সোশ্যাল মিডিয়া আইপিনিউজ-

সদ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফ ফুটবল টিমে প্রতিনিধিত্ব করছেন ৬ আদিবাসী নারী

ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ দলে প্রতিনিধিত্ব করছেন ছয় আদবাসী নারী খেলোয়াড়। এই খেলোয়াড়দের মধ্যে পাঁচ জনই পার্বত্য চট্টগ্রামের এবং বাকীজন সমতলের গারো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর। বিষ্ময়ের বিষয় পার্বত্য চট্টগ্রামের এই পাঁচ নারী খেলোয়াড় উঠে এসেছেন রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে।

গত বুধবার ভারত-বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচে খাগড়াছড়ির মারমা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নারী ফুটবলার আনাই মগিনির গোলে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল জয়ী হয়। এই জয়ে সারা দেশের মতো পাহাড়েও উল্লাস ও আনন্দে মেতেছে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ। এদিকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এই তরুণ নারীদের দুর্দান্ত জয় পুরো দেশকে আনন্দে মাতোয়ারা করেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের এই পাঁচ নারী খেলোয়াড়দের মধ্যে জমজ দু’বোন আনাই মগিনি, আনুচিং মগিনি হলেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার সাত ভাইয়ের গ্রামের সন্তান। মনিকা চাকমার বাড়ি খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি গ্রামে। ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়ি রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের মঘাছড়ি গ্রামে। আর গোলরক্ষক রুপনা চাকমার বাড়ি রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ভুঁইয়োছড়ি গ্রামে।

পাহাড়ের এই তরুণ নারী খেলোয়াড়রা ছাড়াও পুরো বাংলাদেশ টিম’কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মারিয়া মান্দা। গারো জনগোষ্ঠীর এই নারী ফুটবলার মারিয়া মান্দা উঠে এসেছেন ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর থেকে।

বাংলাদেশের তরুণ নারীদের এই জয় নিয়ে আবারও এই ছয় আদিবাসী নারী যেসব পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে তাদেরকে স্বীকৃতি না দেয়া, অধিকার বঞ্চিত করাসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাতায় পাতায়।
প্রিয়তা ত্রিপুরা নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, রিতুপর্ণা চাকমা, রিপনা চাকমা, আনুচিং আর আনাইং মগিনী’দের বাংলাদেশ টিম’কে অভিনন্দন জানিয়ে যারা নানাভাবে আদিবাসীদের উত্যক্ত করে তাদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, রাস্তাঘাটে, বনে বাদাড়ে চ্যাংচুং, এই চায়নিজ, এই বার্মিজ বলে খ্যাপানোর আগে এখন থেকে ২৪ বার ভাববেন।

আবার অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, রাষ্ট্র যাদেরকে ক্ষুদ্র বলতে চায় এবং পিছিয়ে রাখে সেই তারাই জয় এনে দিয়েছে।
এ নিয়ে বিশিষ্ট আদিবাসী গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মেসবাহ কামাল তাঁর ফেসবুকের ওয়ালে এই নারীদের জয় সম্বলিত সংবাদ শেয়ার করে ইংরেজীতে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ শ্যুড রিকোগনাইজ আদিবাসীস’ অর্থাৎ, বাংলাদেশের উচিত আদিবাসীদের স্বীকৃতি দেয়া।

শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত

Leave a Comment

Your email address will not be published.

আইপিনিউজের সকল তথ্য পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন