শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পেল সৌন্দর্য সেবা খাত

সৌন্দর্যসেবা খাতকে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের একটি সম্ভাবনাময় শিল্প খাত হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। গত ৭ জুন ২০২০ জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সলিম উল্লাহ জানান, খুব তাড়াতাড়ি এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশিত হবে।

সৌন্দর্যসেবা খাতকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়া নিয়ে তিনি আরো বলেন, সরকার এই সেবা খাতের উন্নয়ন ও প্রসারে আগ্রহী বলে এই ঘোষণা। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে সৌন্দর্যসেবা খাত শিল্প খাতের মর্যাদা পেয়ে থাকে বলে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে আমরাও পিছিয়ে থাকতে চাই না।’

সৌন্দর্য সেবার এই খাতটি সিংহভাগই নারীদের দ্বারা পরিচালিত উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এই অনানুষ্ঠানিক খাতকে মূলধারায় নিয়ে এসে বিভিন্নভাবে সহায়তা করতে চায় সরকার। শিল্প খাতের মর্যাদাপ্রাপ্তির জন্য তাদের সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া করোনাকালে সরকারি প্রণোদনা প্রাপ্তিও সহজ হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এত দিন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন সংস্থাকে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বিল পরিশোধ করতে হয়েছে। কিন্তু এখন আর সেটা হবে না। শিল্প খাতের মর্যাদা প্রদানে প্রধানমন্ত্রী এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই খাতে নিয়োজিত বিউটি সার্ভিস ও নার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএসওএবি) প্রেসিডেন্ট কানিজ আলমাস খান।

তিনি বলেন, প্রায় ছয় দশকের নিরবিচ্ছিন্ন পথচলা এই শিল্পের। কিন্তু এই শিল্পের এত দিন কোনো সুনির্দিষ্ট অবকাঠামো ছিল না। ছিল না কোনো স্বীকৃতি। ফলে নারীবান্ধব এই শিল্পে নারী উদ্যোক্তা তৈরির থেকে নারীর কর্মসংস্থান সেভাবে বিবেচিত হয়নি।

বিউটি সার্ভিস ও নার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএসওএবি) সভাপতি কানিজ আলমাস খান আরও বলেন, শিল্প হিসেবে এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের সৌন্দর্যসেবা খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার জন্যই গর্বের ও সম্মানের। কারণ, এই সেবা খাতের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে আরও একাধিক শিল্প ।

দেশের ৬৪ জেলায় এই শিল্পের আছে ছোট–বড় বিউটি পার্লার, স্যালন ও স্পা। বর্তমানে সারাদেশে নিবন্ধিত পারলারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ। এ ছাড়া পুরুষদের পার্লার ও স্যালন আছে আনুমানিক পাঁচ লাখ। নারীদের পার্লার স্যালন ও স্পার পরিচালনায় উদ্যোক্তা থেকে সেবা প্রদায়ক মিলিয়ে রয়েছেন অন্তত ১০ লাখ নারী। বাংলাদেশের নারী কর্মজীবীদের মোট সংখ্যার ১৮ শতাংশ পারলারে কাজ করছেন। এই খাতের টার্নওভার বর্তমানে পাঁচ শ কোটি টাকা।

কানিজ আলমাস খান এ বিষয়ে আরও বলেন, এ ছাড়া দেশের অনগ্রসর আদিবাসী গারো নারীদের কাজে লাগিয়ে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি তাঁদের জীবনমান উন্নয়নেও অবদান রাখছে এ খাত। স্বাবলম্বী হয়ে অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছে এই সেবাশিল্প খাতে। আরও উল্লেখ্য, এই খাত পরিচালনায় থাকা ৯৯ শতাংশই নারী।

উল্লেখ্য যে, সৌন্দর্যসেবা খাতের সূচনা ১৯৬৩ সালে । চীনা নাগরিকদের হাত ধরে এ দেশে এ শিল্পের পত্তন। তখন এর কোনো নির্দিষ্ট নাম ছিল না। দুই বছর পর নাম দেওয়া হয় মে ফেয়ার। কাছাকাছি সময়ে আরও ছিল হংকং এবং লি বিউটি পারলার। তখন অভিনয়শিল্পী ও অভিজাত পরিবারের নারীরাই সেবা গ্রহণ করতেন। প্রথম দিকে বিয়ের সাজ, চুল কাটার মতো দু-তিনটি সেবা মূলত দেওয়া হতো। স্বাধীনতার পর লিভিং ডল নামে প্রথম বিউটি পার্লার চালু করেন জেরিনা আজগর । তিনি সেবা প্রদানের পাশাপাশি প্রশিক্ষণও দিতেন। এছাড়া ঢাকার বাইরে প্রথম বিউটি পারলার চালু হয় চট্টগ্রামে, লুসি বিউটি পারলার। নব্বইয়ের দশকে এসে বিউটি পারলারের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। ক্রমান্বয়ে এটি রূপচর্চা সেবায় পরিণত হয় এবং নগর সংস্কৃতির নতুন ধারার শুরু হয়।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *