মতামত ও বিশ্লেষণ

সীতাকুন্ডে নয়াউদারবাদী আগুন- পাভেল পার্থ

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আগের রাতে বিস্ফোরিত হয় সীতাকুন্ড। এবারের পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল, একটাই পৃথিবী, প্রকৃতির ঐক্যতানে টেকসই জীবন। সীতাকুন্ড বিস্ফোরণে নিদারুণভাবে নিহত হয়েছেন ৪১ জন, ফায়ার সার্ভিসের চারসদস্যসহ নিখোঁজ কয়েকজন এবং ঢাকা-চট্টগ্রামসহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১২৮ জন (সূত্র: দেশ রূপান্তর, ৭/৬/২২)। হাইড্রোজেন পার অক্রাাইড বিস্ফোরণেই এমন নিদারুণ পরিস্থিতি। নিমতলীর রাসায়নিক বোঝাই গুদামঘর, সেজান জুস কারখানা থেকে সীতাকুন্ড ডিপো। একের পর এক প্রশ্নহীন আগুন। নিমিষেই অঙ্গার টাটকা জীবন। চুরমার সংসার, বিশৃংখল পরিবার। তদন্ত হচ্ছে, বিশেষজ্ঞ কমিটি সুপারিশ করে, মামলা হয়, ক্ষতিপূরণ কিছু দেয়া হয় কিংবা কিছু ধড়পাকড় হয় কিন্তু এক নিরাপদ ব্যবস্থার ভিত্তি মজবুত হয়না। তাজরীন, রানা প্লাজা, নিমতলী, সেজান কারখানা কী সীতাকুন্ড ডিপো বিস্ফোরণে প্রশ্নহীন প্রাণহানিকে অনেকেই বলেন ‘কাঠামোগত হত্যাকান্ড’। তবে কাঠামো বিশ্লেষণে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক সংগঠন, দুর্নীতি, অবহেলা, উদাসীনতা, দায়হীনতাকেই মূলত সেসব আলাপে টানতে দেখা যায়। বিশ্বায়িত বাজার, করপোরেট বাহাদুরি কিংবা নয়াউদারবাদী ভোগবাদ সেসব কাঠামোয় প্রবলভাবে আড়াল হয়ে থাকে। অথচ এসব বিস্ফোরণ এবং প্রাণহানির অতলে পোক্ত হয়ে আছে আমাদের নয়াউদারবাদী করপোরেট ভোগবাদ। সীতাকুন্ডেও সম্প্রতি বিস্ফোরণের মূলে আছে হাইড্রোজেন পার অক্সাইডসহ নানা বিপদজনক রাসায়নিক। কর্তৃপক্ষ কেন অনুমতি দিল কি দিল না, আইনে কি আছে নেই, কে কত টাকার মুনাফা কামাচ্ছে এরকম অবৈধ বাণিজ্যে, কার কি গাফিলতি আছে কি নেই এসব তর্কই মূলত সকল বিস্ফোরণের ময়দান ঘিরে রাখে। কিন্তু একটিবারও আলাপে আসে না কেন হাইড্রোজেন পার অক্সাইড আমাদের দরকার? এ দিয়ে কী বানায়? আর সেইসব পণ্য ব্যবহার না করেও কি দুনিয়ায় বেঁচে থাকা সম্ভব? দুনিয়াব্যাপি ধনীদের বিলাসী জীবনে দরকার বলেই এসব রাসায়নিক তৈরি হয়, মজুত হয় এবং বিক্রি হয়। আর এসব পণ্য ভোক্তার কাছে বিক্রি করে করপোরেট কোম্পানিরা। এখন এমন রাসায়নিক উৎপাদন, মজুত, পরিবহনে নানা রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক কাঠামোগত বৈষম্য আছে বলেই নানা সময়ে বিস্ফোরণ ঘটে। মূলত শ্রমিক শ্রেণির কিছু গরিব মানুষ মারা যায়। গণমাধ্যম কিছুটা সরব হয় আর আমরা প্রতিবার বিচার চাই। সবধরণের নিরাপত্তা কারিগরি বহাল রেখে সবসময় হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের মতো রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা করা নাও যেতে পারে। তার মানে এখানে প্রাণ ও প্রতিবেশগত ঝুঁকি থাকছেই। কিন্তু আমরা কেন বিপদজনক রাসায়নিক বিহীন আমাদের কোনো জীবন চিন্তা করতে পারিনা? যেমন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড একদম আমাদের যতটুকু উৎপাদন না করলেই নয় ততটুকুই করা হলো। তাও কেবল জীবন ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনা খাতের জন্য। আমরা কি বিপদজনক রাসায়নিকমুক্ত উৎপাদনব্যবস্থা, মজুত, বিপণন ও নাগরিক ভোগের কোনো সামগ্রিক পরিকল্পনা করতে পারি? জানা যায়, বিশ্বের উৎপাদিত হাইড্রেজেন পার অক্সাইডের ৬০ ভাগ ব্যবহৃত হয় কাগজ ও মন্ড কারখানায়। মার্কিন অক্সিক্লীন ও টাইড ব্র্যান্ড বিপুল পরিমাণে এই রাসায়নিক ব্যবহার করে গৃহস্থালী পরিস্কারক, ডিটারজেন্ট, ব্লিচিং তৈরিতে। সীতাকুন্ড বিস্ফোরণের পর, পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানায়, পুড়ে যাওয়া ৪০০ কন্টেইনারে এইচএন্ডএম, এমবিএইচ, টপগ্রেড ও গ্যাস্টন ব্র্যান্ডের পণ্য ছিল। তো সীতাকুন্ড বিস্ফোরণের দায় কী কেবল এককভাবে কোনো ব্যাক্তি, কর্তৃপক্ষ বা কাঠামোর? দুনিয়া কাঁপানো করপোরেট কোম্পানির কী এমন বিস্ফোরণ ও প্রাণহানিতে কোনো দায় নেই? রানা প্লাজা হত্যাকান্ডেও নয়াউদারবাদী করপোরেট বস্ত্রভোগবাদিতাকে আমরা তুমুলভাবে প্রশ্ন করতে পারিনি। আজ আমরা চাই বলেই করপোরেট ব্র্যান্ডের কাপড় কিংবা পানীয় কারখানা, নিমতলী কিংবা সীতাকুন্ড বোঝাই থাকে রাসায়নিকে। কারণ ভোক্তা হিসেবে আমরা নিজেদের এই করপোরেট বাজারের জন্যই প্রস্তুত করছি অবিরাম। আর তাই এই বাজার প্রশ্নহীন বিস্ফোরণ কী প্রাণহানি ঘটিয়ে কেবল মুনাফাকেই মেদবহুল করছে।

বিস্ফোরিত সীতাকুন্ড

বিজ্ঞাপণ

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ চট্টগ্রামকে এখন অনেকই পরিচয় করান ‘বন্দরনগরী’। আর এই বন্দর আজ বিস্ফোরণের বিপদে বোঝাই। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ও চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩০ কিমি. দূরে কদমরসুলে ২৬ একর জায়গায় স্থাপিত একটি আইসিডি হলো ‘বিএম কন্টেইনার ডিপো’, সম্প্রতি যেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। গণমাধ্যমসূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডেসের দুটি প্রতিষ্ঠানের ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে ২০১১ সনে এটি চালু হয়। জানা যায়, এখানে স্মার্ট গ্রুপেরও অংশীদারিত্ব রয়েছে। সীতাকুন্ড বিস্ফোরণে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড স্মার্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আল-রাজী কেমিক্যাল কোম্পানির। স্মার্ট গ্রপের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেই একটা আনন্দময় হাসিমুখ মানুষের ছবি ভেসে ওঠে। সেখানে লেখা, প্রতিটি মুখে হাসি ফোটাতে আমরা কঠোর পরিশ্রম করি’। কিন্তু নিদারুণভাবে সেইসব হাসিমুখ আজ অঙ্গার ও দগ্ধ। অনেক মুখ নিখোঁজ। ৪ জুন ২০২২ রাত ৯ টার দিকে ডিপোর লোডিং পয়েন্টে একটি কন্টেইনারে আগুন লাগে। ডিপোতে ৪ হাজার ৩০০ কন্টেইনার ছিল, যার ভেতর তিন হাজার খালি কন্টেইনার। বাকি ৮০০ কন্টেইনারে রপ্তানি পণ্য ও ৪৫০টিতে আমদানি পণ্য ছিল। আগুন নির্বাপণ, উদ্ধার, আহতদের সহায়তায় জীবনবাজি রেখে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট, রেড ক্রিসেন্ট, সেনা ও নৌবাহিনী, তরুণ শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনসহ সাধারণ জনগণ। গণমাধ্যম জানায়, বিপদজনক রাসায়নিক মজুত এবং ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সুষ্ঠু নীতিমালা ছাড়াই বন্দরে গড়ে ওঠেছে একের পর এক ডিপো। ১৯৮৪ সনে সি-ফেয়ারর্স লিমিটেড নামে বেসরকারি আইসিডি চালুর ভেতর দিয়ে বেসরকারি ডিপোর কাজ শুরু হয় এবং ২০২১ পর্যন্ত গড়ে ওঠে ১৯টি ডিপো। ২০২১ সনের ১৯ ডিসেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ‘বেসরকারি খাতে ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (আইসডি) ও কন্টেইনার ফ্রেইট স্টেশন (্িএফএস) নীতিমাল ২০২১’ গ্রহণ করে। রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশগত সনদ, নীতি ও আইন কতোটা বিএম কন্টেইনার ডিপোতে মানা হতো কী হতো না এসব এখন তদন্ত ও বিশ্লেষণের বিষয়। বিস্ফোরণের পর বাতাসে ছড়িয়ে পড়া অ্যাসিডিক গ্যাস ছড়াচ্ছে সীতাকুন্ডে। তীব্র তাপদাহ হচ্ছে। অ্যাসিড বাতাসে ছড়িয়ে পড়ায় কমছে অক্সিজেনের মাত্রা এবং এলাকার মানুষের ভেতর শ্বাসকষ্ট ও শরীর ও চোখে চুলকানি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি অন্ত:স্বত্তা নারীদের জীবন ঝুঁকির ভেতর ফেলতে পারে। গ্যাসমিশ্রিত পানি খেলে বিষক্রিয়া হয়ে পশুপাখির মৃত্যুও ঘটতে পারে (সূত্র: সমকাল, ৭/৬/২২)। কেবল মানুষ নয়, এমন রাসায়নিক বিস্ফোরণ আশেপাশের বাস্তুতন্ত্র, প্রাকৃতিক খাদ্যশৃংখল এবং সামগ্রিক প্রাণজগতে এক বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে। সীতাকুন্ড অ লের মাটি, পানি, বাতাসসহ সামগ্রিক প্রাণ-প্রকৃতি-প্রতিবেশে এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদী কী প্রভাব পড়তে পারে তা এখনি খতিয়ে দেখা জরুরি।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ভোগবাদিতা

তরল রাসায়নিক হাইড্রোজেন পার অক্সাইড নিজে দাহ্য নয়। ঠান্ডা, কম আলোযুক্ত নিরাপদ স্থানে একে মজুত করা দরকার। এর কাছাকাছি কোনো ধরণের আগুনের উৎস, উচ্চ তাপ ও আলো বিপদজনক। কাগজের মন্ড ও কাগজ বিøচিং করতে মূলত এটি ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ময়দা ব্লিচ করা, দাঁত সাদাকরণ, গৃহস্থালী পরিস্কারক, ডিটারজেন্ট, গার্মেন্টস শিল্পে ব্লিচ করা এবং লন্ড্রিতে এটি ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্তকরণ, চিকিৎসা ও ঔষধশিল্পেও ব্যবহৃত হয়। চুল ব্লিচ করতে কিংবা হাতের কাজের জিনিস বানাতে গøুস্টিক কিংবা কিছু মাটিবিহীন হাইড্রফোনিক চাষেও এর ব্যবহার দেখা যায়। মার্কিন অক্সিক্লীন ব্র্যান্ড হলো দশাসই গৃহস্থালী পরিস্কারক পণ্য। চার্চ ও ডুইট, অরেঞ্জ গেøা ইন্টারন্যাশনাল ও বিল মায়েস কোম্পানি ঘরের দাগ দূর করতে, লন্ড্রি ব্লিচিং ও ডিটারজেন্ট হিসেবে এটি বিক্রি করে। ১৯৪৬ সনে প্রতিষ্ঠিত দুনিয়ার আরেক মেগা করপোরেট প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বলের বহুল বিক্রিত একটি লন্ড্রি ডিটারজেন্ট ব্র্যান্ড হচ্ছে টাইড, যা বিশ্ব ডিটারজেন্ট বাজারের ১৪ ভাগ একাই দখল করে আছে। এই অক্সিক্লীন ও টাইডের প্রধান উপকরণ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড। ঘর, মেঝে, কাপড়, কাগজ, প্রক্ষালন কক্ষ থেকে শুরু করে, চুল কী দাঁত আমরা দাগমুক্ত ঝকঝকে তকতকে দেখতে চাই। আমরা কাগজ কী কাপড়ে কঠিন দাগমুক্ত আমাদের কেতাদুরস্ত ফ্যাশন দেখতে চাই। আজ করপোরেট বাজার এভাবেই ভোক্তা মন ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলেছে। আর এমন চাহিদাকে পুঁজি করেই হাইড্রোজেন পার অক্সাইড বা বিপদজনক রাসায়নিকের পণ্যে ভরছে বাজার। এর উৎপাদন কি ব্যবস্থাপনায় ন্যূনতম অবহেলা কী নিদারুণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে সীতাকুন্ড বিস্ফোরণ তার সাম্প্রতিক প্রমাণ। তবে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ব্যবহারে বহু ঐতিহাসিক প্রাণহানির কথা জানা যায় উইকিপিডিয়া থেকে। ১৯৩৪ সনে জার্মানীতে ইথানল ও হাইড্রোজেন পার অকাসইডের এক পরীক্ষায় তিন জন মারা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও মানুষ মারার জন্য এর ব্যবহারের কথা জানা যায়। ১৯৯২ সনে হাইুড্রোজেন পার অক্সাইড কারখানা বিস্ফোরণে ফ্রান্সে একজন মারা যায়। ২০১০ সনে আমেরিকাতেও এই রাসায়নিক পলে এক বিস্ফোরণের কথা জানা যায়। তবে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড বিস্ফোরণের ফলে সীতাকুন্ডের মতো এতো প্রাণহানি ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি দুনিয়ার আর কোথাও আগে ঘটেনি।

বিজ্ঞাপণ

প্রশ্নহীন বিস্ফোরণ

এই প্রথম নয়, চট্টগ্রাম বন্দরে এর আগেও বহু রাসায়নিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। ২০১৫ সনের ২২ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনালে মিথানলভর্তি ড্রামে বিস্ফোরণ ঘটে, ৪জন শ্রমিক গুরুতর আহত হন ও দগ্ধ হন অনেকেই। ২০২০ সনের ১৫ জুলাই রাতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি গাড়ি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কেবল বন্দর নয়, দেশের রাসায়নিক মজুতগার কি করপোরেট কারখানা সর্বত্রই ঘটছে বিস্ফোরণ ও প্রাণহানি। পুরান ঢাকার নবাব কাটরার নিমতলীতে অগ্নিবিস্ফোরণ ঘটে ২০১০ সনের ৩ জুন। আগুনে নিহত হয় ১২৪ জন মানুষ। ২০১২ সনের ২৪ নভেম্বর ঢাকার আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেড কারখানায় আগুন লেগে ১১৭ জন গার্মেন্টস শ্রমিকের মৃত্যু হয়। দুইশর বেশি আহত হয়। ২০১৬ সনের ১০ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের টঙ্গীর টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় বিস্ফোরণ ও ভবন ধসে ৩৫ জন নিহত হয়। ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ায় ‘প্রাইম পেট এন্ড প্লাস্টিক ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের’ কারখানায় ২০১৯ সনের ১১ ডিসেম্বর অগ্নিকান্ডে ২১ জন নিহত হয়। পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশনে রাসায়নিক বোঝাই এক ভবন বিস্ফোরিত হয় ২০১৯ সনের ২০ ফেব্রæয়ারি রাতে। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৬৭ জন, দগ্ধ আরো ৪ জন হাসপাতালে মারা যান। ৭ জুলাই ২০২১ রাতে নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জের কর্ণগোপে অবস্থিত ‘হাসেম ফুড বেভারেজ কোম্পানির’ ছয়তালা কারখানাটিতে আগুন লাগে। পুড়ে মারা যায় ৫২ জন শ্রমিক। সীতাকুন্ড বিস্ফোরণসহ উল্লিখিত প্রতিটি নির্মম অগ্নিকান্ড প্রমাণ করেছে দাহ্য ও বিপদজনক রাসায়নিক ব্যবহার, মজুতকরণ, উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আমরা দৃষ্টিভঙ্গিগত ও কাঠামোগতভাবে উদাসীন, দায়িত্বহীন এবং অপ্রতিবেশবান্ধব। চলতি আলাপ সীতাকুন্ড বিস্ফোরণের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবির পাশাপাশি বিপদজনক রাসায়নিক ও কর্পোরেট বাহাদুরিমুক্ত প্রকৃতিনির্ভর এক আগামী বিনির্মাণে সকলকে সক্রিয় হওয়ার আহবান জানায়।

………………………………………………………………..
গবেষক ও লেখক। ই-মেইল: [email protected]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please Disable Your Ad Blocker.