আন্তর্জাতিক

সিংহাসনে জাপানের নতুন সম্রাট নারুহিতো

আকিহিতো সিংহাসন ছাড়ার পর জাপানের নতুন সম্রাট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তারই ছেলে নারুহিতো। সিংহাসনে বসার মাত্র একদিন পর দেশের সুখ সমৃদ্ধির কামনা করে প্রথমবারের মত বক্তব্য রেখেছেন নতুন সম্রাট। মঙ্গলবার মধ্য রাতে নতুন সম্রাটের উপাধি পান নারুহিতো।

নারুহিতোর সম্রাট হওয়ার মধ্য দিয়ে জাপানে শুরু হল ‘রেইওয়া’ যুগের। যার অর্থ আদেশ এবং সাদৃশ্য। জাপানের সম্রাটের কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকে না। শুধু জাতীয় প্রতীক হিসেবে ক্ষমতায় থাকেন তারা।

বিজ্ঞাপণ

গত ২০০ বছরে আকিহিতোই প্রথম বিদায়ী সম্রাট, যিনি নিজের ইচ্ছায় সিংহাসন ছাড়লেন। তার বয়স এখন ৮৫ চলে। বার্ধক্যজনিত কারণ দেখিয়ে অবসরে গেছেন তিনি।

বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে সম্রাট হিসেবে নারুহিতোর অনুষ্ঠানিক অভিষেক শুরু হয়। যদিও মঙ্গলবার মধ্যরাতেই তাকে জাপানের সম্রাট হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। জাপানের রাজপ্রাসাদে ‘Kenji-to-Shokei-no-gi’ নামে পরিচিত ওই অনুষ্ঠানে সম্রাট হিসেবে প্রথম বক্তব্য রাখেন নারুহিতো। এতে তিনি দেশ ও জনগণের সুখ সমৃদ্ধি এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি নিজের বাবার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আমার বাবা সমসময় জাপানের জনগণের জন্য কাজ করে গেছেন। সম্রাট হিসেবে তিনি অনেক মহান কাজ করেছেন।’ একই সঙ্গে তিনি সম্রাট হিসেবে বাবার দেখানো পথেই চলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

নারুহিতো জাপানের ১২৬তম সম্রাট। পড়ালেখা করেছেন বিখ্যাত অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে। ২৮ বছর বয়সে হয়েছিলেন ক্রাউন প্রিন্স। ১৯৮৬ সালে এক টি পার্টিতে মাসাকো ওয়াডার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর বাড়ে ঘনিষ্ঠতা। ১৯৯৩ সালে মাসাকো ওয়াডাকে বিয়ে করেন নারুহিতো। মাসাকো-ও হার্ভার্ড ও অক্সফোর্ডের মত বিশ্বের সেরা দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন। নারুহিতোকে বিয়ে করার আগে তিনি কূটনীতিক হিসেবে কাজ করতেন।

বিজ্ঞাপণ

এই দম্পতির একমাত্র সন্তান প্রিন্সেস আইকোর জন্ম ২০০১ সালে। জাপানের বর্তমান আইন অনুযায়ী কোনো নারী সিংহাসনে বসতে পারেন না। যার কারণে প্রিন্সেস আইকো দেশটির সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী নন।

ফলে যুবরাজ নারুহিতোর পর সিংহাসনের উত্তরাধিকারী তালিকায় রয়েছেন তার ভাই প্রিন্স ফুমিহিতো। এরপরে রয়েছেন ফুমিহিতোর ছেলে ১২ বছরের হিসাহিতো।

Back to top button