অন্যান্য

কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দিয়েই বাজেট পরিকল্পনা করতে হবেঃ যুব ইউনিয়ন

আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের উদ্যোগে ’কর্মসংস্থানমুখী বাজেট চাই’- শীর্ষক সেমিনার আজ ১ জুন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনলাইনে অনুষ্ঠিত সেমিনারের আলোচকবৃন্দ একমত পোষণ করে বলেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে, কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দিয়েই বাজেট পরিকল্পনা করতে হবে। পুরানো কর্মসংস্থানকে ধরে রেখে, নতুন নতুন আরো অনেক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

মানসম্পন্ন ও টেকসই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা ছাড়া বেকার সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সেইসাথে এখন থেকেই বেকার ভাতা চালু করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপণ

যুব ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সেমিনার পত্রে বলা হয়েছে, বর্তমান আওয়ামিলীগ ২০০৮-এর নির্বাচনী ইস্তেহার ’রূপকল্প ২০২০’- এ অঙ্গিকার করেছিল, প্রতি পরিবারে একটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। এরপর তারা টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু অঙ্গিকার পূরণতো দূরের কথা, সরকার ন্যুনতম মাত্রাতেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছে। যে প্রবৃদ্ধির সুচক দেখিয়ে সরকার উন্নয়নকে দৃশ্যমাণ করতে চাইছে, বাস্তবে তা বন্ধ্যা। কেননা উন্নয়নের সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। প্রবৃদ্ধির আসক্তিতে আচ্ছন্ন সরকার। যেকোন প্রক্রিয়ায় প্রবৃদ্ধির সূচক সংখ্যা পূরণে সরকারের যে প্রচেষ্টা, তা নিছক ব্যর্থতাকে আড়ালের কৌশল মাত্র। যে উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না, তা যতই চকচকে হোক না কেন, প্রকারন্তরে তা ফাঁপা। দেশের বৃহত্তম কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠীকে কাজের বাইরে রেখে প্রকৃত উন্নয়ন বাগাড়ম্বর মাত্র। এই মুহূর্তে তাই বৃহত্তর তরুণ ও যুব জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি অন্যতম একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সমাজের নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত অনেকেই আয়ের পথ হারিয়েছেন। কাজ হারিয়েছেন। এসময়ে নতুন করে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুলসংখ্যক কর্মী কাজ হারিয়েছেন। অনেকে কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ অবস্থায় বেকারের তালিকা আরও দীর্ঘ হবে। কর্মহীন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত গ্রামে ফিরে যাচ্ছে। কাজে ফিরতে না পারা এসব মানুষ আরো দরিদ্রতার শিকার হচ্ছেন। বেঁচে থাকার প্রাণান্ত চেষ্টায় ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন অনেকে। সার্বিক বিবেচনায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতের পাশাপাশি কর্মসংস্থানকে বাজেট পনিকল্পনায় অগ্রাধিকারে রাখতে হবে। কর্মসংস্থান কমিশন গঠন করে একটি স্বয়ংক্রিয় অনলাইন ব্যবস্থাপণার মাধ্যমে কর্মপ্রত্যাশী যুবদের নিবন্ধন নিশ্চিত করে, তাঁদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও চাহিদা অনুযায়ি কাজের ব্যবস্থা করতে না পারলে কর্মসংস্থান সংকট থেকে স্থায়ী মুক্তি সম্ভব না। যুব ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জব রেজিস্ট্রেশন সেন্টারের দাবি জানিয়ে আসছে।

সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান, অধ্যাপক এম এম আকাশ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক, উন্নয়ন অন্বেষনের চেয়ারম্যান ড. রাশেদ আল মাহমুদ তীতুমীর, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফা জলি। যুব ইইনয়নের সভাপতি হাফিজ আদনান রিয়াদের সভাপতিত্বে এবয় সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জআমান মাসুমের সঞ্চালনায় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার শীল, যুব ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম জুয়েল, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজেদুর রহমান ঝিলঅম, রিপায়ণ বড়ুয়া, এড, মাসুক মিয়া, পিনাক রঞ্জন দেবনাথ, কেন্দ্রীয় নেতা চেীধুরী জোসেন, সিয়াম সারোয়ার, মামুন কবীরসহ সারা দেশের জেলা নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

সেমিনারের প্যানেল আলোচক অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ঝড়ে পড়া যুবদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। আত্ম কর্মসংস্থানের জন্য সহজশর্তে যুবদের নগদ ঋনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যুব ইউনিয়নকে ধারাবাবাহিক সংগ্রামের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায়ে নীতি নির্ধারকদেরকে বাধ্য করতে হবে যেন, এ বিষয়ে যথাযথ দৃষ্টি দিয়ে পর্যায়ক্রমে কর্মসংস্থানের কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞাপণ

অধ্যাপক ড. মুস্থাফিজুর রহমান বলেন, মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনায় শোভন কাজ নিশ্চিত করে, ডিজিটাল অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে মনোযোগী হতে হবে। বাজেটে প্রশিক্ষণ, গবেষণা, শিক্ষা, বেকার ভাতাকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। অন্তর্নীহিত বৈষম্য যেটা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে তা কমিয়ে আনতে হবে। একটা বড় অংশের মানুষের আয় কমে গিয়েছে। সে বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতা আরো বাড়াতে হবে। আমাদের হালনাগাদ তথ্যভান্ডার নেই। পর্যাক্রমে তা গড়ে তুলতে হবে। সঠিক তথ্যভান্ডার ছাড়া প্রকৃত চিত্র তুলে এনে তার ভিত্তিতে সমাধানের পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে তা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তরায় সৃষ্টি করে।

অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তীতুমীর বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতি ইংরেজি ‘ক’ অক্ষরের মতো করে এগুচ্ছে। একদিকে ধনীরা আরো সম্পদশালী হচ্ছে। তাদের সম্পদ ক্রমশ আরো উর্ধ্বমুখী হচ্ছে। আর আরেক দিকে গরীবদের সম্পদ কমে তা তলানিতে গিয়ে ঠেকছে।ফলে সমাজে বৈষম্য বাড়ছে। পূণর্জীবন চক্র নির্ভর মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনায় সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হভে। কেননা আমাদের চলতি সামাজিক সুরক্ষার যে সকল উদ্যোগ তা বেছে বেছে, কারো কারো জন্য। অনেকেই তা থেকে বঞ্চিত হয়। আমাদের যেহেতেু তারল্য সংকট নেই তাই সঠিক পরিকল্পনায় সেটা করা সম্ভব।

গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফা বলেন, কর্মসংস্থান অবশ্যই মানসম্পন্ন হতে হবে। সেইসাথে শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সুপ্রশিক্ষিত ও দক্ষ না হলে টেকসই ও মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। আমাদের বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হয় ক্রয় খাতে। যেখানে দূর্নীতির সুযোগ রয়েছে। বাজেটারী এই দূর্নীতি বন্ধ করা গেলে সেই টাকায় বহু কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please Disable Your Ad Blocker.