ওয়ার্কার্স পার্টিকে নিজ শক্তিতে দাঁড়াতে হবে- রাশেদ খান মেনন

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ২-৫ নভেম্বর ৪ দিনব্যাপী কংগ্রেসের উদ্বোধনী সমাবেশ আজ ২ নভেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে সকাল ১১টায় শুরু হয়। জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা পার্টির সভাপতি জননেতা রাশেদ খান মেনন এমপি’র সভাপতিত্বে শুরু হয়। মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, কমরেড অধ্যাপক ড. সুশান্ত দাস, কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক, কমরেড হাজেরা সুলতানা, কমরেড নুর আহমদ বকুল, কমরেড কামরূল আহসান, কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপ, কমরেড এ্যাড. মোস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনা রাষ্ট্রদূত মাননীয় মিনিস্টার অব কাউন্সিলর মি: ইয়ান হুয়ালং। উত্তর কোরীয়া মান্যবর রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি জননেতা শরীফ নুরুল আম্বিয়া, ঐক্য ন্যাপের সহ সভাপতি এ্যাড. আব্দুস সবুর, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, জনসংহতি সমিতির মুখপত্র দীপায়ন খীসা। শান্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবুল কাসেম।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ৫৭টি কমিউনিস্ট পার্র্টি, সোশালিস্ট পার্টি সংহতি ও অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি পাঠিয়েছে। আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতের গণশিল্পী সংস্থা কমরেড এ্যাড. মিনা মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এক ঘন্টার গণ সংগীত পরিবেশিত হয়।

সমাবেশে রাশেদ খান মেনন বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের শতবর্ষ পূর্তিতে আজকে আমাদের পার্টির ১০ম কংগ্রেস একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। কমিউনিস্ট আন্দোলন নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়েছে এই উপমহাদেশে, বাংলাদেশও তার ব্যক্তিক্রম না। এদেশের মুক্তিযুদ্ধ বুঝতে পারা না পারা একটা বড় ক্ষত হয়ে রয়েছে কমিউনিস্টদের মধ্যে। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সে ভুল করেনি। মুুক্তিযুদ্ধের ভিতরে মাঠের যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকেই ওয়ার্কার্স পার্টির ভ্রæণ সৃষ্টি হয়েছিল। আজকে তা মহীরুহ হয়েছে। বিভক্ত কমিউনিস্ট আন্দোলনকে ঐক্যবদ্ধ করেছে এই পার্টি। ওয়ার্কার্স পার্টি হচ্ছে ঐক্যের পার্টি। এদেশের বামপন্থী আন্দোলনকে প্রতিটি শাসক গোষ্ঠীই ভয়ের চোখে দেখেছে, ফলে পার্টির উপর আক্রমণ প্রায়ই সময় ঘটেছে। আমাদের পার্টিও সেই আক্রমণের শিকার হয়েছে। পার্টি নেতৃত্বকে হেয় করা, পার্টির উপর শারিরীক আক্রমণ, মিথ্যা মামলাসহ সমস্ত হাতিয়ারই রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে। তবে এটা নিশ্চিত সত্য এদেশের কমিউনিস্ট কর্মীরা মানবমুক্তির লড়াইয়ে, সমাজ বদলের লড়াইয়ে, এমনকি সাধারণ গণতান্ত্রিক সংগ্রামে জীবন দান করতে পিছপা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা আন্দোলনে বহু কমিউনিস্ট কর্মী অংশ নিয়েছে জীবনও দিয়েছে।

মেনন বলেন, বাংলাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে এটা যেমন দৃশ্যমান তেমনি বৈষম্য দারিদ্র্যতাও দৃশ্যমান। দুর্নীতি বিরোধী শুদ্ধি অভিযান জনগণ স্বাগত জানাচ্ছে দুর্নীতি মুক্ত উন্নয়ন কামনা করছে, দুর্নীতি মুক্ত দেশ চাচ্ছে, আর তা পেতে হলে এই রাষ্ট্র ব্যবস্থা সর্বোপরি সমাধান দিতে পারবে না। রাষ্ট্র ব্যবস্থা বদল হলেই টেকসই উন্নয়ন হবে। তার পরেও দুর্নীতি মুক্ত লড়াই এর সঙ্গে আমরা আছি।

জনাব মেনন সমসাময়িক কালে ক্যাসিনো কান্ড নিয়ে বলেন, আমার চরিত্র হনন করার জন্য বিশেষ শক্তি, দুর্নীতিবাজ, কালোটাকার মালিক, যারা কমিউনিস্ট শক্তির বিকাশ চায় না তারা এই ঘটনার সঙ্গে আছে; আমার জীবনে এরূপ অপবাদ দক্ষিণপন্থার দিক থেকে যেমন এসেছে তেমনি বামপন্থার দিক থেকেও এসেছে। আমাকে কখনও মুরতাদ, কখনও মার্কিনী দালাল বানানো হয়েছে; আমার রাজনৈতিক জীবনে একজন কমিউনিস্ট কর্মী হিসেবে কখনও ভয় পাই নি, এখনও পাই না। তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে উদাত্ত আহ্বান জানান, তার অনুপস্থিতিতে তার পার্টি যেন জনগণের লড়াইয়ের পাশে থাকে। এদেশে বিপ্লব অনিবার্য, ওয়ার্কার্স পার্টিকে জনগণের বিপ্লবী পার্টি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
উদ্বোধনী অধিবেশনে আগত সকল অতিথি, কর্মীদের তিনি শুভেচ্ছা জানান।

ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, একটি পার্টি একদিনে ভাঙ্গা যায় কিন্তু একদিনে গড়া যায় না। আমাদের পার্টিটি তিল তিল করে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের ঘাম শ্রম এবং কর্মীদের সাহস পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে, ঐক্য সংগ্রাম-ঐক্যের মধ্য দিয়ে আন্তসংগ্রামের মধ্য দিয়ে পার্টি প্রাণ পেয়েছে। অতি বামপন্থার বিপ্লবী হঠকারীপনা কখনই ভালো জিনিষ নয়। সময়, রাজনীতির বাকমোড়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হয়। বন্ধ্যা তত্ত্ব দিয়ে সময় রাজনীতি এগোয় না, বাস্তবতা মানতে হবে। আমাদের পার্টি নিয়ে নিজ পায়ে, নিজ শক্তিতে দাঁড়াতে হবে। জনগণের সকল সংগ্রামে পার্টি কর্মীরা অংশগ্রহণ করে পার্টির নেতা ও জনগণের নেতা হবেন। জনগণের নেতা না হলে পার্টির নেতা হওয়া যায় না। এদেশে বিপ্লবী পরিস্থিতি থাকলেও সাম্রাজ্যবাদী চক্রের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের জাল বিছানো আছে; আমাদের কর্মীদের সেই জাল ছিন্ন করে বিপ্লবের পথ প্রশস্থ করতে হবে। নির্বাচনী সংগ্রাম শুধুমাত্র বুুর্জোয়াদের মত ক্ষমতার ভাগ খাওয়া না, কমিউনিস্টদের কাছে নির্বাচনী সংগ্রামকে শ্রেণী সংগ্রামের বিবেচনায় কাজ করতে হবে। নইলে ভাবদর্শগতভাবে জনগণে নির্বাচনী অধিকার ও ক্ষমতার অধিকারের আন্ত সম্পর্ক বুঝতে হবে। ছোট ছোট হাজারো অধিকারের লড়াই পার্টি কর্মীদৈর গড়ে তুলতে হবে। ঐ পথেই পার্টি বিকশিত হবে, মাঠের ঐক্য বিস্তৃত হবে।

আগামীকাল থেকে বিকেল ৩টায় কংগ্রেসের উপলক্ষে কাকরাইলে অবস্থিত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে ধারাবাহিক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *