বাগদাফার্ম ভূমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ডিসি বরাবর স্মারকলিপি

মহাত্মন,

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা!

জনাব,
আপনি জানেন যে, ১৯৫৪ সালের গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকল প্রতিষ্ঠিত হয়। আঁখ উৎপাদনের লক্ষ্যে চিনিকল কতৃপক্ষ ১৯৫৫ সালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম এলাকার আশপাশের প্রায় ১৮৪২.৩০ একর জমি রিকুইজিশন করে। রিকুইজিশনকৃত অধিকাংশ জমি আদিবাসী সাঁওতালদের ছিল। ১৯৬২ সালে তৎকালিন পাকিস্থানের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা এবং রংপুর ডিসির সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৪৮ সালের সম্পত্তি রিকুইজিশন আইনের আলোকে। সেই চুক্তির ৫ নং ধারায় বলা হয় যে, “ রিকুইজিশনকৃত জমি শুধুমাত্র রংপুর চিনিকলের কাঁচামাল হিসেবে আঁখ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হবে। আঁখ ব্যাতিত অন্য কোন অর্থকরি ফসল উৎপাদিত হলে জমির প্রকৃত মালিকদের ক্ষতিপূরণসহ জমি ফেরত দেওয়া হবে”। কিন্তু ২০০৪ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মিল কতৃপক্ষ নাম মাত্র দামে রিকুইজিশনকৃত জমি লিজ দিতে শুরু করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে। তখন আদিবাসীরা মিল কতৃপক্ষে এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে থাকে। রিকুইজিশনকৃত জমি প্রকৃত মালিকদের ফেরত দিতে বারবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এমপি, জেলা প্রশাসকের কাছে স্বারকলিপি প্রদান সহ আবেদন করেন আদিবাসীরা। ২০১৪ সালের নির্বাচনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এমপি, প্রশাসন জমি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় আদিবাসীদের। কিন্তু নির্বাচনের পরে আদিবাসীদের জমি ফেরত দেওয়া হয় নি। আদিবাসীরা তখন রিকুইজিশনকৃত জমিতে চালাঘর তৈরী করে বসবাস শুরু করে। ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর মিল কতৃপক্ষ তাদের কর্মচারি, স্থানীয় নেতাকর্মী এবং তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সাঁওতালদের উপর আক্রমন করে। ঘর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের এক পর্যায়ে সাঁওতালদের উপর পুলিশ গুলিবর্ষন করে। ঘটনা স্থলেই নিহত হন শ্যামল হেমব্রম, মঙ্গল মার্ডি এবং রমেশ টুডু।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আদিবাসীদের দাবিসমুহ:
১. গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্মের ১৮৪২.৩০ একর অধিগ্রহনকৃত জমি আদিবাসীদের ফিরিয়ে দিতে হবে।
২. আদিবাসীদের সম্পত্তি রিকুইজিশন বাতিল করতে হবে।
৩. সাঁওতালদের উপরে আক্রমন, অগ্নিসংযোগ, গুলিবর্ষন এবং বাড়িঘরে লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক এবং পুলিশের গুলিতে নিহত এবং আহত সাঁওতাল পরিবারগুলোকে ক্ষতিপুরন দিতে হবে।
৪. ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসী এবং বাঙালিদের উপর সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের উপর পুলিশ এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সকল প্রকার হয়রানী বন্ধ করতে হবে।
৫. ১৯৪৮ সালের পূর্ববঙ্গ সম্পদ রিকুইজিশন আইন অনুয়াযী জমি পূনরুদ্ধার চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।
৬. আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত পুলিশ সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
৭. ২০০৪ সালে রংপুর চিনিকল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এর টাকা দুর্নীতি এবং আত্মসাতের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।

আদিবাসী সাঁওতালদের জমি তাদেরকে ফিরিয়ে দেবার দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে, স্থানীয় জনগণ স্বাক্ষর প্রদান করে।

আমাদের প্রত্যাশা, আপনি স্থানীয় জনগণের এসব দাবির কার্যকর বাস্তবায়নে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এলক্ষ্যে আপনার কর্তৃক গৃহিত যে কোন উদ্যোগ বাস্তবায়নে এই জোট সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের পক্ষে
বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়
সাংগঠনিক সম্পাদক
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ

কেন্দ্রীয় কমিটি রাজকুমার শাও
নির্বাহী সদস্য
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ
কেন্দ্রীয় কমিটি

সংযুক্তি: সংহতি স্বাক্ষর কপি
২৪শে ডিসেম্বর, ২০১৯, গাইবান্ধার

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *