খেলাধুলা

শেরপুরে আদিবাসী ফুটবল টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলাধীন বাঁকাকুড়ায় ক্রিড়াই শক্তি ক্রিড়াই বল, সবার প্রিয় ফুটবল এই মুলসূরকে প্রতিপাদ্য করে ‘তানসেন চাম্বুগং স্মৃতি ফুটবল টুর্ণামেন্ট – ২০২২’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

০৫ এপ্রিল (বৃহষ্পতিবার) বাঁকাকুড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে মিল্রাম স্পি যুব উন্নয়ন সংঘের আয়োজনে খেলাটি ১৩ টি আদিবাসী দলের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপণ

আয়োজকরা আইপি নিউজকে জানান, আদিবাসী খেলোয়ারদের প্রতিভাগুলিকে বিকশিত ও মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এর ধারাবাহিকতায় এবছর প্রথমবারের মতো আদিবাসী ফুটবল টুর্ণামেন্টের আয়োজন করা হয়। সকলের সহযোগীতা পেলে প্রতিবছরই টুর্ণামেন্টের আয়োজন করা হবে।

এনিয়ে আয়োজক কমিটির সভাপতি ইয়ারশন চিছাম বলেন, “তানসেন চাম্বুগং আমার বাবা, এলাকার খেলাধুলায় বাবার যথেষ্ট অবদান রয়েছে। বাবার স্মৃতি ধরে রাখতেই খেলাটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেই।”

সারাদিনব্যাপী নক আউট পর্বের টান-টান উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় দিনশেষে শেষ হাসি হাসলো বাঁকাকুড়া আদিবাসী একাদশ। তাঁরা দুধনই আদিবাসী একাদশকে ৭-৬ গোলে পরাজিত করে বিজয়ী হয়।

বিজ্ঞাপণ

এ নিয়ে বিজয়ী দলের অধিনায়ক তূর্য ম্রং বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এ অর্জন দলের প্রতিটি খেলোয়ারের। তবে সকল দলই ভালো খেলেছে।’

উক্ত খেলায় শেরপুরের শ্রীবরদী, নালিতাবাড়ি ও ঝিনাইগাতি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম হতে মোট ১৩ টি দল অংশগ্রহন করে।
বিজয়ী বাঁকাকুড়া আদিবাসী একাদশ প্রথম রাউন্ডে ছোট গজনী, ২য় রাউন্ডে বাঁকাকুড়া (B) ও সেমি ফাইনালে হাড্ডাহড্ডি লড়াইয়ে হাড়িয়াকোনা একাদশকে পরাজিত করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।

এদিকে রানার্সআপ দুধনই আদিবাসী একাদশ ১ম রাউন্ডে পাহাড়িয়া একাদশ, ২য় রাউন্ডে মেষকুড়া ও সেমি ফাইনালে বাঁকাকুড়া (C) একাদশকে পরাজিত করে ফাইনালে খেলার সুযোগ পায়।

খেলাটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ট্রেনিং ও সনদপ্রাপ্ত দক্ষ রেফারী মো: আক্তারুজ্জামান ইসমাইল, মো: মজিবুর রহমান মিন্টু ও মো: শহিদুল্লাহ প্রমুখ।
প্রখর রৌদ্রে ছিলো শত দর্শকে মূখরিত গ্যালারী, পরন্ত বিকেলে শুরু হয় ফাইনাল ম্যাচ। বাঁকাকুড়া আদিবাসী একাদশ ও দুধনই আদিবাসী একাদশের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ তুমুলযুদ্ধে দর্শকদের মনে ছিলো ভয়।

২০ মিনিট খেলার কয়েক মিনিটেই ১ গোলে এগিয়ে যায় দুধনই একাদশ, দুশ্চিন্তা ও ভয় কাঁটিয়ে মুহুর্তেই জবাব দেন তৃপ্ত খকশী। সমতায় ফেরে দুদল।

দ্বিতীয়ার্ধে আবার ২ গোলে এগিয়ে যায় দুধনই একাদশ। শংকা ও ভয়ে খেলা হয় উত্তেজনাপূর্ণ পাল্টাপাল্টি আক্রমনের। অবশেষে খেলার শেষাংশে গোলরক্ষক তূর্য ম্রং এর দুর্দান্ত শটে সমতায় ফিরে শস্তি পায় বাঁকাকুড়া একাদশ। নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোল সমতায় খেলার সময় ১০ মিনিট বাঁড়ানো হয়।

অতিরিক্ত সময়েও চলে তুমুল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, অবশেষে গোলশূণ্য ড্র দিয়ে খেলা শেষ হয়।

তারপর সময় সল্পতার কারনে খেলা গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। ৫ টি করে শুট নেয় দুদল। ৪-৪ গোলে ড্র হয়। এরপর আবারো ১ টি করে সুযোগ দেয়া হয়, এতে দুদলই লক্ষভ্রষ্ট হয়।

অবশেষে আরোও ১ টি করে সুযোগ দেয়া হয়। এতে মিস করে দুধনই একাদশ কিন্তু, এবার ভুল করেনা বাঁকাকুড়া একাদশ।
প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়ে দেয় বল। জিতে যায় বাঁকাকুড়া।
উক্ত টুর্ণামেন্টে সুবির জেংছামের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক ঝিনাইগাতি টি ডব্লিউ এ চেয়ারম্যান জনাব নবেশ খকশী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিট পুলিশিং এর সভাপতি মো: আনার উল্লাহ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১ নং কাংশা ইউপির ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের মহিলা মেম্বার তৃনলা ম্রং, ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার মো: মোসা সরদার, টি ডব্লিউ এ সাবেক সেক্রেটারি অজয় নকরেক, আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: সাইফুল ইসলাম, গ্রাম মাদবর পরিশন চিছাম, সমাজ সেবক সাইফুল ইসলাম মোল্লা ও বাগাছাস সহ সভাপতি সৌহার্দ্য চিরান প্রমূখ।

শ্রেষ্ঠ খেলোয়ারের পুরষ্কার পায় তূর্য ম্রং ও ম্যান অব দ্যা টুর্ণামেন্ট হয় তৃপ্ত খকশী।

অনুভূতি জানিয়ে তৃপ্ত খকশী বলেন, ‘সেরা হতে পারাটা ভাগ্যের ব্যপার, আবার পরিশ্রমের ফল। এমন খেলা সবসময় আয়োজন করা প্রয়োজন।’

পুরষ্কার হিসেবে বিজয়ী দল পায় ১০ হাজার টাকা প্রাইজমানি এবং বিজিত পায় একটি খাসি।

পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথীর বক্তব্যে আনার উল্লাহ বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা মোবাইল গ্যামিং ও মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। ওদের খেলাধুলায় যুক্ত করে সুস্থ্য জীবনে ফেরানো সকলের নৈতিক দায়িত্ব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please Disable Your Ad Blocker.