সীতাকুণ্ডে ত্রিপুরা পাড়া উচ্ছেদ আতংকঃ ডিসিকে সিএইচটি কমিশনের চিঠি

গত ১৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলার ডিসিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন একটি চিঠি পাঠায়। উক্ত চিঠিতে সীতাকুন্ডে জিপিএইচ ইস্পাত কোম্পানী কর্তৃক উচ্ছেদ আতঙ্কে নিমজ্জিত ৩০ ত্রিপুরা পরিবারের আইনানুগ নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ উচ্ছেদ প্রতিরোধ এবং চলাচলের রাস্তা ও নিত্য ব্যবহার্য পানির একমাত্র সম্বল পুকুরটি দখলমুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও স্থানীয় সূত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন জানতে পারে যে, ইস্পাত শিল্প প্রতিষ্ঠান জিপিএইচ কোম্পানী কর্তৃক চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ৩০টি পরিবারকে উচ্ছেদ কল্পে তাদের চলাচলের রাস্তাসহ নিত্য ব্যবহার্য পানির একমাত্র সম্বল পুকুরটিও দখল করে রাখা হয়েছে। এছাড়া খাবার পানির একমাত্র উৎস পাহাড়ি ছড়ার ওপর উক্ত কারখানা কর্তৃক বাঁধ দেওয়ার কারণে বর্তমানে ত্রিপুরা পরিবারগুলো চরম মানবেতর অবস্থায় যে কোন সময়ে ভিটে থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আতঙ্ক নিয়ে দিনাতিপাত করছে। শিল্পায়নের নামে জিপিএইচ কোম্পানী কর্তৃক এই ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীকে তাদের বসতভিটা থেকে বলপূর্বক উচ্ছেদ চেষ্টার ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানাচ্ছে। একইসাথে এই ৩০ পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও কমিশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর পরিবারগুলো গত ৫০ বছর ধরে সীতাকুন্ড পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করে আসছেন। কারখানা সম্প্রসারণের নামে জিপিএইচ কোম্পানী ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তাসহ পুকুর ও ছড়ার পানি বন্ধ করে দিয়ে প্রকৃত পক্ষে তাদের বসতি থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের তিন জন কো-চেয়ার সুলতানা কামাল, এলসা স্টামাতোপৌলৌ ও মির্নাকানিংহাম কেইন স্বাক্ষরিত উক্ত চিঠিতে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড পাহাড়ের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও বসতির অধিকার নিশ্চিতের জন্য দুটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এক, সীতাকুন্ড পাহাড়ের ৩০ ত্রিপুরা পরিবারের নিরাপত্তাসহ তাদের স্ব-স্ব ভিটায় বসবাস করার অধিকার নিশ্চিতকরণের জন্য প্রশাসন কর্তৃক দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং এ লক্ষে পরিবারগুলোর নামে সরকারি জমি বন্দোবস্ত প্রদান করা। একইসাথে তাদের সব ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং দুই, জিপিএইচ কোম্পানীর এ ধরনের দখল প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *