আদিবাসী ইস্যুতে সাংবাদিকদের সম্মাননা দিল আইইডি

আদিবাসী ইস্যুতে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের জন্য দ্বিতীয় বারের মতো সাংবাদিকদের সম্মাননা দিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি) । আজ ২০ জুন ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে সাংবাদিকদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও আইইডি’র সহকারী সমন্বয়কারী হরেন্দ্রনাথ সিংয়ের সঞ্চালনায় সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, জনউদ্যোগের যুগ্ম আহবায়ক লুনা নূর, শিশু কিশোর সংগঠক ডা. লেলিন চৌধুরী, দৈনিক খোলা কাগজের সম্পাদক ড. কাজলরশীদ শাহীনএবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সহসাধারণ সম্পাদক ডা. গজেন্দ্রনাথ মাহাতো।

শুরুতে আইইডি’র সমন্বয়কারী জ্যোতি চট্টোপাধ্যায় স্বাগত বক্তবে বলেন, আইইডি প্রথমবারের মতো আদিবাসী ইস্যুতে সাংবাদিকদের সম্মাননা প্রদান করছে। এটি একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমরা মনে করি, তারপরও আদিবাসী ইস্যুতে এ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রতিষ্ঠান,সমাজ ও রাষ্ট্রকে সংবেদনশীল হতে সহায়তা করবে।
সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার রাজিব নূর বলেন, আগামীতে সাংবাদিকদের সম্মাননার সময় পুরস্কারের অর্থ বাড়ালে ভাল হয়। একইভাবে ঢাকার বাইরে থেকে সাংবাদিকদের যাতায়াতের ব্যয় বহন করলে তাদের কাজের পরিধি আরো বাড়বে।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সহসাধারণ সম্পাদক গজেন্দ্রনাথ মাহাতো, আইইডি’আদিবাসী ইস্যুতে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সম্মানিত করছে। এটি ভালো উদ্যোগ।
দৈনিক খোলা কাগজের সম্পাদক ড. কাজল রশিদ শাহীন বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আগে আমার ধারণা ছিলনা। এটি শোনার ফলে আমার নিজের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সবাই মিলে এই কাজ এগিয়ে নেওয়া দরকার।এই অনুষ্ঠান সমাজ ও রাষ্ট্রে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে আগামীতে আদিবাসীদের ব্যাপারে সরকারেরও সুদৃষ্টি পড়বে।

জনউদ্যোগের য্গ্মু আহবায়ক লুনা নুর বলেন, আইইডি আদিবাসী বিষয়ে প্রতিবেদনের জন্য সাংবাদিকদের সম্মানিত করছে। এটিও একটি ন্যায্য লড়াই। আদিবাসীরা ন্যায়বিচার থেকে বি ত হচ্ছেন, তাদের বিষয় জাতির সামনে তুলে ধরছেন। এই সম্মাননা আমাদের সকলের পাশাপাশি চলার গতি বৃদ্ধি ও সৌহার্দ্য সৃষ্টি করবে।

সবাইকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শিশু কিশোর সংগঠন ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বাঙালি যত বেশি আদিবাসীদের সাথে মেলবন্ধন ঘটাবে, ততই তারা শেকড়ের কাছে যেতে পারবে। আমাদের নৃতাত্তি¡ক বৈশিষ্ট্য খুঁজতে হলে আদিবাসীদের কাছেই যেতে হবে। এটিই বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস। এ জন্য নানাদিক থেকে আদিবাসীদের পর্যবেক্ষণ ও অনুধাবন করা দরকার। জাতীয়ভাবে আদিবাসী বিষয়ে গবেষণা হওয়া উচিত।

পৃথিবীব্যাপী আদিবাসী লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস ও ঘটনাপুঞ্জি উল্লেখ করে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, ৮০’ দশকের পর বিশ^ব্যাপী আদিবাসী আন্দোলন বেগবান হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ডে আদিবাসী সংসদ গঠিত হয়েছে। সদিচ্ছা থাকলে আমাদের দেশে আদিবাসীদের নিয়ে অনেক কাজের সুযোগ আছে। তিনি আরো বলেন, কবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও বিবেকবান মানুষ নিরব হলে এগিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা আমরা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবো। পাহাড়, বন, ঝর্ণা, নদী, উজাড় হলে আমরা কেউই বাঁচবো না। ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা চিন্তা করে প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষা করা প্রয়োজন।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *