জাতীয়

গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি- আইপিনিউজের আলোচনায় বক্তারা

প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার থাকতে হবে। তবে রাষ্ট্র যে বৈষম্য করছে, এই কথা অস্বীকার করা যাবে না। ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারে সরকারের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মানুষের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে। আদিবাসী ও আদি বাসিন্দা আলাদা অর্থ বহন করে। এটা একধরনের শ্রেণিগত সাংস্কৃতিক বৈষম্য। তাই আদিবাসীদের ইস্যু তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে সংবেদনশীল হতে হবে। ‘আদিবাসী সংবেদনশীল গণমাধ্যম: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এ আলোচনার আয়োজন করে আদিবাসীদের জাতীয় পর্যায়ের অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ‘আইপিনিউজ বিডি’।

আলোচনা সভায় মূল বক্তব্যে লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, ১৯৭২ সালে গণপরিষদে দাঁড়িয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাও বলেছিলেন, ‘আমরা বাঙালি নই।’ সংবিধানে সব জাতিসত্তার পরিচয় নেই। ১৯৪৪ সালে নওগাঁর বদলগাছিতে পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহারের কাছে নির্মিত হয় পাহাড়পুর আদিবাসী উচ্চবিদ্যালয়।

আলোচনা সভায় প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, ‘আমরা সংহতি চাই না, একতা চাই। বাংলাদেশের গণমাধ্যম এখন ঝুঁকিতে। এ জন্য দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানো খুব জরুরি। গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি—দুটোর পরিবর্তনই জরুরি। প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার থাকতে হবে। এই কথা সংবিধানেও আছে। তবে রাষ্ট্র যে বৈষম্য করছে, এই কথা অস্বীকার করা যাবে না।

বিজ্ঞাপণ

দেশের গণমাধ্যমে আদিবাসীর সংবাদের বিষয়টি এখনো বড় জটিল একটি সমীকরণ বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী দেশ। এই বহুত্ববাদকে আমরা সব সময় ভয় পাই। কিন্তু আমাদের সবার চেষ্টা করা উচিত অন্যকে সম্মান করা। আদিবাসী মানেই যে তির–ধনুক নিয়ে একজন, এমন না। তাঁরা বুদ্ধিবিবেচনাসহ শিক্ষিত মানুষও।’

মূল ধারার গণমাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সাংবাদিকের সংখ্যা বাড়ানোসহ আইপিনিউজ–এর মতো নিজস্ব গণমাধ্যম করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রোবায়েত ফেরদৌস।

বিজ্ঞাপণ

সাংবাদিক নজরুল কবির বলেন, “আজ থেকে ২০বছর আগের যে গণমাধ্যম তার সাথে আজকের গণমাধ্যমের মধ্যে অনেক পার্থক্য। গণমাধ্যমের মালিকেরা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যম এখন কর্পোরেট হয়ে যাচ্ছে। গণমাধ্যমে লড়াই করে শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম কে শুধুমাত্র একটি বিট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছিলো।

তিনি আরো বলেন, আদিবাসীদের চ্যালেঞ্জের জন্য নতুন কৌশল তৈরী করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া, সৃজনশীলতা ব্যবহার করে সমাধান বের করতে হবে। নিজেদের জাতিস্বত্বা কে নিজেকেই দেখতে হবে। হয়তো প্রথম বর্ষ থেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের মাথায় জাতিসত্তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরুন। নতুন কোনো কৌশল অবলম্বন করতে হবে। না হলে আদিবাসীদেরকে একাই এই লড়াইগুলো করতে হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে লেখক ও গবেষক সারা মারান্ডী বলেন,  ভূমি শুধুমাত্র আদিবাসীদের আয়ের উৎস না, ভূমি তাদের অস্তিত্ব। চিটাগাং এর একটি ঘটনা আমরা জানি, একজন নারী প্রায় ৪০ বছর ধরে নিজের ভূমির জন্য লড়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে  কি আসলে যাদের কাছে খবর যাওয়া উচিত তাদের কাছে কি যাচ্ছে? মনে হচ্ছে আদিবাসীদের ইস্যুগুলি ভারাক্রান্ত হয়ে পরছে। আসলে সংবাদমাধ্যমের সংবেদনশীলতা আসলে কাদের জন্য সংবেদনশীল? আদিবাসীদের যে মূল সমস্যাগুলো আছে আশা করি এই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান যেনো উঠে আসতে পারে। প্রমান যেনো হতে পারে আদিবাসীরাও এই দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে। এই দেশে সবাই মিলে যেনো মাথা উচু করে বাচতে পারি। ‘

শতাধিক অংশগ্রহনকারীর উপস্থিতিতে আয়োজিত উক্ত আলোচনা সভার এক পর্যায়ে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন মাদল এর সদস্য শ্যাম সাগর মানকিন, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক টনি ম্যাথিউ চিরান,  বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হরেন্দ্র নাথ সিং প্রমুখ।

আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন আইপিনিউজ–এর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য মেইনথিন প্রমীলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please Disable Your Ad Blocker.