আঞ্চলিক সংবাদ

মহাদেও নদী রক্ষায় হাইকোর্টের নতুন রিট

চেলসী রেমাঃ কলমাকান্দা উপজেলার সন্যাসীপাড়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মহাদেও নদী রক্ষায় রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। সোমবার (১৩ জুন) এ রুল দেয় বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
নদীর বর্তমান কী অবস্থা তা জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

ভূমি সচিব, পরিবেশ সচিব, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, ময়মনসিংহ জেলার বিভাগীয় কমিশনার, নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তরের নেত্রকোনার সহকারী পরিচালক ও কলমাকান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপণ

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা আবেদনে এ রুল জারি করা
একই সঙ্গে মহাদেও নদী ও নদীর প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট গ্রামবাসীর সম্পদের যে ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করে দায়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আদালত জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও নেত্রকোনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালককে মহাদেও নদীর অবস্থা সংবলিত প্রতিবেদন প্রস্তুত ও আদালতে দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।

আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী রিটের বিষয়ে বলেন, ‘মহাদেও নদী ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলাস্থ ৮ নং রংছাতি ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীর রংছাতি ইউনিয়নে একটি ঘোষিত বালুমহাল আছে। সেই বালুমহালে বালু না থাকায়, মহাদেও নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন করতে থাকে ইজারাদার মহল।

তিনি আরও বলেন, অনিয়ন্ত্রিত, আইনবহির্ভূত ও নির্বিচারে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলায় সন্যাসীপাড়া, পাতলাবন, মৌতলা, বরুয়াকোনা, ডাকাইয়াপাড়া, কান্দাপাড়া, রাজবাড়ী, সতেরহাতি, ব্যস্তপুর, ছোটমনগড়া ও চিকনটুপ গ্রামের ফসলি জমি, বাজার, বসতবাড়ি, বাগান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও গাছগাছালির মারাত্মক ক্ষতি হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মহাদেও নদীর পরিবেশ।’

বিজ্ঞাপণ

এলাকার বাসিন্দারা বিভিন্ন সময় মানববন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা আমলে না নেওয়ায় প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছিলো মহাদেও নদীর অস্তিত্ব। এমতাবস্থায় সেই এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষে জনস্বার্থ রিট দায়ের করা হয়, বলে জানান মিনহাজুল হক চৌধুরী।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের মার্চ মাসে দরপত্র অনুযায়ী জেলা প্রশাসন ওমরগাঁও, হাসানোয়াগাঁও ও বিশাউতি মৌজা থেকে ৩৫.১৫ একর জায়গায় বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেয়। উত্তোলিত পাথর বিক্রি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ইজারাকৃত স্থান থেকে দেড় কিলোমিটার উজানে মহাদেও, সন্ন্যাসীপাড়া ও চীকনটুপ মৌজা থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করেছে ইজারাদার। সেই সাথে ২০২০ সালের আগস্ট মাসেও মহাদেও, চিকনটুপ ও প্যাচামারী মৌজায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে দায়ে সাবেক ইজারাদারকে গ্রেফতার এবং ইজারাকৃত স্থানের বাইরে ব্যবহূত নৌকা ও মেশিন জব্দ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন কলমাকান্দার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please Disable Your Ad Blocker.