করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ আদিবাসী নারীদের জন্য জরুরী ভিত্তিতে বিশেষ তহবিল গঠন ও যথাযথ সুরক্ষার দাবি

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২০ উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আদিবাসী নারীদের উপর করোনার প্রভাব নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ১৩ আগস্ট ২০২০,সকাল ১১টায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ ও বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের উদ্যোগে ‘কোভিড ১৯ মহামারিতে আদিবাসী নারীর জীবন জীবিকা: বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক এই অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব চঞ্চনা চাকমার সঞ্চালনায় এবং বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের ডেপুটি ডিরেক্টর শাহনাজ সুমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ অ্যারোমা দত্ত, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফৌওজিয়া মোসলেম, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জোবাইদা নাসরিন কনা, টিআইবি’র ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য ও আইনজীবি সুস্মিতা চাকমা,আদিবাসী ফোরামের নারী বিষয়ক সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং। উক্ত ভার্চুয়াল আলোচনা স্বাগত বক্তব্য রাখেন নারী প্রগতি সংঘের ডেপুটি ডিরেক্টর শাহনাজ সুমী। ভার্চুয়াল এই আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আদিাবসী নারী নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ফাল্গুনী ত্রিপুরা।

এই করোনায় আদিবাসী নারীরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়েছে বলে শাহনাজ সুমি তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন। তিনি অতিসত্ত্বর আদিবাসীদের জন্য দ্রুত আর্থিক প্রনোদনার জন্য সরকারী ঘোষণার দাবিও জানান।
আদিবাসী ফোরামের সাধারন সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, এই করোনা মহামারীতে আদিবাসীদের আরো বেশি প্রান্তিকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি স্থানীয় প্রশাসনে দায়িত্বরতদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন তাদেরকে আরো বেশি সচেষ্ট হতে হবে যাতে সরকারী অনুদান থেকে আদিবাসীরা বাদ না পড়ে।

সংরক্ষিত নারী সাংসদ অ্যারমা দত্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, এই করোনার দুঃসময়ে আদিবাসীসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীরা কেন ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা খতিয়ে দেখার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
ঢাবি শিক্ষক ড. জোবাইদা নাসরিন কণা বলেন, অনলাইন শিক্ষা গ্রহনের ক্ষেত্রে পাবর্ত্য চট্টগ্রামের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটু ঝুঁকি থেকে যায় কেননা এই এলাকার ছাত্র-ছাত্রীরা সবসময় নজরদারির মধ্যে থাকে। অন্যদিকে সেখানে নেটওয়ার্কের অসুবিধাও অন্যতম সমস্যা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার বলেন, এই মহামারীর সময় ত্রাণ দেওয়ার কাজে আদিবাসীদের অংশীদারিত্ব ্ও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আদিবাসী নারী পুরুষদের অংশগ্রহণ জরুরী। করোনার সময় যে নারীরা ভূমি দখলের শিকার হয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের ন্যায় বিচার চান ড. আইনুন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে এ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা বলেন, সরকারের যে অনুদান তা স্বচ্ছতার অভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় সেই ত্রাণ পৌঁছছে না। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে দুর্গমতার কারণে স্বাস্থ্যসেবা থেকেও আদিবাসীরা বঞ্চিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উক্ত আলোচনায় আদিবাসী ফোরামের নারী বিষয়ক সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং বলেন, আদিবাসীদের প্রথাগত লকডাউন পদ্ধতির কারণে করোনা মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা থেকে বিশেষ করে গর্ভবতী বা প্রসুতি মা বঞ্চিত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফৌজিয়া মোসলেম বলেন, করোনার এই সময় সাধারন মানুষেরই স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হয়েছে সেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীরা বিশেষ করে নারীরা বৈষম্যের শিকার হয়েছে। এজন্য সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উক্ত আলোচনায় মূল বক্তব্যে আদিবাসীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় এককালীন আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদান, আদিবাসী শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝড়ে না পরে তার জন্য আর্থিক সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন এবং সমতল অঞ্চলের আদিবাসদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয়সহ ভূমি কমিশন গঠন ও আদিবাসী নারীসহ সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহ ১২ দফা দাবী উত্থাপন করা হয়।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *