জাতীয়

আদিবাসী নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ এবং ভূমি দখল রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাকর : ঢাকার সমাবেশে রোবায়েত ফেরদৌস

আদিবাসীদের ভূমি দখল ও নারীর ওপর অমানবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাকর ও পীড়াদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। আজ (১৮ জুন) ঢাকায় শাহবাগে বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

টাঙ্গাইলের সখিপুরে কোচ আদিবাসী নারীর উপর যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণ, খাগড়াছড়ির সিন্ধুকছড়িতে ত্রিপুরা আদিবাসীদের ভূমি বেদখল এবং মধুপুরে মান্দিদের ঐতিহ্যগত ভূমি ও প্রাচীন মাংরুদাম (শ্মশান) বেদখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেস্ট হাউজ নির্মাণের প্রতিবাদে বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ।

বিজ্ঞাপণ

বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ’র সঞ্চালনায় বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি অনন্ত বিকাশ ধামাই এর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। ঢাবির আরেক শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন কণা ছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সদস্য চঞ্চনা চাকমা, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক টনি ম্যাথিউ চিরান, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন এর যুগ্ম সম্পাদক বুশ নকরেক, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ঢাকা মহানগ শাখার সাধারণ সম্পাদক রেঙ ইয়ং ম্রো, বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক চন্দন কোচ প্রমূখ। এছাড়া সমাবেশে সংহতি জানিয়েছেন বাংলাদেশ বর্মন যুব পরিষদ, হাজং স্টুডেন্টস কাউন্সিল, ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম, গারো স্টুডেন্টস ফেডারেশন।

উক্ত সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস আরো বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন তখন উন্নয়নের নামে আদিবাসীদের ভূমি ও ভিটেমাটি এবং তাদের শ্মশান বেদখল করে নিয়ে যাচ্ছে একদল স্বার্থান্বেষী মহল। তিনি আরো বলেন, টাঙ্গাইলের সখিপুরে কোচ আদিবাসী নারীর ওপর অমানবিক যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের মত ঘটনা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাকর ও অত্যন্ত পীড়াদায়ক। বাংলাদেশ একটি বহু ভাষা, বহু জাতি ও বহু সংস্কৃতির দেশ। এই বহুত্ববাদই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সৌর্ন্দয বলে মনে করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের এই শিক্ষক। কিন্তু রাষ্ট্র এই বহুত্ববাদকে অস্বীকার করে আদিবাসীদের উপর ক্রমাগত দমন-পীড়ন, নির্যাতন নিপীড়ন করেই চলেছে। বরং রাষ্ট্রের দায়িত্ব দেশে বসবাস করা আদিবাসীদের সুরক্ষা করে এই সৌন্দর্য বজায় রাখা বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রতিবাদ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন বলেন, পাহাড় এবং সমতলে আদিবাসীদের উপর নিপীড়ন ও ভূমি বেদখল যেন রাষ্ট্রে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে ম্রো আদিবাসীদের ভূমিতে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ ও খাগড়াছড়ির সিন্ধুকছড়িতে ত্রিপুরা আদিবাসীদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র তারই অন্যতম স্বাক্ষ্য বহন করে।

বিজ্ঞাপণ

সম্প্রতি কোচ আদিবাসী নারীর ওপর যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ এবং মধুপুরের টেলকিতে বনবিভাগ কর্তৃক গারোদের শতাব্দী প্রাচীন শ্মশানে (মাংরুদাম) সীমানা প্রাচীর ও গেষ্ট হাউজ নির্মাণের প্রতিবাদ জানান এ শিক্ষক ।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য চঞ্চনা চাকমা বলেন, বাংলাদেশে আদিবাসী নারীর ওপর নির্যাতন, সহিংসতা ও ধর্ষণের মতো পাশবিক ঘটনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে কিন্তু এ ঘটনাগুলোর অধিকাংশই গণমাধ্যম ও জনসম্মুখে প্রকাশ পায়না। তাই এ ধরণের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য রাষ্ট্রের যথার্থ ভূমিকা রাখা দরকার বলে মনে করেন এই আদিবাসী নেত্রী।

উক্ত সমাবেশ থেকে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করা হয়:
১.টাঙ্গাইলের সখিপুর কোচ আদিবাসী নারীর উপর যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণকারীদের দ্রুত গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে;
২.পর্যটন কেন্দ্র ও উন্নয়নের নামে সিন্ধুকছড়িতে আদিবাসীদের ভূমি বেদখল ও উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে;
৩.মধুপুরে গারো আদিবাসীদের প্রাচীন মাংরুদাম (শ্মশান) এর উপর সীমানা প্রাচীর ও গেস্ট হাউস নির্মাণ বন্ধ করতে হবে;
৪.পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে;
৫.সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে;
৬.আদিবাসীদের নামে হয়রানিমূলক সকল মিথ্যা বন মামলা প্রত্যাহার করতে হবে;

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please Disable Your Ad Blocker.