অন্যান্য

বিশ্বের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যুক্ত হলো চাকমা ভাষা

সতেজ চাকমা: বিশ্বের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যুক্ত হলো ‘চাকমা’ ভাষা। বাংলাদেশের বাংলা ভাষার পরেই দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে এই ভাষাটিকে ফেসবুক ‘ল্যাঙ্গুয়েজ ও রিজিয়ন’ অপশনে যুক্ত করে নিলো। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভারতের অরুণাচল, ত্রিপুরা, মিজোরামসহ সারাবিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১০-১৫ লক্ষ চাকমা ভাষা-ভাষী ফেসবুক ব্যবহারকারীর জন্য এক অনন্য অর্জন বয়ে নিয়ে আসলেন বিভূশি চাকমা ও জ্যোতি চাকমা। ফেসবুকের এই উদ্যোগের ফলে চাকমা ভাষা-ভাষী ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এখন ফেসবুকে নিজেদের স্বকীয় ভাষার হরফ ব্যবহার করে পোষ্ট ও কমেন্ট করতে পারবেন। এর ফলে চাকমা ভাষার ফেসবুক ব্যবহারকারী অনেকেই উচ্ছ্বসিত হয়েছেন এবং নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে এই প্রতিবেদককে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি নানা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

এই বিষয়টিকে আনন্দের সহিত বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আদিবাসী অধিকার কর্মী অমর শান্তি চাকমা বলেন, মায়ের ভাষাকে বিশ্বব্যপী ছড়িয়ে দেওয়ার মহৎ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।ভাষা একটি জাতির প্রতিবিম্ব স্বরুপ।ইউনেস্কোর এক রিপোর্টে দেখানো হয়েছে প্রতি সপ্তাহ অন্তর পৃথিবী থেকে একটি করে ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। এমনতর অবস্থায় চাকমা ভাষাকে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও সার্চ ইঞ্জিন গুগলে যোগ করতে পারা নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয় বলে মত দেন তিনি। বিভূতি চাকমা ও তার দলের এ মহৎ অবদানকে যথাযথভাবে ব্যবহার করে চাকমা ভাষার বর্ণমালাগুলোর সম্মিলিত নাম ‘অঝাপাত’কে আগামী দিনে আরো বিকশিত করে এ ভাষা প্রচার ও প্রসারে আরো মনোযোগী হওয়ার জন্য চাকমা প্রজন্মের তরুণদের আহ্বান করেন এই তরুণ আদিবাসী অধিকার কর্মী।

বিজ্ঞাপণ

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্র চাকমা ভাষার ফেসবুক ব্যবহারকারী লিপেন চাকমা বলেন, আমাদের মত জাতিগোষ্ঠীগুলোর জন্য এটি অনন্য একটি অর্জন। নিজস্ব ভাষা চর্চা আরো বৃদ্ধি পাবে এবং আমাদের মায়ের ভাষাটি হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকে অনেকটা মুক্ত হয়েছে। এছাড়া এই উদ্যোগের সাথে জড়িত সকলকে সাধুবাদ জানান ঢাবির এই ছাত্র।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া পাহাড়ের জুম্ম শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম লিটারেচার এন্ড কালচারাল সোসাইটির সাধারন সম্পাদক জশোয়া দেওয়ান বলেন, এটি কেবল চাকমা জাতিগোষ্ঠীর নয় পুরো আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর জন্য এক অনন্য অর্জন। এর মাধ্যমে চাকমা জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের মধ্যে নিজেদের ভাষায় গান, কবিতা তথা সাহিত্য চর্চার অপার দুয়ার খুলে যাবে এবং কেবল চাকমা জাতিগোষ্ঠী নয় দেশের অন্যান্য আদিবাসী জাতির মানুষও নিজেদের ভাষা সংরক্ষণে আরো উদ্যোগী হবে।

এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ের আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘রদেভু শিল্পীগোষ্ঠী’র সাধারন সম্পাদক এবং চবি’র বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মী ধর্মরাজ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, আদিবাসী ভাষাগুলো বিভিন্ন প্রভাবশালী ভাষার আগ্রাসনে হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের নিজেদের হরফ থাকলেও আমরা লিখতে পারি না এবং চর্চার জন্য যথেষ্ট সুযোগ পায় না।আমরা যে প্রতিদিন গড়ে ৫-৬ ঘন্টা ফেসবুক ব্যবহার করি সেখানে এই ‘চাকমা’ ভাষায় পোষ্ট এবং কমেন্ট করতে পারার যে সুযোগটা এসেছে এটা হবে এই ভাষার জন্য ‘ডিজিটাল সংরক্ষণ’।

বিজ্ঞাপণ

বাংলাদেশের আদিবাসীদের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা মানবাধিকার সংগঠন ‘কাপেং ফাউন্ডেশন’ এর ব্যবস্থাপক হিরণ মিত্র চাকমা বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত আদিবাসী ভাষা বর্ষে ফেসবুকের এই উদ্যোগটি সাধুবাদ যোগ্য। এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত সকলকে তিনি ধন্যবাদ জানান এবং অন্যান্য আদিবাসী ভাষাগুলো যাতে এভাবে পর্যাক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন প্লাটফর্মে স্থান পায় এবং প্রচার ও প্রসারের সুযোগ পায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আদিবাসী তরুণ সমাজকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য চাকমা ভাষার হরফ নিয়ে কাজ করা দু’জন চাকমা তরুণ বিভূতি চাকমা ও জ্যোতি চাকমা ‘চাকমা’ ভাষাকে ফেসবুকে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখেন এবং সম্প্রতি ফেসবুক এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার সাথে ‘চাকমা’ ভাষাকেও যুক্ত করে নিলো। একই সাথে সার্চ ইঞ্জিন গুগলেও এই ভাষায় লিখে বিভিন্ন তথ্য সার্চ করা যাবে।

Back to top button