বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নে এখনো খাদ্য-সংকট কাটেনি

লালথান পাংখোয়া: করোনা ভাইরাসের সতর্কতায় গত দু’ মাস ধরে সারাদেশ জুড়ে লকডাউন চলমান থাকায় সাধারণ মানুষ আছে অস্বস্তিতে। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকায় এই লকডাউন গরীব মানুষদের আরো অস্বচ্ছল করে তুলেছে। সরকার সীমিত আকারে লকডাউন তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে রাংগামাটি বিলাইছড়ি বাজারে মানুষের এক আধটু আনা-গোনা দেখা যাচ্ছে।

এইদিকে দুরদূরান্ত থেকে জুমের উৎপাদিত শাক-সবজিসহ বিভিন্ন রকমের ফল-মূল বাজারে বিক্রি করতে দেখা যায় পাহাড়ে জুম চাষীদের।সরকার সীমিত আকারে লকডাউন তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে দু’মাস পর এই প্রথমবার বাজার খুলতে শুরু করেছে রাংগামাটি জেলায় বিলাইছড়ি উপজেলার সদরে। এ সময় বাজার ও দোকানপাটসহ নির্দিষ্ট সময়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খুলতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন পর বাজার চালু করায় পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নিজেদের আয়ের চাকাকে সচল রাখতে বিভিন্ন রকমের শাক-সবজি ও ফলমূল বাজারে বিক্রি করছে জুম চাষীরা।

মোপাছড়া এলাকার কালায়ন চাকমা নামের এক স্থানীয় আইপিনিউজকে বলেন, এই কয়েকদিন খুব সংকটে দিন কেটে গেছে। বাজারে আসতে পারিনি । একদিকে টাকা-পয়সা নেই আর অন্যদিকে বোট এবং কোনো নৌ যানও চলে না। বোট রিজার্ভ করে তো বাজারে যাওয়া সম্ভব নয়।কয়েকটা শাক-সবজি নিয়ে আসছি, বিক্রি করে যা পাবো চাল-ডাল নিয়ে বাড়ি ফিরবো বলে জানান তিনি।

সবকিছু স্বাভাবিক হতে চললেও এদিকে বিলাইছড়ি উপজেলায় ফারুয়া ইউনিয়নের শুকনাছড়ি ও মঙ্গলচাঁদ ত্রিপুরা পাড়া নামের দুটি গ্রাম খাদ্য- সংকটে দিন পার করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শুকনাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা রুংনাজন ত্রিপুরা নামের এক ব্যক্তি আইপিনিউজকে বলেন, গত ২-৩দিন ধরে ঘরে খাবার নেই। তাই জঙ্গলে বাঁশ কোরল ও আলু খেয়ে দিন পার করছি। এলাকার মানুষ যতটুকু পারছে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে বলেও জানান তিনি। তারাও কতদিন সহযোগীতা করতে পারবে, সবার তো মোটামুটি একই অবস্থা বলেও দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন তিনি।

শুকনাছড়ি গ্রামের কার্বারী রামাবাহাদুর ত্রিপুরা আইপিনিউজকে বলেন, আমার গ্রামে ২৩টি পরিবার আছে তার মধ্যে ১৬টি পরিবার খাদ্য-সংকটে খুব অসহায়ভাবে দিন পার করছে।আমরা চেষ্টা করেছি সবাই তাদের পাশে দাড়ানোর। কিন্তু আমরা কতদিন পারবো সবাই তো একই অবস্থায় আছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের গ্রামটি মূলত দিন মজুরির ওপর নির্ভরশীল কিন্তু এই মুহূর্তে সব গ্রামে লকডাউন চলছে তাই অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্যগ্রামে যাতায়াত করা সম্ভব নয়। তাই আমাদের আয়ও নেই অনেকদিন ধরে। এমন কঠিন পরিস্তিতির কথা জানান তিনি।

এদিকে একই ইউনিয়নের মঙ্গলচাঁদ ত্রিপুরা পাড়া সহ বিভিন্ন পাড়ায় খাদ্য সংকট তীব্রটা পেয়েছে বলেও জানালেন স্থানীয়রা। বিলাইছড়ি সদর ও ফারুয়া ইউনিয়নের কয়েকটা প্রান্তিক গ্রাম পাহাড়ের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ ‘বনফুলের জন্য জুম্ম তারুণ্যের ভালোবাসা’ থেকে সহায়তা পেলেও আরো অনেক পাহাড়ী মানুষ অসহায়ভাবে দিনাতিপাত করছে বলে জানান স্থানীরা।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *