শিল্প ও সংস্কৃতি

মধুপুরের চুনিয়াতে ওয়ান্না অনুষ্ঠিত হবে ১-৩ ডিসেম্বর

আগামী ১ লা ডিসেম্বর থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চুনিয়া গ্রামে তিনদিনব্যাপী গারোদের আদি উৎসব ওয়ান্না উদযাপিত হতে যাচ্ছে। গারোদের জীবন্ত কিংবদন্তী চুনিয়া গ্রামের খামাল জনিক নকরেক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গারোরা অনেক আগেই নিজস্ব ধর্ম সাংসারেক থেকে খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর থেকেই গারোদের ঐতিহ্যবাহী অনেক উৎসব, রীতিনীতি, সমাজব্যাবস্থা হারিয়ে যেতে বসেছে। মধুপুরের বেশ কয়েকটি গ্রামে খুব কম সংখ্যক ব্যাক্তিই গারোদের নিজস্ব ধর্মের অনুসারী আছেন। এরাই এখনো গারোদের অনেক কিছুর রক্ষক হিসেবে বেঁচে আছেন, অনেক লেখক এবং গবেষকদের আশংকা এদের মৃত্যুর সাথে সাথেই পৃথিবী থেকে একটি ধর্ম নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপণ

ধর্মান্তরিত হওয়ার পর ওয়ান্না বা ওয়ানগালা উদযাপনে ভিন্নতা এসেছে, সাংসারেক ধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান এখন খ্রীষ্ট রাজার পর্ব হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে। তাতে ওয়ান্না বা ওয়ানগালার স্বতন্ত্রতা নষ্ট হচ্ছে বলে অনেকেই অভিযোগ করছেন। এই আশংকার মধ্যেও একটা আশার আলো মধুপুরের চুনিয়াতে উকি দিচ্ছে। গারোদের জীবন্ত কিংবদন্তী জনিক নকরেক এবং বৃদ্ধ যুবদের সমন্বয়ে এই ওয়ান্না অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

১ লা ডিসেম্বর বিকেলে রাক্কাসি আমুয়ার মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হবে। নকমার (গ্রামপ্রধান) বাড়িতে রুগাআর পর গ্রামের প্রত্যেকটি বাড়িতে রুগালা করা হবে। তিনদিনব্যাপী এই আয়োজনের দ্বিতীয় দিন সকালে গুরে ওয়াত্তা অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ান্নায় আগত অতিথিদের ওয়ানচি তজ্ঞার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হবে। নতুন ধানের চা জল আন্নাতে রান্না করে তা দেবতার উদ্দ্যেশ্যে উৎসর্গ করা হবে। এরপর গুরি রুওয়ার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের আয়োজন শেষ হবে।

৩রা ডিসেম্বর অনুষ্ঠানের তৃতীয় এবং শেষ দিনের সকালে বিসিরি ওয়াত্তা দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। এসময় আগামী বছরের জয় দেবতাদের কাছে বর চেয়ে বিদায় জানানো হবে। দেবতাদের বিদায়ের পর শুরু হবে গ্রিকা। সব শেষে কাটিগাল্লাতে সকল বাদ্যযন্ত্র বাজানোর পর কাঠিগুলো দেবতাদের উদ্দেশ্যে বিসর্জন দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপণ

গারোদের ঐতিহ্যবাহী এই অনুষ্ঠানে দেশ বিদেশের অতিথিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

Back to top button