড়যন্ত্র বলেও বক্তারা অভিযোগ করেন। বক্তারা অবিলম্বে মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প বন্ধ করে সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠার দাবী জানান।

এছাড়া বক্তারা আরো বলেন, দুর্গম সাজেকে পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। যেসব স্কুলগুলো আছে সেগুলোর পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং পর্যাপ্ত শিক্ষকও নেই। সরকার সেদিকে নজর না দিয়ে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে ইসলামীকরণকে পাকাপোক্ত করতে চাই বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

সাজেকে পর্যটন স্থাপন করার পর সেখান থেকে শতাধিক পাহাড়ি পরিবার উচ্ছেদের শিকার হয়েছেন দাবী করে বক্তারা আরো বলেন, এ অঞ্চল থেকে আরো উচ্ছেদ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন শত শত পরিবার।সাজেকে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের ফলে পরিবেশের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। যার ফলে বন্য প্রাণী থেকে শুরু করে জীব বৈচিত্র্য এখন হুমকির সম্মুখীন বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।

সাজেক থেকে পাহাড়ি উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, সরকার কখনো পর্যটন সম্প্রসারণের নামে, কখনো ক্যাম্প স্থাপনের নামে সাজেক থেকে পাহাড়ি উচ্ছেদে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখন মসজিদ নির্মাণ করে আবারো সেটলার পুনর্বাসনের মাধ্যমে পাহাড়িদের উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন বক্তারা।

অবিলম্বে সাজেক থেকে পাহাড়ি উচ্ছেদের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় পর্যটন এবং মসজিদ নির্মাণ বন্ধ করার জন্য বক্তারা জোর দাবী জানান।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *