সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে সংঘটিত ধর্ষণের বিচার চেয়েছে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন

পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানের লামা ও খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে দুইজন আদিবাসী নারী ধর্ষণের বিচার দাবী করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন। গতকাল (৪ আগষ্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দু’টি এই দাবী করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত মাসের ৩০ আগস্ট বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে এক ত্রিপুরা বিধবা নারীকে বিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে সেটেলার নুরুল হুদা সহ তার আরও ৬ জন বন্ধু মিলে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ৯নং ওর্য়াডের পূর্বচাম্বী এলাকার জনৈক ক্লিপটন গ্রæপের বাগানের পাশে গনধর্ষণ করে। ঘটনার পরের দিন নির্যাতিতা বিধবা ত্রিপুরা নারী বাদী হয়ে লামা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে। তারপর লামা থানা পুলিশ ঘটনার মূল হোতা নুরুল হুদাকে গ্রেফতার করলেও বাকি আসামীরা এখনো অধরাই রয়ে গেছে ।

এছাড়া খাগড়াছড়িতে এক জুম্ম কিশোরী ধর্ষণের কথা জানিয়ে বিবৃতিতে আরো বলা হয় যে, গত ৩১ আগস্ট ২০২০ বিকাল আনুমানিক ৫ঃ০০ টার দিকে মহালছড়ি উপজেলার মহালছড়ি সদর ইউনিয়নের মহালছড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে মহালছড়ি সদর ইউনিয়নের টিলাপাড়া নিবাসী আল আমিন (২৪) জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে তার ৪ সহযোগীসহ গণধর্ষণ করে। পরে ১ সেপ্টেম্বর ২০২০ দিবাগত রাত প্রায় ৩:০০ টার দিকে মেয়েটি কোনমতে টিলাপাড়ায় তার এক শিক্ষকের বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করে।

ঘটনা জানাজানি হলে ১ সেপ্টেম্বর ২০২০ স্থানীয় সেটেলারদের নেতা ও আওয়ামীলীগের মহালছড়ি ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি রতন কুমার শীল এর নেতৃত্বে থলিপাড়া গ্রামস্থ হেডম্যান কালাচান চৌধুরীর বাড়িতে এক সালিশে অপরাধীকে শাস্তি না দিয়ে ধর্ষকদের পক্ষ থেকে ধর্ষিতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করার রায় দিয়ে বিচার সম্পন্ন করেন এবং এ বিষয়ে কোন মামলা না দেয়া ও কাউকে না জানানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মিলন কুসুম তঞ্চঙ্গ্যা স্বাক্ষরিত এই যৌথ বিবৃতিতে আরো বলা হয় যে, লামার ঘটনায় এক আসামী গ্রেফতার হয়ে একটু শান্তির নিশ্বাস নিতে পারছি অপরদিকে আরেক ঘটনার মূল আসামী আল আমিন সহ দুই ঘটনার বাকি আসামীদের গ্রেফতার না হাওয়ায় আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে। তাছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটেলার কর্তৃক জুম্ম নারীদের উপর যৌন সহিংসতা, হত্যা ,খুন ঘটনার বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমাদের আইনের শাসনের প্রতি একটা আস্থাহীনতা ভাবনা তৈরী করেই চলেছে।

উক্ত ঘটনাসমূহ সহ পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম নারীদের নিরাপত্তাও দাবী করেন সংগঠন দুটি। অবিলম্বে ধর্ষণকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিও করা হয় যৌথ বিবৃতিতে।

এছাড়া মহালছড়িতে জুম্ম কিশোরী গণধর্ষনের দায়ে অভিযুক্ত প্রধান আসামী আল আমিনসহ তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং সেই সাথে বিচারে অপরাধীর পক্ষ নেয়া ও পক্ষপাত দুষ্ট সালিশী রায়ের দায়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রতন কুমার শীলের চেয়ারম্যান পদ বাতিলও চেয়েছে সংগঠন দু’টি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নিপন ত্রিপুরা আইপিনিউজকে বলেন, করোনার এই মহামারীর সময়েও পাহাড়ের ধর্ষকদের লোলপতা থেকে নিস্তার পাচ্ছে না জুম্ম নারীরা। এমনি ঘটনা অবাধে সংঘটিত হচ্ছে বিচার হীনতার সংস্কৃতির ছত্রছায়ায়। এই ঘটনাগুলোর যথাযথ বিচার করা না হলে আগামী দিনে পাহাড়ী তরুণ ছাত্র ও যুব সমাজ সংঘটিত আন্দোলনের মাধ্যমে এ ঘটনাগুলোর চূড়ান্ত ফায়সালা করবে বলেও হুশিয়ারী দেন এই ছাত্রনেতা।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *