আঞ্চলিক সংবাদ

আমাদের জীবন ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে সাজিয়ে নেওয়ার জন্য দরকার অধিকার প্রতিষ্ঠাঃ সন্তু লারমা

রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত প্রীতি সম্মিলনে তিনি এই কথা বলেন।

আইপিনিউজ, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: আমাদের জীবন ও সংস্কৃতিকে সাজিয়ে নেওয়ার জন্য দরকার অধিকার প্রতিষ্ঠা। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আয়োজনে রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত প্রীতি সম্মিলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। আজ সংগঠনটির আয়োজনে রাঙ্গামটির ঝগড়া বিলে অবস্থিত বার্গী লেক ভ্যালীতে এক প্রীতি সম্মিলনির আয়োজন করা হয়।

উক্ত প্রীতি সম্মিলনিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয়(সন্তু) লারমা আরো বলেন, “আমাদের সিদ্ধ চাউলের ভাতের মত গা ছাড়া ছাড়া ভাব হলে হবে না, আমাদের ঐক্য ও সংহতি বিন্নি ভাতের মতো আটালো হওয়া দরকার। আমাদের কেউ ছুঁড়ে ফেলে দিলে, দাঁড়িয়ে থাকার মতো মনের জোর থাকতে হবে। আমাদের ভয় পেলে চলবে না। আমাদের জীবনটা এমনিতেই নানা দুঃখে ভরপুর। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের যেটা সবচেয়ে দরকার, সেটা আমাদের ভাবতে হবে। আমাদের সমাজের মধ্যে তথা পার্বত্য চট্টগ্রামে আমরা যে তেরো ভাষাভাষী চৌদ্দটি জাতিগোষ্ঠী আমরা রয়েছি, এই চৌদ্দটি জাতির মধ্যে যে ঐক্য ও সংহতি রয়েছে, সেই ঐক্য ও সংহতি ভালো থেকে অধিকতর ভালো করতে হবে। এই বাস্তবতা আমাদেরকে বুঝতে হবে।”

বিজ্ঞাপণ
বাঁ থেকে ভারত প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা(বকুল), বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম(পার্বত্য অঞ্চল) এর সহ-সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ও আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য অঞ্চলের সভাপতি ও সাবেক সচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা।

আমাদের বেঁচে থাকার যে অবস্থান, সেই আমাদের বেঁচে থাকার অবস্থানটা আজ আমাদের হাতে নেই উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এটা নিয়ে লজ্জা আর ভয়ে থাকলে হবে না। এটার জন্য মনের কথা খুলে বলে, আমাদের সামনের জীবনটা যাতে ভালোভাবে কাটাতে পারি, সেটা ভাবার দরকার রয়েছে। বিশেষ করে এখানে যাদের ছেলেমেয়ে রয়েছে, যারা তরুণ, তাদেরকে উৎসাহিত করা দরকার। আমরা দেখি যারা শিক্ষিত, যারা চাকরি করছে, যারা অঢেল টাকা-পয়সা নিয়ে ব্যবসা করছে, যারা সমাজে নিজেদের নেতৃস্থানীয় বলে দাবী করে, তাদের ভেতরেই বেশি ব্যক্তিস্বার্থপরতা কাজ করে। আজকে তাদের বেশি ভাবা দরকার যে, আজ যদি জাত বেঁচে না থাকে, এখানকার মানুষগুলোর যদি সমাজ সংস্কৃতি বেঁচে না থাকে, তাদের সেই অঢেল টাকা-পয়সা, সম্পদ থাকলেও কি তারা এখানে বেঁচে থাকতে পারবে? আমরা কি বলতে পারবো যে, সে একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে বেঁচে আছে?

আজকে আমাদের জীবনের বাস্তবতাটা যে জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, সেই বাস্তবতা থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে দাবী করে তিনি আরো বলেন, আমরা মানুষ হিসেবে আমাদের মান-মর্যাদা, অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। নাগরিক হিসেবে আমাদের যে অধিকার, সে অধিকার আমাদের আদায় করে নিতে হবে। আজকে এখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন, আমরা সবাই ভুক্তভোগী। আমরা বর্তমানে যে বাস্তবতায় রয়েছি, জীবন কাটাচ্ছি, সে বাস্তবতা থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে। আমরা পিকনিক করবো, আমরা একত্রিত হবো, আমরা প্রীতি সম্মেলন করবো, আমরা গাইবো, আমরা নাচবো, আমরা হাসবো; কিন্তু আমাদের যেটা সবচেয়ে জরুরী দরকার, আমাদের অধিকারের জন্য, আমাদের জীবন ও সংস্কৃতি নতুনভাবে সাজিয়ে নেওয়ার জন্য, সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য যেটা সবচেয়ে বেশি দরকার সেটা হচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মধ্যে দিয়ে জুম্ম জনগণকে যে অধিকার দেওয়া হয়েছে, সেই অধিকার আমাদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়েছে, কারা ঘেরাও করে রেখেছে সেটা আমরা ভালো বুঝি, সেই ঘেরা থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে।”

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ছাড়াও উক্ত প্রীতি সম্মিলনীতে আরো বক্তব্য রাখেন ভারত প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা(বকুল), বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম(পার্বত্য অঞ্চল) এর সহ-সভাপতি ও বিশিষ্টজন বিজয় কেতন চাকমা,  ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য অঞ্চলের সভাপতি ও সাবেক সচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা প্রমুখ।

বিজ্ঞাপণ

 

Back to top button