সমাপ্ত হল আদিবাসী কালচারাল ফোরামের অনলাইন আদিবাসী গান ও নৃত্য প্রতিযোগীতা

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২০ উপলক্ষে বাংলাদেশ আদিবাসী কালচারাল ফোরাম গত কয়েকদিন ধরে অনলাইনে আদিবাসী নৃত্য ও সঙ্গীত প্রতিযোগীতার আয়োজন করে। উক্ত প্রতিযোগীতাটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি”। প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনকারীদের পরিবেশনাগুলো আদিবাসী কালচারাল ফোরামের ফেসবুক পেইজ এর মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল গত ৪ আগষ্ট- ১৪ আগস্ট ২০২০ পর্যন্ত। সেই পরিবেশনাগুলোর উপর ভিত্তি করে প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে বিজয়ীদের নাম ঘোষনা করা হয় গতকাল ২০ আগষ্ট।পুরষ্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষনা ও এক অনলাইন আলোচনায় ‍ উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারন সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। বাংলাদেশ আদিবাসী কালচারাল ফোরামের সাধারন সম্পাদক চন্দ্রা ত্রিপুরার পরিচালনায় উক্ত অনলাইন আলোচনা ও পুরষ্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষনার অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়, মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান এবং প্রতিযোগী শিল্পীরা।

উক্ত অনলাইন সভাই প্রতিযোগী শিল্পীদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ণ করে সঞ্জীব দ্রং বলেন, আমি স্বপ্ন দেখি তোমরা যখন বড় হবে তখন আমাদের এ প্রিয় বাংলাদেশ অনেক মানবিক ও সাংস্কৃতিক হবে। আদিবসাীদের জীবন আরো অনেক সুন্দর হবে। তোমরা অনেক মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা স্বপ্ন দেখি একদিন এ রাষ্ট্র আদিবাসী দিবস উৎসব মুখর পরিবেশে পালন করবে। পাহাড়ের বিজু, সাংগ্রাই সহ বিভিন্ন আদিবাসী আয়োজনে রাষ্ট্রপ্রধানরা বাণী দিবে। পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বন্ধন সহ এক সুন্দর মেলবন্ধন আগামী দিনে তৈরী হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এ আদিবাসী নেতা।

উক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান বলেন, আমার জীবনের একটা বড় সময় আমি সাংস্কৃতিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলাম। আদিবাসী সংস্কৃতিগুলো যেন হারিয়ে না যায় তার জন্য আমরা ৭০ এর দশকে গিরীসুর শিল্পীগোষ্ঠীর সাথে কাজ করেছি বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা, একে অপরের কাছাকাছি আসার জন্য আমাদের স্ব স্ব সংস্কৃতি চর্চা করতে হবে। সুন্দর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য সংস্কৃতি কর্মীদের আরো এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

চাকমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় বলেন, আদিবাসীদের নিজেদের স্ব স্ব জীবন ধারা, সংস্কৃতি রয়েছে যা তাদেরকে চিহ্নিত করে আলাদাভাবে। আমাদের অনেকগুলো ভালো ভালো প্রথা রয়েছে যেগুলো আমাদের মূল্যবোধকে তুলে ধরে। এ মূল্যবোধগুলো চর্চারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, আদিবাসী মানে হলো প্রকৃতি। প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং জীব বৈচিত্র্যের সাথে নিবিড় সম্পর্ক আমাদের মূল্যবোধে রয়েছে যা আমাদের সাংস্কৃতিক নানা চর্চার মাধ্যমে ফুটে উঠে। স্ব স্ব মাতৃভাষায় চর্চার মাধ্যমে নিজেদের সংস্কৃতিকে ধরে রাখার চেষ্টা তরুণ আদিবাসীদের করতে হবে বলেও জানান তিনি।

উক্ত প্রতিযোগীতায় প্রতিযোগীদের পরিবেশনাগুলোর উপর মূল্যায়ন করা হয় দু’ভাবে। ৭০ শতাংশ নাম্বার দেওয়া হয় বিচারকদের নাম্বারিং এর উপর আর ৩০ শতাংশ নাম্বার দেওয়া হয় অনলাইনে আপলোডকৃত প্রত্যেকটি পরিবেশনার উপর দর্শকদের লাইক, শেয়ার ও প্রতিক্রিয়ার উপর।

উক্ত প্রতিযোগীতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নৃত্য শিল্পীদের মধ্যে প্রথম হন রাঙ্গামাটির প্রতিষ্ঠা চাকমা কায়া । এছাড়া দ্বিতীয় হন অদৃষ্টা চাকমা এবং নম্রতা চাকমা ও ক্রিসেন্টি চাকমা যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।
এছাড়া অ-প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পীদের মধ্যে প্রথম হন সঞ্জীব চাকমা। তৈমা তেরেসা ত্রিপুরা দ্বিতীয় এবং শ্রাবন্তী ত্রিপুরা,ডায়না কেরিন ও জেনি চিরান যুগ্মভাবে তৃতীয় স্থানে লাভ করেন।
১৬ বছর এর ঊর্ধ্বে গান প্রতিযোগীতায় প্রথম হন নাথান এল রোনাল্ড । দ্বিতীয় হন অহারুং ত্রিপুরা এবং রবিন ত্রিপুরা তৃতীয় স্থান লাভ করেন।
অন্যদিকে ১৬ বছর এর নিম্নের গান প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রথম হন আদর্শী চাকমা।
নির্মলা চাকমা দ্বিতীয় এবং আর্য্য চাকমা, অর্পণ চাকমা ও খ্যনুসি মারমা যুগ্মভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করেন।
উক্ত আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশ আদিবাসী কালচারাল ফোরামের সাথে ছিলেন পাহাড়ের উদীয়

মান প্রোডাকশন প্রতিষ্ঠান হিল ভ্যালী প্রোডাকশন এবং আদিবাসীদের অনলাইন সংবাদ মাধ্যম আইপিনিউজ। বাংলাদেশ আদিবাসী কালচারাল ফোরামের সাধারন সম্পাদক চন্দ্রা ত্রিপুরা মিডিয়া পার্টনার, প্রতিযোগী এবং দর্শক সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *