জাতীয়

বৈসুক সাংগ্রাই বিজু উৎসবের দ্বিতীয় পর্বের উৎসব শুরু- পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দাবী

রাঙামাটি প্রতিনিধিঃ পাহাড়ের আদিবাসীদের প্রাণের উৎসব বৈসুক সাংগ্রাই বিজু, বিহু, বিষু উৎসবের দ্বিতীয় পর্বের উৎসব শুরু হয়েছে।
রবিবার ৯ এপ্রিল সকাল ১০ টায় রাঙামাটি পৌর প্রাঙ্গণ থেকে দ্বিতীয় পর্বের উৎসবের উদ্বোধন করেন চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়। উৎসবের প্রথম দিনে আদিবাসী শিল্পীদের ডিসপ্লে নাচ এবং রাঙামাটি শহরে আনন্দ শোভাযাত্রা করা হয়।
উৎসব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি আসনের সংসদ উষাতন তালুকদার। এ সময় তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যেমে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের সাংস্কৃতি আরো সমৃদ্ধ হবে। কিন্তু চুক্তির মুল বিষয়গুলো এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। সাধারণ প্রশাসন স্থানীয় পুলিশ, ভুমি ও ভুমি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এখনও দেওয়া হয়নি।
উদ্বোধক চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় বলেন পাহাড়ের উৎসব শুধু বর্ষ বরণের জন্য করা হয় না। পুরণো বিদায় জানানো এবং পুরণো বছরে ভাল দিকগুলো বরণ করে আগামীর সুন্দর প্রত্যাশা করেন পাহাড়ের আদিবাসীরা।
রাজা আরো বলেন, সম্প্রতি আদিবাসীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক নির্যাতনের খবর পাওয়া যায়। এ খবরগুলো সবগুলো যে মিথ্যা তা নয়। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অতি বাড়াবাড়ি লক্ষ্য করা যায়। এসব বন্ধ করতে তিনি সরকারের কাছে দাবী জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্যাঞ্চল সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মানিক লাল দেওয়ান, এমএন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের আহবায়ক বিজয় কেতন চাকমা প্রমূখ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভা শেষে পৌর প্রাঙ্গন থেকে বৈসুক সাংগ্রাই বিজু, বিহু, বিষুর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি রাজবাড়ি এলাকায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
এ পর্বের উৎসক ১২ এপ্রিল নদীতে ফুল ভাসানোর মাধ্যেমে শেষ হবে। এরপর আগামী ১৫ ও ১৬ এপ্রিল মারমাদের সাংগ্রাই উৎসবের জল খেলার মাধ্যমে পাহাড়ের উৎসব শেষ হবে।

বিজ্ঞাপণ

Back to top button