সোশ্যাল মিডিয়া আইপিনিউজ-

উশুতে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছেন সজল ম্রং

কাঞ্চন মারাকঃ  গত ৩ সেপ্টেম্বর ৪র্থতম চীন-বাংলাদেশ অ্যাম্বাসেডর কাপ উশু ডেমনস্ট্রেশন ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবারের আসরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী চ্যাম্পিয়ন ট্রফি লাভ করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ সদস্যেের পুরুষ বিভাগে অংশগ্রহন করেছেন শেরপুরের গারো আদিবাসী সজল ম্রং। বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীন অ্যাম্বাসী ঢাকার কর্মকর্তা লি- জিমিং।

আয়োজকরা জানান, শহিদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়াম, মিরপুরে অনুষ্ঠিত আসরে মোট ৩০০ প্রতিযোগী ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগীতায় নামে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, আনসার, বিজিবি, বিকেএসপি ছাড়াও বিভিন্ন জেলা ও সংগঠনের মোট ১৪টি দল অংশ নেয়। ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি লাভ করেছেন ৬ সদস্যের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দল। বাঁছাইকৃত ৬ জনের দলে একমাত্র আদিবাসী হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় সজল ম্রং।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দলের প্রায় ৪৫ জন উশুকদের মধ্য থেকে বাঁছাই করে সেরা ৬ জনের একটি দল তৈরি করা হয়েছে। অবশেষে এই ৬ জনই এনে দিলো কাঙ্খিত জয়ের মুকুট।

এব্যাপারে সজল ম্রং আইপি নিউজকে বলেন, ‘আমি গ্রামের শক্ত মাটিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা উশুক। ভাবতে পারিনি এতজনের মধ্য থেকে উত্তীর্ন হয়ে খেলতে পারবো। চ্যাম্পিয়ন ট্রফি পাওয়ার মধ্য দিয়ে আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেলো।’

সজল ম্রং শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার ভারুয়া গ্রামের। দিনমজুর পরিবারে অভাব অনটনে বড় হয়ে উশু শিখেছেন ওস্তাদ ইলিয়াস ম্রং এর কাছ থেকে। আধুনিক প্রশিক্ষন ও চর্চার অভাবে শক্ত মাটিতে সবকিছু করতে হয়েছে। তবে দৃঢ় মনোবল  তাকে দমাতে পারেনি । প্রথমাবস্থায় ১৬ তম জাতীয় উশু চ্যাম্পিয়নশীপ ২১ এ অংশ নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। এরপর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার সুযোগ মিলে। ৫-৬ মাস টানা ট্রেনিং এ আছেন। এখানেই এই খেলায় বাঁছাই হয়, হয়ে যান উত্তির্ন এবং পরের গল্পটা সবার জানা।

তিনি আরোও বলেন, ‘বিগত জাতীয় উশু চ্যাম্পিয়নশীপে আমি সহ আমার আপন বড় দাদা দুজনে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছি। প্রথম বলে নার্ভাস ছিলাম। সেবার আমরা মোট ৬জন গারো শেরপুর থেকে অংশ নিয়েছি। তখন উন্নত প্রশিক্ষণ  ব্যবস্থা ও আসরে অংশগ্রহনের আর্থিক সমস্যা অনুভব করি। আগামী অক্টোবরের ১৭তম জাতীয় উশু চ্যাম্পিয়নশীপে যদি কেউ এগিয়ে আসে তবে অনেক উশুক জাতির হয়ে খেলতে পারবে।’

শিষ্যের জয়ে ওস্তাদ ইলিয়াস ম্রং বলেন, ‘ আমার দৃঢ় বিশ্বাস ও প্রার্থনার ফল সজল ম্রং। অনেকে এগিয়ে এলে এমন আরোও ভালো খবর আসবে বলে আশা রাখি।’

আসরে বাংলাদেশ উশু ফেডারেশন সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ দোলাল হোসেন বলেন, ‘ ইদানিং অনেক উশুককে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। উশুর উন্নত প্রশিক্ষণ ও আয়োজনের সুব্যবস্থা বাংলাদেশে নেই। স্পন্সর না থাকায় আয়োজন জমকালো হয় না। তবু থেমে নেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদচারনার।’

প্রধান অতিথী লি- জিমিং বলেন, শীঘ্রই উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ থেকে কিছু ট্রেইনারকে চীনে পাঠানো হবে উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মার্শাল আর্টিস্ট গড়ার প্রত্যয়ে।

শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত

Leave a Comment

Your email address will not be published.

আইপিনিউজের সকল তথ্য পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন