জাতীয়

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

গাইবান্ধার সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এ ১৯৫৫-৫৬ সালে কোম্পানির নামে অধিগ্রহনকৃত ১৮৪২.৩০ একর ভুমি উদ্ধারের দাবিতে গত ২৩ জানুয়ারী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আদিবাসী পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখা ও সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভুমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে এক কৃষক সমাবেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভুমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য। বিশেষ অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট গবেষক, কলামিস্ট ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ। আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারন সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার বিভাগের সদস্য দীপায়ন খীসা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাড. বাবুল রবিদাস।

বিজ্ঞাপণ

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কতৃক রংপুর সুগার মিলের জন্য যে ১৮৪২.৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল সেখানে ইজারা প্রদানের মাধ্যমে আখ চাষের পরিবর্তে অন্যান্য ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে। আখ চাষ না হওয়ায় চুক্তি অনুযায়ী জমি ফেরত চাইছে ভুমিহারা আদিবাসী বাঙ্গালী কৃষকেরা। বাপ দাদার জমি ফেরত পাবার জন্য গোবিন্দগঞ্জ থেকে ঢাকার শহীদ মিনারে এসে শহীদ হতেও প্রস্তুত আছে এই কৃষকেরা।

তিনি আরও বলেন জমি অধিগ্রহনের নামে যদি আমাদের জমি কেড়ে নেওয়া হয়, তবে আমাদের অধিকার আছে আমাদের জমির দখল নেবার।

বিশিষ্ট গবেষক এবং কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আমাদের এই রাষ্ট্র অঙ্গীকার ভঙ্গ করায় বিশেষ দক্ষ। তিনি আরও বলেন, জনগনের জমি কেড়ে নেওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন। রাষ্ট্র সেই মানবয়াধিকার লঙ্ঘন করেই চলেছে।

বিজ্ঞাপণ

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, ভুমি অধিগ্রহনের মাধ্যমে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম এলাকার ১৫ টি গ্রামের আদিবাসী জনগন ভুমিহারা হয়েছে। এখন সেখানে আখ চাষ হয় না। মিল কতৃপক্ষ লীজ প্রদান করে ধান, গম, ভুট্টা, তামাকসহ অন্যান্য ফসল আবাদ করছে। তিনি আরও বলেন, এই জমি দালালদের ভোগদখল হতে দেবনা। এই জমি আদিবাসীরা চাষ করবে।

Back to top button