অন্যান্য

রমেল চাকমা হত্যার বিচার ও সেনাশাসন বন্ধের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল

গত ২২শে এপ্রিল,২০১৭ ইং শনিবার রাতে পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল প্রকার অবৈধ সেনাক্যম্প প্রত্যাহার সহ অঘোষিত অবৈধ সেনাশাসন বন্ধ করা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত সকল প্রকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের যথাযথ তদন্তকরত দোষীদের শাস্তি প্রদান এবং সম্প্রতি নানিয়ারচরে সেনা হেফাজতে এইচএসসি পরীক্ষার্থী রমেল চাকমা হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে এক ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।

তৃতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী অরুন কান্তি তঞ্চঙ্গার সঞ্চালনায় এবং নৈশিমং মারমার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দ্বিতীয় বর্ষের ধুদুক দেওয়ান, মাষ্টার্সের সিনিয়র শিক্ষার্থী এডিট দেওয়ান এবং অন্যতম সিনিয়র শিক্ষার্থী নিপন ত্রিপুরা। এছাড়া পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুলভ চাকমা।

বিজ্ঞাপণ

বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন উত্তোরণের নামে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অবৈধ অঘোষিত সেনা শাসন বন্ধ সহ পার্বত্য চুক্তির আলোকে অস্থায়ী সেনাক্যাম্প প্রত্যাহারের দাবি জানান। এছাড়াও সম্প্রতি নানিয়ারচরে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে মৃত্যু হওয়া এইচএসসি পরিক্ষার্থী রমেল চাকমার হত্যার সুষ্ঠু বিচারবিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সেনা সদস্যদের শাস্তির দাবি জানান।

এডিট দেওয়ান বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে বলবো আমাদের প্রতি যে অন্যায়-অবিচার তার বিরুদ্ধে যার যার অবস্থান থেকে সংগ্রাম অব্যাহত রাখুন।”

নিপন ত্রিপুরা বলেন,-
“পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অপরাধ-অপকর্ম কেবল আজকের নয়। সেই ‘৯৬ এর কল্পনা চাকমা অপহরণ ‘৯৯এ বিশ্ব মারমা হত্যা, “০৪ এ জিম্পু হত্যা ,’১৪সালে তিমির বরণ হত্যা, ‘১৭সালের আজকের রমেল হত্যা সব একসূত্রে গাথাঁ।

বিজ্ঞাপণ

তিনি অারো বলেন, – “পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আজ গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সাদাচোখে হয়তো অনেককিছুই দেখা যায় না। কিন্তু আমাদের অস্তিত্বের স্বার্থেই আজ আমাদের সময় হয়েছে আমাদের চারপাশের ঘটনাবলীকে গভীর রাজনৈতিক মূল্যায়নের মাধ্যমে সামগ্রিকতার মানদন্ডে বিচার করার।”

সুলভ চাকমা বলেন, “পার্বত্য চট্টোগ্রাম থেকে আমরা এখানে পড়ালেখা করতে আসছি, রাতের আধাঁরে মিছিল করতে আসি নি। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক নিষ্ঠুর বাস্তবতার প্রেক্ষিতে আমাদেরকে রাস্তাই নামতে হচ্ছে”।

তিনি অারো বলেন, “আমরা সংখ্যায় কম বলে দুর্বল নই। অাজ সারাদেশে আদিবাসীদের-সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালানো হচ্ছে। গাইবান্ধায় ঘরপুড়ে, গোবিন্দগঞ্জে ঘর পুড়ে। কাউকেই আমরা পাশে পাই না। তারপরেও আমরা মাথানত করব না। আমাদের ধমনিতে এম.এন লারমার রক্ত প্রবাহিত।”

পরে সমাবেশের সভাপতি নৈশিমং মারমার সমাপনি বক্ত্যব্যের মধ্য দিয়ে সমাবেশটি সমাপ্ত হয়।

ঢাবি জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের যেসব শিক্ষার্থী জগন্নাথ হলে অবস্থান করে সবাই হল এর সন্তোষচন্দ্র ভবনের সামনে রাত ৯:০০ ঘটিকার সময় জড়ো হয়।
ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে জুম্মদের অন্যতম প্রতিবাদী সোচ্চার স্লোগান “উজো…….উজো ” স্লোগান নিয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিল।
মিছিলটি সন্তোষচন্দ্রভবন থেকে শুরু হয়ে পুরো হল প্রদক্ষিণ করে আবারো একই জায়গায় গিয়ে শেষ হয়।

Back to top button