আন্তর্জাতিক

গতকাল আগরতলায় শেষ হল চাকমা ভাষা, হরফ ও সংস্কৃতি নিয়ে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন:

সতেজ চাকমা(বিশেষ প্রতিবেদন, আইপিনিউজ) : ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা’তে গতকাল শেষ হল তিন দিনব্যাপী আন্তজাতিক সম্মেলন। চাকমা আদিবাসীদের ভাষা, হরফ ও সংস্কৃতি নিয়ে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজক ‘ইন্টারন্যাশনাল চাকমা সাহিত্য ও সুদোম যদা’ (ICSSJ)  এবং সহযোগীতায় ছিল ধুধুক নামের একটি সংগঠন। গত ১২-১৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশর পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম, অরুণাচল প্রদেশ থেকে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, লেখক, গবেষক ও সাংস্কতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।

সম্মেলনের প্রথম দিনে ত্রিপুরা’র মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। ত্রিপুরা রাজ্য চাকমা সামাজিক পরিষদের রাজ্য কার্বারী দেবজান চাকমা’র সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে আরো অংশ নেন ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের মন্ত্রী শান্তনা চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক সংগঠক অঞ্জুলিকা খীসা প্রমুখ।

বিজ্ঞাপণ

উক্ত সম্মেলনে অংশ নেওয়া মিজোরামের অধিকার কর্মী ও লেখক পরিতোষ চাকমা আইপিনিউজকে বলেন, তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে চাকমা আদিবাসিীদের ভাষা, বর্ণমালা, ব্যাকরণ, নিজেদের ইতিহাসের বিভিন্ন বিষয়ের নানা দিক নিয়ে অনুপুঙ্খ আলোচনা হয়েছে।

আইপিনিউজকে তিনি আরো বলেন, ভারতের মিজোরামে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত চাকমা শিশুরা নিজেদের মাতৃভাষায় পড়াশুনা করছে। ত্রিপুরা রাজ্যেও প্রাথমিক পর্যায়ে পড়াশুনা করছে। বাংলাদেশেও প্রাক প্রাথমিক পর্যায়ে এই ব্যবস্থা চলমান আছে। তবে ত্রিপুরা রাজ্য, মিজোরাম এবং বাংলাদেশে চাকমা হরফ ও ব্যকরণ চর্চার মধ্যে কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। একইভাবে প্রথাগত রীতি ও ব্যবস্থার মধ্যেও কিছু ব্যবধান আমরা খুঁজে পেয়েছি। সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে নানা সেশনে।

সম্মেলনে অংশগ্রহনকারীদের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত 

জানা যায় উক্ত সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য ত্রিপুরা রাজ্যের ‘ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস’ এ চাকুরীরত চাকমা অফিসাররা যেন এই সম্মেলনে অংশ নিতে পারে তার জন্য রাজ্য সরকার তাঁদেরকে ছুটি মঞ্জুর করেছে। সেই সুবাদে ইন্ডিয়ান এডমিনিস্ট্রেটিভ  সার্ভিস (আইএএস)  অফিসারদেরে মধ্যে উত্তম কুমার চাকমা, তড়িৎ কান্তি চাকমা, তুষার কান্তি চাকমা এবং ধীমান চাকমা এই সম্মেলনে অংশ নিয়ে নিজেদের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে আগামীতে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বলে জানা যায়।

বিজ্ঞাপণ
সামনের সারিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে উক্ত সম্মেলনে অংশগ্রহনকারীদের একাংশ

এদিকে উক্ত সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকেও একটি প্রতিনিধি দল এই সম্মেলনে অংশগ্রহন করে। এই প্রতিনিধি দলে আছেন জাতীয় মানাবধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ও শিক্ষাবিদ বাঞ্ছিতা চাকমা, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক সংগঠক অঞ্জুলিকা খীসা, শিক্ষাবিদ গৈরিকা চাকমা, কবি মিকাডো চাকমা, কবি ও লেখক বিপম চাকমা,  রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের  রিচার্স  অফিসার শুভ্র জ্যোতি চাকমা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও নাট্য কর্মী ইগিমি চাকমা প্রমুখ। তবে মায়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে সেখানকার চাকমাদের প্রতিনিধি এই সম্মেলনে অংশ নিতে পারেনি।

এদিকে  অধিকার কর্মী পরিতোষ চাকমা আরো বলেন, এই সম্মেলন থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ  সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তার মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত চাকমা জাতির  নিজেদের হরফ ও প্রথাগত সাংস্তৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে সমজাতীয় রূপ ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য কয়েকটি উপ-কমিটি গঠিত হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটিসমূহ আরো অধিক গবেষণার মাধ্যমে সে বিষয়গুলো সমাধানের উদ্যোগ নেবে। তাছাড়া আধুনিক ব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চাকমা’দের প্রথাগত যে বিষয়গুলো নারীদের অধিকারের সাথে  সাংঘর্ষিক সেগুলো খুঁজে বের করে তার সামঞ্জস্য বিধানের উদ্যোগও গ্রহন করা হবে। এছাড়া আগামীতে এই ধরণের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করে নিজেদের শিল্প, সাহিত্য ওসংস্কৃতির নানা বিষয়গুলো বিকাশের উদ্যোগ গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please Disable Your Ad Blocker.