জাতীয়

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে আদিবাসিকে গলা কেটে হত্যা

আক্কেলপুরের শিয়ালাপাড়া গ্রামের আদিবাসীদের সাথে বিবাদমান পুকুর ও জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের দন্ডের জেরে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় মোহনলাল পাহান (৫৫) নামের এক আদিবাসীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার হয়।
আদিবাসীরা প্রতিপক্ষকে এই ঘটনায় দায়ী বলে মনে করছে। পুলিশ জানায় জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের শিয়ালাপাড়া গ্রামের মোহনলাল পাহান মঙ্গলবার ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়ে দুপুর পর্যন্ত না ফেরায় বাড়ির লোকজন চিন্তিত হয়ে পরে।
আশেপাশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করার পর বিষয়টি মোহনলাল পাহানের পুত্র শ্যামল পাহান আক্কেলপুর থানা পুলিশকে জানান।
এই সময় থানায় খবর আসে যে মোহনলাল পাহানের গলাকাটা লাশ শিয়ালা পাড়া গ্রামের পুকুরপারে পাওয়া যায়। সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় এলাকায় আদিবাসী পল্লীতে আতংক ছড়িয়ে পরে। এদিকে আদিবাসী মোহনলাল পাহান খুন হওয়ার ঘটনায় পুলিশ চিন্তিত হয়ে পড়েছে।
জানা যায় আক্কেলপুরের তিলকপুর ইউনিয়নের শিয়ালাপাড়া গ্রামের আদিবাসীদের পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া সম্পত্তি (পুকুর ও জমি) নিয়ে একই গ্রামের আরিফ উদ্দিন মন্ডল, সাদেক আলী মন্ডলসহ বেশ কয়েকজন ঐ জমি ও পুকুর নিজেদের দাবি করে গত ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি আদিবাসিদের উপর তারা হামলা চালায়।
বাড়িঘর ভাংচুর করে। নারীদের শ্লীলতাহানি করে এবং লাঠি দিয়ে পেটায়। এছাড়াও পুকুরে বিষ ঢেলে দিয়ে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার মাছ মেরে ফেলে।
এই হামলা ঘটনার সময় আক্কেলপুর থানার সাবেক ওসি সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তার উপস্থিতিতে এ হামলা পরিচালনা করা হয়।
এ বিষয়ে আক্কেলপুর থানায় ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসিরা মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে তাল বাহানা শুরু করে।
পরবর্তিতে এর প্রতিবাদে আদিবাসিরা জয়পুরহাট প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা না নেওয়ায় পুলিশের সমালোচনা করেন এবং বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে দেখার জন্য দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
পরবর্তিতে মামলাটি আক্কেলপুর থানায় রজু হলেও পুলিশের নিরবতায় হামলাকারীরা বেপরোয়া হয়ে যায়। এ অবস্থায় ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই ঐ সন্ত্রাসীরা আবারও আদিবাসীদের উপর হামলা ও মারধর করে। এই হামরার প্রতিবাদ করতে গেলে তারা আদিবাসি শেফালি পাহান, হিরেন পাহানকে বেধরোক মারধোর করে ভুমিদস্যুরা।
তারপর তারা শ্যামল পাহানের ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে টিভি ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং ভাতিজা জয় পাহানকে মারধোর করে।
এরপর তারা আদিবাসীদের হুমকী দিয়ে বলে ঐ জমি ও পুকুর ছেড়ে না দিলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। এই সমস্ত ঘটনায় পুলিশি ব্যবস্থা না হওয়ায় আদিবাসীরা বিষয়টি জাতীয় আদিবাসী পরিষদকে জানালে আদিবাসী পরিষদ ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসীদের নিয়ে জয়পুরহাট প্রেসক্লাবে ২০১৬ সালের ৩১ জুলাই এক সাংবাদিক সম্মেলন করে অবিলম্বে ভুমিদস্যু সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানায় এবং তারা ঘোষনা দেয় সন্ত্রাসী ভূমিদস্যুদের গ্রেফতার না করলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবে।
এর ধারাবাহিকতায় আগষ্টের ২ তারিখে জয়পুরহাটে তারা মানববন্ধন কর্মসূচী করে। এই খুনের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলছে আক্কেলপুর থানায় ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) সিরাজুল ইসলাম জানান।
তথ্যসূত্রঃ এইবেলা ডট কম

বিজ্ঞাপণ

Back to top button