পর্যটনের নামে আদিবাসী উচ্ছেদের প্রতিবাদে সমাবেশ অনুষ্ঠিত

২৫ আগস্ট ২০১৬ ইং তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখা কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা পাদদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন দ্রুত কার্যকর করা এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলায় পর্যটনের নামে বেআইনীভাবে ৭০০ একর জমি অধিগ্রহণ করার প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবিতে ও খাগড়াছড়িতে জুম্মদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে আবার অপরাজেয় বাংলায় এসে শেষ হয় এবং সেখানেই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সুলভ চাকমার সঞ্চালনায় এবং সভাপতি ক্যারিংটন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী জিনেট চাকমা, রুনি চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখার তথ্য ও প্রচার সম্পাদক অমর শান্তি চাকমা, অর্থ সম্পাদক টনক তঞ্চঙ্গ্যা, দপ্তর সম্পাদক নিপন ত্রিপুরা, ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি লালন ত্রিপুরা, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি সুমন মারমা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অনন্ত বিকাশ ধামাই প্রমুখ।
IMG_7997-001
বক্তারা বলেন, খাগড়াছড়ি জেলার আলুটিলায় দীর্ঘকাল থেকে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস। সেখানে পর্যটন সম্প্রসারণের নামে ৭০০ একর জমি বেদখল করে পাহাড়ী আদিবাসীদের উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিন পার্বত্য জেলায় এভাবে একের পর এক ভূমি পর্যটনের নামে দখল করা হয়েছে। শুধু আলুটিলা নয়, বান্দরবানের কাপ্রু ম্রো পাড়া থেকে ৬০ একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে ২০০ ম্রো পরিবারকে উচ্ছেদ করে নীলগিড়ি নামে পর্যটন কেন্দ্র করা হয়েছে, সেপ্রু পাড়া থেকে ৬০০ একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে ১২৯ ম্রো পরিবার উচ্ছেদ করে জীবননগরে সেনাক্যাম্প করা হয়েছে। এভাবে চন্দ্রপাহাড়ের ৫০০ একর, ক্রাউডং পাহাড়ের ৫০০ একর, নীলাচলের ২০ একর, রাঙ্গামাটির সাজেকের রুইলুই গ্রামের ৬৫ ত্রিপুরা পরিবারকে উচ্ছেদ করে পর্যটন কেন্দ্র করা হয়েছে। এভাবে প্রতিনিয়ত পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের নামে পার্বত্য এলাকার জুম্ম আদিবাসীদের যুগ যুগ ধরে বসবাসরত ভিটেমাটি, ভোগদখলকৃত জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে।
বক্তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে ভূমি সমস্যা অন্যতম। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সম্প্রতি মন্ত্রীসভায় সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত এবং রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ নং-১, ২০১৬ পাশ হয়েছে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন আইনকে বানচাল করার জন্য উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর একের পর এক অপতৎপরতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পুনরায় অশান্ত হয়ে উঠছে।
বক্তারা অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন আইন কার্যকর করা এবং বেআইনীভাবে ভূমি বেদখল বন্ধ করার দাবি জানান। সারাদেশে আদিবাসীদের উপর চলমান ভূমি বেদখল বন্ধ করা না হলে আগামীতে ভূমি বেদখল বিরোধী বিশাল ছাত্র সমাবেশসহ কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে বলেও বক্তারা হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *