জাতীয়

সাহেবগঞ্জের সাঁওতালদের পুনর্বাসনে কী পদক্ষেপ, জানতে চায় হাই কোর্ট

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালদের পুনর্বাসনে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও গোবিন্দগঞ্জের ইউএনওকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এক রিট আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ নির্দেশ দেয়।
সেই সঙ্গে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করা হয়েছে।
ভূমি সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও গাইবান্ধার পুলিশ সুপারকে দুই সপ্তাহের মধ‌্যে এ রুলের জবাব দিতে হবে।
রিট আবেদনকারী আইনজীবী সুপ্রকাশ দত্ত অমিত নিজেই আদালতে শুনানি করেন। চিনিকল কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন এ এম মাসুম, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।
১৯৬২ সালে রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাঁওতাল ও বাঙালিদের ১৮টি গ্রামের ১ হাজার ৮৪০ দশমিক ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করে আখ চাষের জন্য সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার গড়ে তুলেছিল। ওই জমি ইজারা দিয়ে ধান ও তামাক চাষ করে অধিগ্রহণের চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলে তার দখল ফিরে পেতে আন্দোলনে নামে সাঁওতালরা।
পরে সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মে বিরোধপূর্ণ চিনিকলের জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে কয়েকশ’ ঘর তুলে বসবাস শুরু করে তারা। গতবছর ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি উদ্ধার করতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে।
সংঘর্ষের সময় সাঁওতালদের বাড়িঘরে লুটপাট হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি চালায়। ওই ঘটনায় নিহত হন তিন সাঁওতাল, আহত হন অনেকে।
ওই জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ-সংঘর্ষের পর আলামত নষ্ট বা অদৃশ্য করা হয়েছে অভিযোগ করে গত বছর ৭ ডিসেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষকে উকিল নোটিস পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুপ্রকাশ দত্ত অমিত। সেই নোটিসের জবাব না পেয়ে তিনি হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন।
তার আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি করে হাই কোর্টের এই বেঞ্চ গত ৮ জানুয়ারি একটি রুল জারি করে।
সাঁওতালদের উচ্ছেদের সময় সংঘর্ষের ঘটনার পর ‘আলামত নষ্ট করায়’ রংপুর সুগার মিলের এমডির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে।
‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে আলামত নষ্ট করার অভিযোগে’ সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হবে না- তাও জানতে চায় আদালত।
স্বরাষ্ট্রসচিব, শিল্পসচিব, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার, গাইবান্ধা সদর থানার ওসিসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
এর প্রেক্ষিতে রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদালতে যে প্রতিবেদন দেন, বুধবার তার ওপর শুনানির সময় আদালত সাঁওতালদের পুনর্বাসনের বিষয়ে নতুন এই নির্দেশনা দিল।
তথ্যসূত্রঃ বিডিনিউজ২৪

বিজ্ঞাপণ

Back to top button