অধিগ্রহণকৃত সাহেবগঞ্জ- বাগদাফার্মের জমি ফিরিয়ে দেবার দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ

‘রংপুর (মহিমাগঞ্জ) সুগার মিলের’ জন্য অধিগ্রহণকৃত সাহেবগঞ্জ- বাগদাফার্মের ১৮৪২.৩০ একর জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া প্রান্তিক চাষি ও আদিবাসীদের নিকট রেস্টোরেশনের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেবার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। ৩১ আগষ্ট বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী এডভোকেট সুলতানা কামাল, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঐক্যন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির, শামসুল হুদা, নূমান আহম্মদ খান, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, রোবায়েত ফেরদৌস, সঞ্জীব দ্রং , রবীন্দ্রনাথ সরেন, শাহ-ই-মবিন জিন্নাহ, জিয়াউদ্দিন তারেক আলী, দীপায়ন খীসা, জাকির হোসেন ও গবেষক পাভেল পার্থ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৫নং সাপমারা ইউনিয়নের রামপুর, সাপমারা, মাদারপুর, নরেংগাবাদ ও চকরহিমাপুর মৌজার ১৮৪২.৩০ একর ভূমি ‘রংপুর (মহিমাগঞ্জ) সুগার মিলের’ জন্য অধিগ্রহণের নামে কেড়ে নেয় তৎকালিন পূর্ব-পাকিস্তান সরকার। এলাকাটি সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম নামে পরিচিত। অধিগ্রহণের ফলে ১৫টি আদিবাসী গ্রাম ও ৫টি বাঙালি গ্রাম উচ্ছেদ হয়। কথা ছিল অধিগ্রহণের নামে গ্রামের মানুষের কাছ থেকে জোর করে কেড়ে নেয়া এই জমিনে আখচাষ হবে। আখ ভিন্ন অন্য কোনো ফসল চাষ করা হলে বা চিনিকলের উদ্দেশ্যের সাথে সম্পর্কহীন কোনো কিছু করা হলে কেড়ে নেয়া এসব জমি আবারো ভূমি মালিকদের ফিরিয়ে দেয়া হবে। অধিগ্রহণের পর বেশ কিছু জমিনে আখ চাষ হয় এবং আখ ব্যবহার করে চিনিও উৎপাদিত হয়। কিন্তু চিনিকল কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি ও অব্যস্থাপনার কারণে ৩১ মার্চ ২০০৪ সালে কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে নানা সময় একবার চালু হয়, আবার বন্ধ হয় এভাবেই চলতে থাকে। চিনিকল কর্তৃপক্ষ নানাভাবে অধিগ্রহণকৃত জমি বহিরাগত প্রভাবশালীদের কাছে ইজারা দিতে শুরু করে। অধিগ্রহণের চুক্তি লংঘন করে কেবলমাত্র আখ চাষের জন্য বরাদ্দকৃত জমিতেধান, গম, সরিষা ও আলু, তামাক ও হাইব্রিড ভূট্টাচাষ শুরু হয়। জন্মমাটি থেকে উদ্বাস্তু আদিবাসী ও বাঙালিরা পুরো ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আনে। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৫ সনের ৩০ মার্চ গাইবান্ধা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম এলাকা সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তকালে তারা উল্লিখিত জমিতে ধান, তামাক ও মিষ্টি কুমড়ার আবাদ দেখতে পান। কিন্তু গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন ১০ মে ২০১৬ তারিখে উক্ত ভূমিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন সরকার বরাবর। বাপ-দাদার জমিনে অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবিতে আদিবাসী-বাঙালি ভূমিহীনদের তৈরি হয়েছে দীর্ঘ আন্দোলন। আন্দোলন দমাতে চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন ভূমিহীনদের সংগ্রামে হামলা-মামলার বাহাদুরি চালাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের উপর নির্বিচার গুলি চালিয়েছে প্রশাসন, গুলিবিদ্ধ ৪জন ও আহত অনেক নারীপুরুষ। কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন আন্দোলনকারী ৫১ জনের নামে ৪টি বানোয়াট মামলা দিয়েছে। গাইবান্ধা জেলে এখনও আটক নিজভূমি প্রত্যাশী ৪ জন। ১৯৬২ থেকে ২০১৬, দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে চিনি উৎপাদনের অজুহাতে রাষ্ট্র সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মের ভূমি উদ্বাস্তু হাজারো মানুষের সাথে বর্ণবাদী অন্যায় করে চলেছে। ঘটনাটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সংবিধান, মানবিকতা ও আইন সবকিছুই লংঘন করে চলেছে। বর্তমানে উক্ত ভূমিতে বসবাসরত প্রায় ২০০০ পরিবার আদিবাসী- প্রান্তিক কৃষকগণ প্রতিনিয়ত মামলা, হামলা ও হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। ভূমিখেকোদের অব্যাহত হুমকি তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের সহায়তায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহল প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করছে।

বিবৃতিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার দাবি করেন। সেই সাথে বসবাসরত দরিদ্র-প্রান্তিক আদিবাসী ও বাঙালিদের যেন কোনোভাবেই হেনস্থা করা না হয় সে বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *